
দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে নামাজ পড়িয়েছেন, দিয়েছেন ধর্মীয় শিক্ষা ও উপদেশ। সুখে-দুঃখে থেকেছেন এলাকাবাসীর পাশে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তার পেছনে দাঁড়িয়ে আদায় করেছেন নামাজ। সেই প্রিয় ইমামের বিদায়বেলায় আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মুসল্লি ও এলাকাবাসী। ফুলেল শুভেচ্ছা, সম্মাননা ও ভালোবাসায় সিক্ত করে তাকে বিদায় জানান তারা। এমনকি গাড়িবহর নিয়ে পৌঁছে দেন তার নিজ বাড়িতে।
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার উত্তর নয়াকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ৪৮ বছরের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. ফজলুর রহমানের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনায় সৃষ্টি হয় এমনই এক আবেগঘন পরিবেশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) উত্তর নয়াকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও মাদরাসা মাঠে মসজিদ কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
১৯৭৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল —দীর্ঘ এই ৪৮ বছরে মাওলানা মো. ফজলুর রহমান শুধু একজন ইমাম ও খতিব হিসেবেই দায়িত্ব পালন করেননি, বরং এলাকার মানুষের কাছে হয়ে উঠেছিলেন ধর্মীয় অভিভাবক ও আপনজন। তার পেছনে নামাজ আদায় করেছেন একাধিক প্রজন্মের মানুষ। কারও দাদা, কারও বাবা, আবার কারও নিজের শৈশব ও বেড়ে ওঠার স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই ইমামের নাম।
মুসল্লি ও এলাকাবাসীরা বলেন, মাওলানা মো. ফজলুর রহমান দীর্ঘ ৪৮ বছর নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে উত্তর নয়াকান্দি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। ধর্মীয় দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে গড়ে তুলেছেন গভীর সম্পর্ক। তার দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমত ও আন্তরিকতা এলাকাবাসীর কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বিদায়ি বক্তব্যে মাওলানা মো. ফজলুর রহমান আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, দীর্ঘ ৪৮ বছর তিনি এ মসজিদে ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তার কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে সবাই যেন তাকে ক্ষমা করে দেন। এ সময় তিনি উপস্থিত সবার কাছে নিজের সুস্থতা ও কল্যাণের জন্য দোয়া কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রিয় ইমামকে সম্মানের সঙ্গে তার নিজ বাড়ি উপজেলার সফিবাদ গ্রামে পৌঁছে দিতে গাড়িবহরের ব্যবস্থা করেন মুসল্লি ও এলাকাবাসী। অসুস্থতার কারণে দায়িত্ব থেকে অবসর নেওয়া এই ইমামের প্রতি তাদের এমন ভালোবাসা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়।
দীর্ঘ ৪৮ বছরের ইমামতির অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও মাওলানা ফজলুর রহমানের প্রতি মুসল্লি ও এলাকাবাসীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকবে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, একজন মানুষের প্রকৃত অর্জন মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া। প্রিয় ইমামের বিদায় সংবর্ধনা সেই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতারই অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
মহান আল্লাহ মাওলানা মো. ফজলুর রহমানের দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমত কবুল করুন, তার ভুলত্রুটি ক্ষমা করুন এবং তাকে সুস্থতা, নেক হায়াত ও শান্তিময় অবসরজীবন দান করুন—এমন প্রার্থনা করেন মুসল্লি ও এলাকাবাসী।
মসজিদের সভাপতি প্রফেসর মোহাম্মদ মিজান সরকারের সভাপতিত্বে ও মোহাম্মদ আবু সালেহ এর পরিচালনায় বক্তব্য দেন- মো. আক্তার খান, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. শাহাবুদ্দিন গাজী, মো. সাইফুল ইসলাম, হাজী মো. দুলাল মিয়া, মো. লোকমান হোসেন, আবদুল লতিফ গাজী, মো. শরীফ হোসেন চাঁদপুরী, মো. আনোয়ার হোসেন, মাওলানা মো. জহিরুল ইসলাম, খতিবের ছোট ছেলে মো. সাইফুল্লাহ ও মো. মহসিন মোল্লা প্রমুখ।
আরটিভি/এসএস


