ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর আর্থিক সহায়তা পেল সেই সোলায়মান

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ পিএম
ছবি : আরটিভি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের ছয় মাস বয়সী বাবাহারা শিশু সোলায়মানের হৃদ্‌পিণ্ডে দুটি ছিদ্র ধরা পড়ার পর তার চিকিৎসার জন্য মায়ের আকুতি নিয়ে আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের সহযোগিতায় তার চিকিৎসার জন্য ৬০ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে। ইতিমধ্যে চিকিৎসা শুরু হলেও এখনো আরও অর্থের প্রয়োজন।

অভাবের সংসারে ভিক্ষা করে সন্তানকে নিয়ে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া সোলায়মানের মায়ের মুখে ফিরেছে আশার হাসি। মানুষের সহায়তায় সন্তানের চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সোলায়মানের মা বলেন, মানুষ যেভাবে আমার ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি অনেক খুশি। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন। আমার ছেলেটার জন্য সবাই দোয়া করবেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সোহাগ হাওলাদার ও তাইজুল ইসলাম জানান, আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের মানুষ যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আরটিভিসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

তবে সোলায়মানের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য এখনো আরও অর্থের প্রয়োজন। পরিবারের আশা, মানবিক মানুষের সহযোগিতায় সুস্থ হয়ে উঠবে ছোট্ট সোলায়মান।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মাদক ও অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
নওগাঁর মান্দায় অভিযান চালিয়ে কিশোর গাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় অস্ত্র, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, চোলাই মদ ও মাদক বিক্রির নগদ ৭৩ হাজার ৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মাদক ও অস্ত্রসহ কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগ্‌বিতণ্ডা, বললেন ‘আওয়ামী লীগের চোর’
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার তুমুল বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সরাইল থানায় ওসির কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। রাতে বাগ্‌বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে থানায় যান। পরে তিনি ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি সরাইলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সম্পর্কে জানতে চান। একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে নিরাপত্তা না পাওয়া এবং ফোন না ধরার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তিনি ওসিকে ‘আওয়ামী লীগের চোর’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী নিয়ে থানায় যাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়াও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ বিষয়ে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সাংবাদিকদের বলেন, আইন অনুযায়ী স্থানীয় সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে তা দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী বিজয়নগর ও আশুগঞ্জ থানার পুলিশ তাকে নিরাপত্তা দিয়েছে। অথচ সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার ফোন ধরেন না। বরং তিনি বলেছেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের নিরাপত্তা মানুষই দেবে। এ কারণে তার সঙ্গে হাজারো মানুষ এসেছেন এবং তারাই নিরাপত্তা দিচ্ছেন। রুমিন ফারহানা আরও বলেন, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়া, মাটি কাটাসহ নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিপুলসংখ্যক লোকজন নিয়ে থানায় এসে হইচই করে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করেন। এ সময় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কথা উল্লেখ করে নানা অভিযোগ তোলেন। অথচ আগের তুলনায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা অনেকটাই কমেছে। তার সঙ্গে থাকা লোকজন যেসব অভিযোগ করেছেন, সেগুলো মিথ্যা। সংসদ সদস্য তাদের এসব অভিযোগ শিখিয়ে এনেছেন। ওসি আরও বলেন, সংসদ সদস্য তার নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলেছেন। মূলত, থানায় যে পরিমাণ পুলিশ সদস্য রয়েছেন, তা দিয়ে থানার কার্যক্রম পরিচালনা করতেই তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। শারদীয় দুর্গাপূজায় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওই সংসদ সদস্যের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে পুলিশের একটি দল রাখা তখন কঠিন ছিল। ওসি বলেন, সংসদ সদস্য গানম্যান চাইলে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আবেদন করতে পারেন। পুরো ঘটনাটি ভিডিও করে রাখা হয়েছে। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। আরটিভি/টিআর
থানার ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার বাগ্‌বিতণ্ডা, বললেন ‘আওয়ামী লীগের চোর’
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’
বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেছেন, পরিবারের সব সদস্যের যত্ন নিলেও নারীরা নিজেদের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হন না। লজ্জাবোধের কারণে অনেক নারী স্তনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন বা সমস্যা দেখা দিলেও চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। তাই পরিবারের প্রতিটি নারী সদস্যকে নিজের প্রতি যত্নবান হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত স্তন পরীক্ষা করা ও স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড়ে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন বলেন, এই গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা মূলত ঢাকা শহরকেন্দ্রিক ছিল। তবে স্তন ক্যানসার সম্পর্কে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে ২০২০ সালের পর থেকে ঢাকার বাইরেও এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। স্তন ক্যানসার সচেতনতার বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, বাঙালি নারীরা পরিবারের সবার প্রতি যত্নবান হলেও অনেক সময় নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে অবহেলা করেন। আবার লজ্জাবোধের কারণেও অনেকে স্তন ক্যানসারের লক্ষণ দেখা দিলে তা গোপন রাখেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে নারীদের নিজের শরীরের প্রতি সচেতন হতে হবে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। স্তন ক্যানসার বিষয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা থেকে বরিশাল অভিমুখে শুরু হয়েছে ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’। শুক্রবার সকালে শ্রীনগর উপজেলার ডাকবাংলা মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে উপজেলার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় স্থানীয় মানুষের মধ্যে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়। ওয়ার্ল্ড ক্যান্সার সোসাইটি বাংলাদেশসহ স্তন ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করা অর্ধশতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। গোলাপি রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বাসে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, বিশেষজ্ঞ সার্জন, ক্যানসারজয়ী ব্যক্তি, সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মীরা এ অভিযাত্রায় অংশ নিয়েছেন। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে শ্রীনগর, ভাঙ্গা, টেকেরহাট, রাজৈর, কালকিনি, টরকী বন্দর, গৌরনদী, বাটাজোর, শিকারপুর ও উজিরপুর হয়ে বরিশালে পৌঁছানোর কথা রয়েছে শোভাযাত্রাটির। নির্ধারিত বিভিন্ন স্থানে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম ও লিফলেট বিতরণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের বরিশালে রাত্রিযাপনের কথা রয়েছে। পরবর্তী ধাপে বরিশাল থেকে যাত্রা শুরু করে নলছিটি, ঝালকাঠি, দুর্গাসাগর, বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, রহমতপুর, মস্তফাপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও নড়িয়াসহ প্রায় ৪০টি ছোট-বড় জনপদে প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে। স্থানীয় অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও প্রচারপত্র বিতরণ শেষে শোভাযাত্রাটি ঢাকায় ফিরে আসবে। শোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ স্তন ক্যানসার সচেতনতা ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও ক্যানসার রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন। আরটিভি/টিআর
স্তন ক্যানসার সচেতনতায় ‘গোলাপি সড়ক শোভাযাত্রা’
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী এসআই মিজানুর
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হয়েছেন পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান (৩০)। তিনি মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ছিলেন। তার অকালমৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৩টার দিকে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া এলাকায় সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় রফিক মোল্লা (৪৫) নামে আরও একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন পুলিশের আরেক উপপরিদর্শক জাবেদ ওমর (২৮) এবং গাড়িচালক রাব্বি (২৮)। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তুমুলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে আহিদ মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে নিয়ে পুলিশের একটি দল থানায় ফিরছিল। পথে কালীগঞ্জ সরকারি শ্রমিক কলেজের সামনে পৌঁছালে অজ্ঞাতনামা একটি গাড়ি তাদের ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে চারজন আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক রফিক মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই জাবেদ ওমরকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়। এদিকে, মাভাবিপ্রবির বিএমবি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী এসআই মিজানুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান শিকদার। তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পর আমি খুবই মর্মাহত। তার এই অকালমৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থীর অকালপ্রয়াণে শোকাহত তার সহপাঠী, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা। আরটিভি/টিআর
গাজীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মাভাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী এসআই মিজানুর
পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের
স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের মানুষের। বছরের পর বছর আশ্বাস মিললেও বাস্তবে রাস্তার উন্নয়ন হয়নি। বর্ষায় কাদাপানি আর শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা। উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিতে বাড়তি শ্রমিক ও পরিবহন খরচ গুনতে হচ্ছে তাদের। সরেজমিনে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের বিস্তীর্ণ কৃষিজমির মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এ মাঠে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ বিভিন্ন ফসলের আবাদ হয়। প্রতিদিন কৃষিকাজ ও যাতায়াতের প্রয়োজনে এ রাস্তা ব্যবহার করেন কৃষক, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকে। তখন পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে কাদাপানি না থাকলেও গর্ত, উঁচু-নিচু মাটি ও খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন মানুষ। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নেওয়াই তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার ব্যয়ও বাড়ছে। সময়মতো ফসল পরিবহন করতে না পারায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় থাকেন। কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, মাঠে ফসল ফলাতে সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। ফসল ঘরে তোলার সময় এই রাস্তার কারণে নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তা ভালো না থাকায় ফসল পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা চাই, দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হোক। কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, বর্ষার সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। ফসল নিয়ে মাঠ থেকে বের হওয়া যায় না বললেই চলে। শুষ্ক মৌসুমেও গর্তের কারণে সমস্যা হয়। রাস্তা ভালো হলে কৃষিকাজের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং আমরা উৎপাদিত ফসল সহজে বাড়িতে নিতে পারব। কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুর্ভোগ সহ্য করছেন। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বছরের পর বছর রাস্তা পাকা করার কথা শুনছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। আমরা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চাই। স্থানীয় বাসিন্দা মহাব্বত আলী বলেন, এই রাস্তা দিয়ে আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় কাদা জমলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাতায়াত করতেও সমস্যা হয়। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। আমাদের এলাকার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করছেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৭০টি রাস্তা সংস্কার, নির্মাণ ও পাকাকরণ করেছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এত দিন রাস্তাটির আইডি না থাকায় পাকাকরণের কাজ করা সম্ভব হয়নি। আইডি পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন তিনি। এ ছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বরাবর রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আশা করছেন, দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের পর কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার যেসব রাস্তার এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করা হয়েছে। আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে রাস্তাটি পাকা হবে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন আড়ুয়াশালুয়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ ও কৃষকেরা। আরটিভি/টিআর
পাকা রাস্তার স্বপ্ন পূরণ হয়নি কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের
আরও পড়ুন
ইঁদুর মারার বৈদ্যুতিক ফাঁদে প্রাণ গেল কৃষকের
স্বামী বিদেশ, অন্যের হাত ধরে বেরিয়ে ‘বড় মাশুল’ দিলো জুঁই
লোকালয়ে বাঘের পায়ের ছাপ ঘিরে আতঙ্ক, সতর্ক করতে মাইকিং
চলতি বছর ৪৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার