
প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই তার আপন ছোট বোনকে বিয়ে করার ঘটনায় দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা টিকটকার ও আইনজীবী সহকারী মো. মাসুদ রানাকে ঘিরে বিতর্ক আরও চরমে পৌঁছেছে।
পেশাগতভাবে নওগাঁ জজ কোর্টের যে আইনজীবীর সেরেস্তায় তিনি কাজ করতেন, সেখান থেকে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি শ্বশুরবাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার পর স্থানীয় লোকজনের তোপের মুখে তার মুখে চুন-কালি মাখিয়ে এলাকা থেকে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাসুদ রানা তার প্রথম স্ত্রী মৌসুমীকে সঙ্গে নিয়ে নওগাঁর বদলগাছী সদর ইউনিয়নের বৈরাগীপাড়ায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত ২৪ অক্টোবর ওই বাসায় তার গায়েহলুদের অনুষ্ঠান হয় এবং এর পরদিন ২৫ অক্টোবর তিনি প্রথম স্ত্রীর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন।
নিজের এই অদ্ভুত বিয়ের পক্ষে সাফাই গেয়ে মাসুদ রানা দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী মৌসুমীর সম্মতি ও সহযোগিতাতেই তিনি এ বিয়ে করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পূর্ণিমার অন্যত্র বিয়ে হলে তাদের পূর্বে ধারণ করা কিছু টিকটক ভিডিও নিয়ে তাকে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হতো। সেই আশংকাজনক পরিস্থিতি এড়াতেই তিনি পূর্ণিমাকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন।
বিয়ের পর পরই মাসুদ রানা তার দুই স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। মুহূর্তেই সেগুলো ভাইরাল হয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র ঝড় ওঠে এবং সর্বমহলে শুরু হয় সমালোচনা। স্থানীয়দের অনেকেও এই বিয়ের তীব্র প্রতিবাদ জানান।
ভাড়া বাসায় আর থাকতে না দেওয়ার স্থানীয়দের হুমকির মুখে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাসুদ রানা তার দুই স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বদলগাছী ছেড়ে মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রামে নিজের শ্বশুরবাড়িতে চলে যান।
মাসুদ রানার এই বিতর্কিত বিয়ের জেরে নড়েচড়ে বসেছেন তার পেশাজীবী কর্তৃপক্ষ। নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী মো. শাহীন কাদির ডলার তাকে নিজের সেরেস্তার সব ধরনের কার্যক্রম থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অব্যাহতি দেন। ২৬ অক্টোবর এ বিষয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে মাসুদ রানাকে সেরেস্তার কাজে সম্পূর্ণ অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে মক্কেল এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, মামলার কাজ, আইনি কার্যক্রম কিংবা কোনো দাপ্তরিক বিষয়ে যেন কেউ মাসুদ রানার সঙ্গে যোগাযোগ না করেন। এছাড়া সেরেস্তার নাম ভাঙিয়ে তাঁর সঙ্গে সব ধরনের আর্থিক লেনদেন থেকেও বিরত থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এসএস


