
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের পল্লীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৩টি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
সোমবার (২ নভেম্বর) রাত সাড়ে আটটার দিকে উপজেলার সরমঙ্গল ইউনিয়নের জারলিয়া গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
আগুনে পুড়ে অন্তত অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। গ্রামের গৌরাঙ্গ দাসের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানা গেছে।
আগুনে জারলিয়া গ্রামের গৌরাঙ্গ দাস, প্রমোদ দাস, খুশিলাল দাস, মতিলাল দাস, অমৃত লাল দাস, দীনেশ চন্দ্র দাস, সুবল দাস, গৌরমোহন দাস, কালীচরণ দাস, সোমলাল দাস, হরিমোহন দাস, বারিন্দ্র দাস, রমাকান্ত দাসের বাড়ির সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
খবর পেয়ে পাশের চিতলা, সরমঙ্গল ও রাঙ্গামাটি গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কীভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে তা নিশ্চিত হতে পারেনি স্থানীয় লোকজন ও উপজেলা প্রশাসন।
এদিকে, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার সঞ্জিব সরকার। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
সঞ্জিব সরকার বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িগুলো পরিদর্শন করেছি। আগুন লাগার সঠিক কারণ জানা যায়নি। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে সরকারিভাবে পুনর্বাসন ও সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
জারলিয়া গ্রামের লোকজন জানান, রাতে হটাৎ করে গ্রামের গৌরাঙ্গ দাসের রান্নাঘরে আগুন দেখতে পাওয়া যায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় অনেকের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ও কৃষি কাজের জন্য মজুত রাখা কেরোসিন থাকায় আগুন দ্রুত জ্বলতে থাকে। গ্রামের লোকজন পাম্প বসিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু গ্যাস সিলিন্ডার ও কেরোসিন ড্রামের কারণে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছিল। আগুন লেলিহান শিখা দেখে পাশের চিতলা, সরমঙ্গল ও রাঙ্গামাটি গ্রামের লোকজন এগিয়ে আসেন ও গ্রামবাসীর সাথে মিলে আগুন নেভান।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রমোদ দাসের স্ত্রী মিনতি রানী দাস বলেন, হটাৎ করে দেখি ঘরে আগুন লেগে গেছে। দুটি গরু ও ছেলে মেয়েকে নিয়ে পড়নের কাপড় নিয়ে কোনরকমে ঘর থেকে বের হয়েছি। ধান চাল ঘরে থাকা নগদ টাকা, সব জনিসপত্র,স্বর্ণালংকার, সার - বীজধানসহ সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগামীকাল সকালে রান্না করার হাঁড়িপাতিল ও এক ছটাক খাবার নেই। চলব কীভাবে আমরা।
জারলিয়া গ্রামের বাসিন্দা রানু চন্দ্র দাস বলেন, হটাৎ দেখা যায় গৌরাঙ্গ দাসের রান্নাঘরে আগুন লেগেছে। কীভাবে আগুন লেগেছে তা জানা সম্ভব হয়নি। ঘনবসতি হওয়ায় ও অনেকের রান্নাঘরে গ্যাস সিলিন্ডার ও কেরোসিন মজুত থাকায় আগুন দ্রুত আশপাশের বাড়িঘরে ছড়িয়ে পড়ে। পাশের তিন গ্রামের লোকজনের সহযোগিতায় পাম্প বসিয়ে পানি দিয়ে আগুন নেভানো হয়েছে৷ তবে ১৩টি পরিবারের ধান চাল, টাকা পয়সা, জিনিসপত্র সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আরটিভি/জেএমএ


