ঢাকা রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩

৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সড়ক-রেল অবরোধ প্রত্যাহার

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ১২:৩১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সংসদীয় আসনের জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করার পর সড়ক ও রেলপথ অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সদর উপজেলার বিক্ষুব্ধ জনতা। অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রামকে পুনর্বহালের দাবি এবং সদর উপজেলা বিভক্তিকরণের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধ পালন করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।

অবরোধ প্রত্যাহার করে নিলেও আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে পুনরায় কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।

রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় বাসুদেব ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। অবরোধের কারণে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ে অন্তত ৭টি আন্তঃনগর ট্রেন; চরম ভোগান্তিতে পড়েন গুরুত্বপূর্ণ এই দুই রুটের যাত্রীরা।

পরবর্তীতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ এবং সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম খান রোমাসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা জেলা প্রশাসকের সাথে বৈঠক করে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে অবস্থান কর্মসূচি তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। এর ফলে প্রায় সাড়ে ৪ ঘণ্টা পর ওইসব পথে পুনরায় ট্রেন ও যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মে মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল এলাকা ভেঙে 'বরিশল' নামে নতুন একটি ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে আখাউড়া উপজেলার সাথে যুক্ত করা হয়। গত ৪ জুন এর গেজেট প্রকাশিত হলে বাসুদেব ইউনিয়নবাসী শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন।

তবে বিষয়টির সুরাহা না হয়ে উল্টো সম্প্রতি সদর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন (বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল) ভেঙে আখাউড়া উপজেলায় যুক্ত করা বরিশল ইউনিয়নের সাথে মিলিয়ে ‘বরিশল’ নামে একটি নতুন উপজেলা করার প্রস্তাব করা হয়।

বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, এ প্রস্তাবের নেপথ্যে কাজ করছেন জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়া। তার আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হলে পুরো এলাকায় চরম ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তারই ধারাবাহিকতায় রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে মাঠে নামেন তারা।

আরটিভি/এসএইচএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর গুজবে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে গ্রামের দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তির মৃত্যুর গুজবে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে ২৩ বাড়িতে ভাঙচুর-লুটপাট
৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবসে মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন
করব সমবায়, গড়ব দেশ—সবার জন্য বাংলাদেশ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভোলার মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ৫৫তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়েছে।
৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবসে মনপুরায় বর্ণাঢ্য আয়োজন
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৯
রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরের দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন। 
নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৯
হিমাগারে আলুর কেজি ১১ টাকা, তবুও নেই ক্রেতা
হিমাগারে পড়ে আছে হাজার হাজার টন আলু। অথচ ক্রেতা নেই। বাধ্য হয়ে প্রতি কেজি ১১ থেকে ১২ টাকায় আলু বিক্রি করছেন কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু হিমাগারে সংরক্ষণ করতেই কেজিপ্রতি খরচ হয়েছে ৯ টাকার বেশি।  উৎপাদন ও সংরক্ষণ মিলিয়ে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২০ টাকারও বেশি। ফলে কম দামে আলু বিক্রি করেও লোকসান কমাতে পারছেন না তারা। এ অবস্থায় কুড়িগ্রামের ছয়টি হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু অবিক্রীত পড়ে থাকার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।   কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে আলুর উৎপাদন বেশি হওয়ায় শুরু থেকেই বাজারে চাপ ছিল। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে খালি বস্তার সংকট ও বাড়তি দাম এবং হিমাগারের ভাড়া বৃদ্ধি। দাম বাড়বে—এমন আশায় অনেক কৃষক ও ব্যবসায়ী আলু বিক্রি না করে হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। কিন্তু বাজারে দাম বাড়ার পরিবর্তে ক্রমেই কমতে থাকে। এখন ঋণ, বস্তা ও হিমাগার ভাড়ার দায় মেটাতে গিয়ে অনেককে উল্টো নিজের পকেট থেকে টাকা দিতে হচ্ছে।   হিমাগারে আলু সংরক্ষণকারী কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, ভালো দামের আশায় আলু হিমাগারে রেখেছিলাম। এখন যে দাম, তাতে আলু বিক্রি করলে উৎপাদন খরচই উঠছে না। হিমাগার ভাড়া, বস্তা ও অন্যান্য খরচ যোগ করে আরও বড় লোকসান গুনতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা সেকেন্দার আলী বলেন, এ অঞ্চলে আলুর উৎপাদন বেশি। কিন্তু একসঙ্গে এত আলু বাজারে আসায় দাম পড়ে গেছে। এখন হিমাগার থেকে আলু বের করার জন্য কৃষকদের চাপ বাড়ছে, অথচ পাইকারের দেখা মিলছে কম। রোকন মিয়া বলেন, ১১-১২ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করে কৃষকের কোনো লাভ নেই। অনেকে ঋণ করে আলু উৎপাদন ও সংরক্ষণ করেছেন। দ্রুত দাম না বাড়লে তাঁদের লোকসানের বোঝা আরও বাড়বে। বাবর কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপক শরিফ আল মাসুদ জানান, চলতি বছর তাঁদের হিমাগারে ১১ হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ছয় হাজার মেট্রিক টন বিক্রি হয়েছে। এখনো পাঁচ হাজার মেট্রিক টন আলু অবিক্রীত রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক হাজার মেট্রিক টন বীজ আলু। বাকি আলু আগামী দুই মাসের মধ্যে বিক্রি করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া আলু চাষের জন্য অনুকূল হওয়ায় এখানে উৎপাদন বেশি হয়। উৎপাদন খরচও তুলনামূলক কম। এ কারণে কৃষকরা ব্যাপকভাবে আলু চাষ করেন। একই সময়ে বেশি আলু উৎপাদিত হওয়ায় তখন দাম কমে যায়।  তিনি বলেন, বর্তমানে হিমাগারে বিপুল পরিমাণ আলু সংরক্ষিত রয়েছে। সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাজারদর বাড়ানো সম্ভব হলে কৃষকদের ভোগান্তি কমবে এবং হিমাগারে থাকা আলু নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। আরটিভি/এসআর
হিমাগারে আলুর কেজি ১১ টাকা, তবুও নেই ক্রেতা
বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু
আরও পড়ুন
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাথায় কাফন বেঁধে স্থানীয়দের অবরোধ, ৭ আন্তঃনগর ট্রেন আটকা
মাথায় কাফন বেঁধে অবরোধ, ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ট্রেন চলাচল বন্ধ
সাজেকে অবরোধে বাতিল কঠিন চীবর দানোৎসব
ব্যাঙের ভ্রূণ পাচারের অভিযোগে হার্ভার্ড বিজ্ঞানীর মামলা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র