
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তানিয়া বেগম নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে আত্মহত্যার প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রোববার নিহতের বাবা মিলন মীর বাদী হয়ে আটজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও চারজনকে আসামি করে মামলাটি করেন।
এ ঘটনায় রোববার দুপুরে পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তানিয়া বেগম জিল্লুর রহমান মহিলা কলেজের দর্শন বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের মধ্যেরচর গ্রামের মীর বাড়ির মিলন মীরের মেয়ে। তানিয়া শহরের সাজেদা আলাল নামে একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চাকরি করতেন। এই সুবাদে হাসপাতালটির ফার্মেসিতে কর্মরত মিজানুর রহমান বাবু নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গেল বৃহস্পতিবার রাতে বাবুকে মোবাইল ফোনে বাড়িতে ডেকে এনে বিয়ের জন্য চাপ দেয় তানিয়া ও তার পরিবারের লোকজন। কিন্তু মিজান বিয়ে করতে অস্বীকার করে। পরের দিন শুক্রবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামের মুরুব্বি ও মিজানের পরিবারের লোকজন বিষয়টি সমাধানে আলোচনায় বসেন। একপর্যায়ে মিজানের অভিভাবকরা তাকে রেখে চলে যান। পরে খালি স্ট্যাম্পে মিজানের স্বাক্ষর রেখে তাকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। তানিয়ার প্রতিবেশিরা বিষয়টিকে সুযোগ হিসেবে নেয়। রাতে তারা তানিয়া ও তার পরিবারকে অশালীন ভাষায় গালমন্দ করে।
এমনকি তার ঘরে ইট-পাটকেল মারে। তাদের এই অপমান সইতে না পেরে শনিবার সকালে বসতঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে তানিয়া। খবর পেয়ে থানা পুলিশ নিহত তানিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে রোববার বিকেলে তাকে দাফন করা হয়। এ ঘটনার খবর পেয়ে ভৈরব-কুলিয়ারচর সার্কেল এএসপি মো. রেজয়ান দীপু ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, কলেজ শিক্ষার্থী তানিয়া আত্মহত্যার প্ররোচণার অভিযোগে পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। অন্যদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।
নিহত তানিয়ার প্রায় সাত বছর পূর্বে বিয়ে হয়েছিল। তার ঘরে সোহানা নামে পাঁচ বছর বয়সী একটি মেয়ে সন্তানও রয়েছে।
জেবি/পি




