
নিরাপত্তার চাঁদরে ঢেকে দেয়া হচ্ছে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দান। শোলাকিয়া ময়দান আর আশপাশের এলাকাজুড়ে গড়ে তোলা হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নিরবচ্ছিন্ন নজরদারির জন্য ড্রোন উড়বে শোলাকিয়ার আকাশে।
বিজিবি, র্যাব, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, আরআরএফসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানের নিরাপত্তায় থাকবে। ঈদগাহ ময়দানের বাইরে, ভেতরে ও প্রবেশ পথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। জামাতকে সামনে রেখে শহর এবং আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি।
ঈদগাহ ময়দান, আশপাশের এলাকা এবং অলিগলিসহ মাঠ সংলগ্ন চারপাশের এলাকা নিয়ে আসা হচ্ছে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় আওতায়। মাঠে স্থাপন করা হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। ঈদগাহ ময়দানের প্রবেশপথে স্থাপিত আর্চওয়ে দিয়ে মুসল্লিদের ঢুকতে হবে ঈদগাহ ময়দানে।
এর আগে আরও অন্তত কয়েক দফা মেটাল ডিটেক্টরে মুসল্লিদের দেহ তল্লাশি করা হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের কোনও ধরণের ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দেয়া হবে না। শুধু জায়নামাজ নিয়ে তারা আসতে পারবেন। তবে যদি বৃষ্টি হয়, তাহলে ছাতা নিয়ে আসতে পারবেন।
জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী আরটিভি অনলাইনকে জানান, শোলাকিয়ার ঐতিহ্যবাহী এই ঈদগাহে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এবারের ১৯২তম ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান। শোলাকিয়া ঈদগাহের নিয়মিত ইমাম ইসলাহুল মুসলিহীন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসউদ হজে যাওয়ায় বিকল্প ইমাম হিসেবে মাওলানা হিফজুর রহমান খান জামাতে ইমামতি করবেন।
পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ বিপিএম (বার) আরটিভি অনলাইনকে জানান, শান্তিপূর্ণভাবে ঈদজামাত অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে মাঠের বাইরে, মাঠের ভেতরে ও প্রবেশ পথে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। মাঠের ভেতর-বাহিরে সাদা পোশাকেও পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন। থাকবে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ান।
প্রসঙ্গত, ১৮২৮ সালে জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় ৭ একর জমির উপর এ মাঠের গোড়াপত্তন হয়। ওই বছর সৈয়দ আহমদ (র.) এর ইমামতিতে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সে ঈদের জামাতে মুসল্লির সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়া লাখ। আর সে কারণেই বর্তমানে এ মাঠের নামকরণ হয় ‘শোলাকিয়া’।
এসএস




