
র্যাব ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত হয়ে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আটক থাকা ১০৯ শিশুর মধ্যে ৪৩ জনকে স্ব স্ব পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অভিভাবকদের কাছে এ শিশুদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এর আগে গেল বুধবার সন্ধ্যায় এই ৪৩ জনসহ মোট ৫৯ শিশুর জামিনাদেশ পৌঁছায় উন্নয়ন কেন্দ্রে। টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক এহিয়াতুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, জামিনাদেশ পাওয়া যেসব শিশুদের অভিভাবকেরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন কেবল তাদেরই মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অভিভাবকদের যোগাযোগ সাপেক্ষে অন্যদেরও মুক্তি দেওয়া হবে।
র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডিত হয়ে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে মোট ১২১ জন শিশু আটক ছিল। হাইকোর্ট ১২ বছরের নিচে থাকা ১১ শিশুর মুক্তি ও ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সের মধ্যে থাকা ১০৯ শিশুকে ছয় মাসের জামিন আদেশ দেন। পরে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের নিয়োগ করা আইনজীবী এই ১০৯ শিশুর জন্য স্ব স্ব শিশু আদালতের সন্তুষ্টি নেন।
এ বিষয়ে টঙ্গীর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের প্রবেশন কর্মকর্তা কে এম ওবায়দুল্লাহ আল মাসুদ আরটিভি অনলাইনকে বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মোবাইল কোর্টের (ভ্রাম্যমাণ আদালত) মাধ্যমে আসা ১২ বছরের নিচে থাকা ১১ শিশুকে আমরা মুক্তি দিয়েছি।
বাকি ১০৯ জনকে (১২ থেকে ১৮ বছর) সংশ্লিষ্ট শিশু আদালতের সন্তুষ্টি সাপেক্ষে ছয় মাসের জামিন দেওয়া হয়েছিল। এসব শিশুদের জামিনের সুবিধার্থে হয়রানি কমাতে আমাদের পক্ষ থেকে একজন আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল। তিনিই কাগজপত্র ঠিকঠাক করে যোগাযোগ করলে শিশুদের জামিন দেন সংশ্লিষ্ট আদালত। এর মধ্যে ৫৯ জনের জামিনাদেশ আমরা হাতে পেয়েছি। বাকিদের জামিন আদেশও পাওয়া যাবে দুই এক দিনের ভেতর।
শিশু আইন অনুযায়ী, অন্য কোনও আইনে যা কিছুই থাকুক না কেন, অপরাধে জড়িত থাকা শিশুর বিচার শুধু শিশু আদলতেই হবে। কিন্তু তা না করে বিভিন্ন সময় শিশুদের দণ্ড দিয়ে আসছিলেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে এ বছরের তিন মে থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত ১২১ শিশুকে দণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই শিশুদের রাখা হয় টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে।
জেবি




