
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় ’৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে উত্তর জনপদের বৃহত্তম মুক্তিযোদ্ধা সংগঠন ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের’ সর্বাধিনায়ক মুক্তিযোদ্ধা ও সংগঠক মির্জা আব্দুল লতিফের নাম রয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জে ও তার জন্মস্থান উল্লাপাড়ায় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষ বিস্মিত ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন এই তালিকা প্রকৃতই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের তৈরি নাকি কোনও ষড়যন্ত্র।
মুক্তিযুদ্ধের সময় এ অঞ্চলে বেসামরিক বাহিনী হিসেবে পরিচিত ‘পলাশডাঙ্গা যুব শিবির’ ছিল পাকিস্তানী বাহিনী ও তাদের দোষর রাজাকার, আলবদরদের আতঙ্ক। মির্জা আব্দুল লতিফের নেতৃত্বে পলাশডাঙ্গা যুব শিবিরের মুক্তিযোদ্ধারা তাড়াশের নওগাঁয় পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ করে। ’৭১ এর ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ওই যুদ্ধে ১৫/১৬ জন পাক সেনা নিহত হয়। ক্যাপ্টেন সেলিম নামে একজন পাকসেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে মুক্তিযোদ্ধারা। এই শিবিরের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল প্রায় ৫’শ।
উল্লাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রাজাকারের তালিকায় মির্জা আব্দুল লতিফের নাম প্রকাশের প্রতিবাদের ১৮ ডিসেম্বর শহরে প্রতিবাদ মিছিল ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি দেয়া হয়েছে।
মির্জা আব্দুল লতিফ দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং প্যানেল স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া তিনি সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
রাজাকারের তালিকায় মির্জা আব্দুল লতিফের নাম থাকার বিষয়ে তার মেয়ে সেলিনা মির্জা মুক্তি বলেন, তিনি এবং তার পরিবার এই তালিকা দেখে বিস্মিত ও হতবাক। এটা গোটা জাতির জন্য অসম্মানজনক। এটা মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের ভুল নাকি কোন ষড়যন্ত্র তা খতিয়ে দেখা উচিত।
তিনি এই ঘটনার নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ভুল হলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। এসময় মুক্তি সিরাজগঞ্জের সকল মুক্তিযোদ্ধার কাছে তার বাবার এই অবমাননার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার অনুরোধ জানান। সেই সঙ্গে অবিলম্বে প্রকাশিত রাজাকার তালিকা সংশোধনের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে উল্লাপাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার খোরশেদ আলম ও অপর মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা জানান, রাজাকারের তালিকায় মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখা মির্জা আব্দুল লতিফের নাম থাকায় মুক্তিযোদ্ধারা বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ। তারা ইতোমধ্যেই এর প্রতিবাদে প্রতিবাদ মিছিল ও শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন।
সাবেক কমান্ডার খোরশেদ আলম বলেন, তাদের তৈরি করা তালিকার সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তালিকার কোনও মিল নেই। বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা উচিত।
সিরাজগঞ্জ জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার গাজী সফিকুল ইসলাম শফি বলেন, লতিফ মির্জার নেতৃত্বে পলাশ ডাঙ্গা যুব শিবির পরিচালিত হয়েছে। এই বাহিনীর সঙ্গে পাক হানাদারদের কয়েকটির সম্মুখ যুদ্ধ হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন লতিফ মির্জা। অথচ তার নাম রাজাকারের তালিকায় কিভাবে থাকে? এ ঘটনার মধ্য দিয়ে বুঝতে হবে তালিকা প্রকাশের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের মধ্যে স্বাধীনতা বিরোধীরা রয়েছে।
এসএস




