
বগুড়ায় নির্যাতন করে চুল কেটে দেয়ায় নূপুর (১৩) নামের এক শিশু বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নূপুর বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া দক্ষিণ পাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের মেয়ে। রোকসানা দম্পতি তাকে লালন-পালন করছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, নূপুর এতিম মেয়ে। প্রায় ৯ বছর যাবত রোকসানা রাজ্জাক দম্পতি মেয়েটিকে পালিত মেয়ে বলে পরিচয় দিলেও মূলত বাড়ির কাজের মেয়ে হিসেবে সব কাজ করাতেন। কিন্তু একটু ভুল হলেই করতেন নির্যাতন। উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান করতেন না। বাসার ছাদে অন্যদের সাথে কথা বললেও মারধর করতেন।
বাসার কাজে ভুল করায় নূপুরের পালিত মা রোববার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলেও তাকে বেদম মারধর করেন। বিষয়টি নূপুর ছাদে একই বিল্ডিং এ বসবাসকারী অন্যান্য মহিলাদের জানায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আবারও মারপিট করে তার চুল কেটে দেন অভিযুক্ত দম্পতি। এরই জের ধরে সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে নূপুর বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে নূপুর।
বিষয়টি বুঝতে পেরে আব্দুর রাজ্জাক তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। ঘটনাটি জানাজানি হলে আব্দুর রাজ্জাক হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। অবস্থা বেগতিক দেখে নূপুরের পালিত মা তিনিও বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।
বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল আজিজ মণ্ডল বলেন, সকালে নূপুর নামে একটি মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। বিষপান প্রসঙ্গে চিকিৎসকরা বিভিন্ন প্রশ্ন করলে মেয়েটির বাবা কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, মেয়েটি বেশ অসুস্থ। তার চিকিৎসা চলছে।
এদিকে বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম জানান, নির্যাতিত মেয়েটির স্থানীয় কোনও অভিভাবক না থাকায় বগুড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান আকন্দ এতিম মেয়েটির অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নেন। সেইসাথে তিনি নূপুরের উপর নির্যাতনের ঘটনায় নূপুরের অভিভাবক হিসেবে রোকসানা ও রাজ্জাক দম্পতির বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন। ওই দম্পতিকে গ্ৰেপ্তারের জন্য তৎপর রয়েছে পুলিশ।
এসএস




