
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার বড় রামদেবপুর গ্রামে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুকের জন্যে স্ত্রীর মাথার চুল কেটে গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরপর হাসপাতালে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তাকে তুলে নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ওই নারীকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসক জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর অবস্থা গুরুতর।
ভুক্তভোগী ও তার স্বজনরা জানান, উপজেলার বড় রামদেবপুর গ্রামের ইউসুফ আলীর মেয়ে নিলুফার ইয়াসমিন কলি ও বেগমগঞ্জ উপজেলার খানপুর গ্রামের আবদুল মতিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন উজ্জ্বলের ২০০৯ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের জন্যে কলির ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে আসছে স্বামী। চাপে পড়ে বাপের বাড়ি থেকে বিদেশ যাওয়ার জন্য কয়েকবার টাকা এনে দেন কলি।
গেল দুই মাস আগে সৌদিপ্রবাসী উজ্জ্বল দেশে ফেরার পর আবারও যৌতুকের জন্য কলির ওপর নির্যাতন শুরু করে। সর্বশেষ জেলা শহরের বসিরার দোকান এলাকার বাসায় যৌতুকের জন্য কলির মাথার চুল কেটে দিয়ে গরম খুন্তি দিয়ে সারা শরীর ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। এ সময় কলি চিৎকার করলে তাকে গলা কেটে হত্যার হুমকি দেয় উজ্জ্বল। একপর্যায়ে পালিয়ে বাপের বাড়িতে ওঠেন কলি। সেখান থেকে তাকে চিকিৎসার জন্য কবিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে সেখানে সন্ত্রাসী নিয়ে হামলা চালায় উজ্জ্বল।
সোমবার বিকেলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কলিকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার সময় আবারও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে উজ্জ্বল। পরে স্থানীয় লোকজনের তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে রাতে কলিকে দেখতে হাসপাতালে যান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। এ সময় তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দেন।
জেবি




