
টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সবজি ক্ষেতে ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগের অভিযোগে উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে ৪৫ শতাংশ জমিতে রোপণ করা পাঁচ হাজার ফুলকপি নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন কৃষক।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কালিহাতী উপজেলার দক্ষিণ চামুরিয়া গ্রামের আলীচান প্রামাণিকের ছেলে নুরুল ইসলাম প্রামাণিকের সঙ্গে চাচাত ভাই তোতা প্রামাণিকের ছেলে তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু প্রামাণিকদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জের ধরে নুরুল ইসলাম প্রামাণিকের রোপণ করা পাঁচ সহস্রাধিক ফুলকপির চারায় প্রতিপক্ষরা সম্প্রতি ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগ করে। বিষের প্রভাবে ৪৫ শতাংশ জমির প্রায় সবগুলো ফুলকপির চারা মরে গেছে। এতে নুরুল ইসলাম প্রামাণিক প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
তারা আরও বলেন, শীতকালীন সবজি ফুলকপি রোপণ করা জমিটি দীর্ঘদিন যাবত নুরুল ইসলামরা ভোগদখল করছে। এবারও ফুলকপি রোপণ করেছিল। সম্প্রতি রাতের আঁধারে কে বা কারা ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগ করায় চারাগুলো পঁচে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে নুরুল ইসলাম প্রামাণিক জানান, তার প্রতিপক্ষের তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু, জাহাঙ্গীর প্রামাণিক, আনোয়ার হোসেন, আবুল কালাম প্রামাণিকরা তার সবজি ক্ষেতে ক্ষতিকারক বিষ প্রয়োগ করেছে। তিনি বলেন, এর আগেও ২০১৬ সালের ২৯ এপ্রিল রাতে তার ওই একই ক্ষেতে রোপণ করা শসা প্রতিপক্ষের লোকজন কেটে-ছিঁড়ে বিনষ্ট করেছিল। এ বিষয়ে মামলা (কালিহাতী থানার মামলা নং-৩০, তাং-২৯/৪/২০১৬ইং) দায়ের করলে কালিহাতী থানা পুলিশ তদন্ত করে একই বছরের ২৪ মে প্রতিপক্ষের ৬ জনের নামে চার্জশীট দাখিল করে। মামলাটি বর্তমানে বিচারিক আদালতে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলের (৫ বছর) জনক, পক্ষান্তরে প্রতিপক্ষের ভাতিজারা সাত ভাই হওয়ার কারণে জবরদস্তি করে তার জমি ভোগ করতে চায়। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হয়েছে কিন্তু তারা জমির কোনও কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারেনি।
এদিকে প্রতিপক্ষের তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু প্রামাণিক জানান, ওই জমিটি তারা পৈত্রিক সূত্রে পেয়েছেন। এ বিষয়ে আদালতে একটি বাটোয়ারা মামলা চলছে। নুরুল ইসলামরা জোর করে ওই জমিতে ফুলকপি চাষ করছেন। তবে তারা কেউ ফুলকপির চারায় বিষ বা ক্ষতিকারক কিছু প্রয়োগ করেনি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইফসুফ আলী মল্লিক জানান, কয়েকদিন আগে ফুলকপির ক্ষেতে বালি জাতীয় কোনও এক পদার্থ ছিটানো থাকার খবর পেয়ে তিনি ওই ক্ষেত পরিদর্শন করেন এবং এরপরই চারাগুলো ধীরে ধীরে মরে যেতে থাকে। জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।
ইউনিয়ন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোসলেম উদ্দিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জীবাণুনাশক ‘ডাইথেন এম৪৫’ পানির সাথে মিশিয়ে ক্ষেতে প্রয়োগের পরামর্শ দেন।
সহদেবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান বালা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তিনি জানেন। এ নিয়ে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশ হলেও কোনও সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি আদালতে গড়িয়েছে। সবজি ক্ষেতে ক্ষতিকারক বিষ দেয়ার বিষয়টি তিনি লোকমুখে শুনেছেন।
এজে




