
ডাক্তারি পেশার কোনও ডিগ্রি না নিয়েই নিজেকে ‘বড় ডাক্তার’ পরিচয় দিয়ে রাজবাড়ীর মিলন শেখ গ্রাম্য অসহায় মানুষের অপচিকিৎসা করে মৃত্যুর মুখে ফেলছেন।
রাজবাড়ী সদর উপজেলার সুলতানপুর চৌরাস্তা মোড়ের আব্দুল্লাহ্ ফার্মেসির মালিক মিলন শেখ।
তিনি নিজেকে পল্লী চিকিৎসক দাবি করে নিজের ও দোকানের নামে ব্যবস্থাপত্র এবং সিল বানিয়ে প্রতিদিন শিশুসহ বহু রোগীর হাতে তুলে দিচ্ছেন উচ্চ ক্ষমতার অ্যান্টিবায়োটিকসহ নানা ধরনের ওষুধ।
এ বিষয়ে হাইকোর্ট ও ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নিষেধাজ্ঞার কোনও তোয়াক্কাই করছেন না মিলন শেখ।
বৃহস্পতিবার রাজবাড়ী সদরের সুলতানপুর ইউনিয়নের সুলতানপুর গ্রামের রাজিয়া বেগম (৪০) নামে ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, ১৫ দিন আগে ঘাস কাটতে গিয়ে কাঁচিতে আমার হাত কেটে যায়। এর ৩-৪ দিন পর আমি চৌরাস্তা মোড়ের আব্দুল্লাহ্ ফার্মেসির মালিক মিলনের কাছে চিকিৎসার জন্য যাই। এরপর মিলন অনেকগুলো ওষুধ দিয়ে বলেন, ওষধগুলো খেলে আমার মাথা ঘুরাসহ দুর্বল লাগতে পারে।এজন্য যেন আমি নিয়মিত ফলমূল ও দুধ-ডিম খাওয়া চালিয়ে যাই।
ওষুধগুলো দেখতে চাইলে রাজিয়া বেগম একটি ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ও ওষুধের খালি প্যাকেট বের করে দেখান। ব্যবস্থাপত্রে দেখা যায়, মিলন শেখ রাজিয়া বেগমকে ফ্লুক্সিক্যাপ নামের ৫০০ মিলিগ্রাম পাওয়ারের ক্যাপসুল দিয়েছেন দিনে চারটি করে। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি ওষুধও তাকে দেওয়া হয়েছে।
রাজিয়া বেগম আরও বলেন,আমি লেখাপড়া জানি না। কাটা নখ নিয়ে মিলনের দোকানে গিয়েছিলাম চিকিৎসা নিতে। মিলন আমার কাছ থেকে ৪০০ টাকা নিয়ে ওষুধগুলো দেয়। সবগুলো ওষুধ খাওয়ার পর এখন আমার কাটা নখ সারাতো দূরের কথা, ফুলে এখন ঢোল হয়ে গেছে। সবসময় ব্যথা করে ও পুঁজ বের হয়। বাধ্য হয়ে এখন ফরিদপুরে বড় ডাক্তারের কাছে যাব।
সুলতানপুর গ্রামের মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রামটি রাজবাড়ী জেলার একদম শেষ সীমানায় এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল। ওই গ্রামে আর কোন ওষুধের দোকান না থাকায় খেটে খাওয়া মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে মিলন শেখ নিজের বানানো প্রেসক্রিপশনে খেয়াল-খুশিমতো ওষুধ লিখে মানুষের কাছে বিক্রি করেন। জেলার শেষ সীমানা হওয়ায় প্রশাসনের কোনও নজরদারি না থাকায় বর্তমানে সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফার্মেসি মালিক মিলন শেখ বলেন, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি করা আমার ভুল হয়েছে। শুধু আমি একাই এমন কাজ করছি তাতো না। হাজার হাজার ফার্মেসি দোকানি এমন কাজ করে চলেছে। আমার আর এমন ভুল হবে না।
অবাধে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও এর ক্ষতিকর দিক নিয়ে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহনিমা নার্গিস বলেন, রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) ছাড়া কোনও ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রি ও বিতরণ করা অপরাধ। এছাড়া সঠিক রোগ নির্ণয় ছাড়া ডোজ মেইনটেইন না করে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে মানুষের শরীরে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়ে যায়। এর কারণে পরবর্তীতে রোগীর শরীরে যদি কোনও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় তখন ওই অ্যান্টিবায়োটিক আর তার শরীরে কাজ করে না এবং তার অসুখও ভালো হয় না। একটার পর একটা অ্যান্টিবায়োটিক চেঞ্জ করার পরও শরীর সুস্থ হয় না। এটা একজন রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত ঘটাতে পারে।
জেবি




