ঢাকা রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য, চিরকুটে শিক্ষককে দায় দিয়ে না ফেরার দেশে শিক্ষার্থী
এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য, চিরকুটে শিক্ষককে দায় দিয়ে না ফেরার দেশে শিক্ষার্থী
সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য হওয়ার পর হৃদয় সরদার (১৯) নামের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।  শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ সারসা গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত হৃদয় দক্ষিণ সারসা গ্রামের রইচউদ্দীন সরদারের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রত্যাশিত ফল না পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন হৃদয়। পরিবারের সদস্যদের অজান্তে আজ দুপুরের দিকে নিজ বাড়িতে গলায় ফাঁস দেন তিনি। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এদিকে মরদেহের পাশ থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে। সেখানে নিজের পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে হতাশা ও শিক্ষককে দায় এবং
কলারোয়ায় রাস্তা দখল করার ‘খেসারত’ দিলেন ৯ ব্যবসায়ী
কলারোয়ায় রাস্তা দখল করার ‘খেসারত’ দিলেন ৯ ব্যবসায়ী
সাতক্ষীরায় রাস্তা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, গাছ কাটার ও দখলের অভিযোগ
সাতক্ষীরায় রাস্তা নিয়ে বিরোধে সংঘর্ষ, গাছ কাটার ও দখলের অভিযোগ
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশে আরটিভির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ
সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের দুই পাশে আরটিভির উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ
সাতক্ষীরায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ
সাতক্ষীরায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণ
মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
মসজিদের জমি নিয়ে বিরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
সাতক্ষীরায় ৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ
সাতক্ষীরায় ৭ লাখ ৩৭ হাজার টাকার ভারতীয় মালামাল জব্দ
পানিতে ডুবে আছে ১২ হাজার হেক্টর আবাদি জমি, বিপাকে সাতক্ষীরার ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক
চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরায় জলাবদ্ধতার কারণে ১২ হাজার ৬৮৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা যায়নি। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় কৃষিজমি অনাবাদি পড়ে থাকছে। ব্যাহত হচ্ছে ফসল উৎপাদন। এতে বিপাকে পড়েছে ২৫ থেকে ৩০ হাজার কৃষক।  জলবায়ু পরিবর্তন, অতিবৃষ্টি, নদ-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া, পানি নিষ্কাশনে বাধা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামোর কারণে উপকূলীয় এলাকায় জলাবদ্ধতা বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে সাতক্ষীরার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জেলার তালা উপজেলার শাকদাহ বিলের বিস্তীর্ণ এলাকা দীর্ঘদিন ধরে পানিতে ডুবে রয়েছে।  স্থানীয় কৃষক সোহরাব হোসেন ও গোবিন্দ দাশ বলেন, গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে তারা সেখানে আমন ধান চাষ করতে পারছেন না। অথচ এক দশক আগেও তাদের জমিতে প্রচুর আমন ধান উৎপাদন হতো। বর্তমানে বছরে শুধু বোরো ধান চাষ করা গেলেও অন্য ফসল উৎপাদন করা যাচ্ছে না। পানিতে চারণভূমি ডুবে থাকায় গরু, ছাগল ও মহিষ পালনও কঠিন হয়ে পড়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৩ হাজার ৭৩০ হেক্টর, কলারোয়ায় ১ হাজার ৩৬০, তালায় ৭ হাজার ৬৫, আশাশুনিতে ৪৫০ এবং শ্যামনগরে ৮০ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে। কৃষক আন্দোলন কমিটির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক অধ্যক্ষ আশেক-এলাহী বলেন, অতিবৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় সারা বছরই জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। কৃষি, মৎস্য, গবাদিপশু পালন ও বসতবাড়িতে এর প্রভাব পড়ছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল পুনঃখনন এবং সরকারি খাল দখলমুক্ত করে কৃষকদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা জরুরি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক ইকবাল আহমেদ বলেন, পানি জমে থাকায় সময়মতো আমনের চারা রোপণ করা যাচ্ছে না। এতে ফসলের পাশাপাশি বীজ, সার, শ্রম ও জমি প্রস্তুতের খরচ নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়ছেন কৃষকেরা। তবে গত বছর কয়েকটি খাল পুনঃখননের ফলে চলতি মৌসুমে আমনের আবাদ প্রায় ৪৫০ হেক্টর বেড়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক সরদার শরিফুল বলেন, জলাবদ্ধতায় নিরাপদ পানি, পয়ঃনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা কঠিন হয়। দূষিত পানিতে চর্মরোগের ঝুঁকি বাড়ে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয় দেশীয় মাছ ও অন্যান্য প্রাণীর আবাসস্থল। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাতক্ষীরা কার্যালয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শিমুল মন্ডল বলেন, জলাবদ্ধতার কারণ নির্ধারণে এলাকাভিত্তিক পানিপ্রবাহ ও নিষ্কাশনব্যবস্থা নিয়ে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা প্রয়োজন। পাশাপাশি জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকার উপযোগী ফসলের জাত নির্বাচন, বিকল্প চাষাবাদ পদ্ধতি চালু এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তা বাড়াতে হবে। নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গবাদিপশু ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপরও জোর দেন তিনি। আরটিভি/এসআর
কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক, সম্পাদক ফারুকী
সাতক্ষীরার কলারোয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে সভাপতি পদে মো. মোস্তাক আহমেদ বিজয়ী হয়েছেন। সাধারণ সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মুহা. আসাদুজ্জামান ফারুকী। সহসভাপতি পদে সমান ভোট পাওয়ায় শামসুর রহমান লালটু ও এসএম জাকির হোসেন—দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ক্লাবের কার্যালয়ে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্লাবের সদস্যরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন তালা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বকর সিদ্দিক। নির্বাচন কমিশনের সদস্যসচিব ছিলেন সাতক্ষীরা জজকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহিল হাবিব। সভাপতি পদে মো. মোস্তাক আহমেদ ও এমএ আজিজ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে মোস্তাক আহমেদকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে মুহা. আসাদুজ্জামান ফারুকী একক প্রার্থী হওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সহসভাপতি পদে শামসুর রহমান লালটু ও এসএম জাকির হোসেন সমান ভোট পান। পরে নির্বাচন কমিশন উপস্থিত সবার সম্মতির ভিত্তিতে দুজনকেই বিজয়ী ঘোষণা করে। যুগ্ম সম্পাদক পদে মোজাফফর হোসেন পলাশ বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ফারুক হোসেন রাজ ও গোলাম রসূল। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ বিজয়ী হন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তাজ উদ্দীন আহমেদ রিপন। প্রচার ও সাহিত্য-সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মিল্টন কবীর বিজয়ী হয়েছেন। এ পদে তার প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রেজওয়ান উল্লাহ। এ ছাড়া কোষাধ্যক্ষ পদে মোস্তফা হোসেন বাবলু এবং দপ্তর সম্পাদক পদে মোর্তজা হাসান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন এসএম ফারুক, আসাদুজ্জামান আসাদ ও আহসানুল্লাহ। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়ায় ক্লাবের সাংগঠনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। নতুন নেতৃত্ব কলারোয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা, বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা এবং সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা ক্লাবের সদস্যদের। আরটিভি/টিআর
প্রতিমা বিসর্জনস্থলে সিঁদুর খেলার সময় নববধূর মৃত্যু
সাতক্ষীরার তালায় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে সিঁদুর খেলার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিতে গিয়ে তন্নি দে (২০) নামে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানার কুমিরা বাসস্ট্যান্ড-সংলগ্ন সার্বজনীন প্রতিমা বিসর্জনস্থলে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তন্নি দে কুমিরা গ্রামের মহাদেব দের মেয়ে। চার মাস আগে যশোরের কেশবপুর উপজেলার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর বাবার বাড়িতে এবারই প্রথম দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে এসেছিলেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় ননদের সঙ্গে প্রতিমা বিসর্জনস্থলে যান তন্নি। সেখানে সিঁদুর খেলা ও প্রতিমার কপালে সিঁদুর দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন তিনি। একপর্যায়ে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এ সময় উপস্থিত স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার মৃত্যু হয়। তন্নির আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় বিসর্জনস্থলের উৎসবমুখর পরিবেশ শোকে স্তব্ধ হয়ে যায়। মেয়েকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েন বাবা মহাদেব দেসহ পরিবারের সদস্যরা। তালা উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক নারায়ণ মজুমদার ও স্থানীয় সূত্রে তার মৃত্যুর খবর জানা গেছে। পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, নববধূর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তন্নি হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা সন্দেহ না থাকায় তাদের লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরটিভি/এসকে
আরও