ঢাকা শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

‘সাজা বাড়ায় ধর্ষণ হ্রাস পাবে’  

ফারুক আলম

প্রকাশ : ১৮ অক্টোবর ২০২০, ১১:৪০ পিএম
আইনে সাজা বাড়ালেও বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রিতায় অপরাধের প্রবণতা কমবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা

নোয়াখালী বেগমগঞ্জে নারীকে বিবস্ত্র ও সিলেট এমসি কলেজে স্বামীকে বেঁধে স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে আন্দোলনের মুখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধীন আনে সরকার। আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। তবে আইনে সাজা বাড়ালেও বিচার কাজে দীর্ঘসূত্রিতায় অপরাধের প্রবণতা কমবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এ সম্পর্কে আরটিভি নিউজকে বলেন, ধর্ষণ আইনে সাজা বাড়লে এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে। প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করবো, তিনি যেন নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারকদের জন্য একটা নিদের্শনা দেন (প্র্যাকটিস ডাইরেকশন) দেন। যাতে তাড়াতাড়ি মামলাগুলো শেষ হয়। একইসঙ্গে প্রসিকিউটরদের বলবো, ধর্ষণ মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের কি ধরনের বাধা ও কি অসুবিধা সেগুলো যেন চিহ্নিত করা হয়। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তারপর ব্যবস্থা নেবে। প্র্যাকটিস ডাইরেকশন ও প্রসিকিউটরদের কার্যক্রম পাশাপাশি বাস্তবায়ন করতে পারলে ধর্ষণের ব্যাপকতা নিশ্চয়ই হ্রাস পাবে এবং আইনের বাস্তবায়ন সঠিকভাবে হবে বলে বিশ্বাস করেন আইনমন্ত্রী।

দেশজুড়ে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ১ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫১টি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা ঝুলে আছে। এসব মামলার মধ্যে বেশিরভাগ ধর্ষণ মামলা। মামলার এই দীর্ঘসূত্রিতা সম্পর্কে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, এসব বিচার কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য বেশকিছু পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। আশা রাখি আগামীতে এসব মামলার দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি হবে।

ধর্ষণের সাজা মৃত্যুদণ্ড করে লাভ হবে কিনা এমন প্রশ্নে আইনমন্ত্রী বলেন, গবেষণায় পরীক্ষিত সত্য, যে অপরাধের সাজা কঠোর হলে সেই অপরাধ করার প্রবণতা কিছুটা হ্রাস পায়। এছাড়া আইনের বিধিমালা সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, বিধিমালা আমি দেখে নেই এরপর এ সম্পর্কে বলতে পারবো।

জানা গেছে, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সালে প্রণয়ন হলেও গত বিশ বছরে সেটির বিধিমালা প্রণয়ন হয়নি। নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ৯ এর ১ ধারায় ধর্ষণের সাজা সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ছিল। এখন সেটি পরিবর্তন এনে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। একইসঙ্গে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (গ), ২০ (৭) উপধারা সংশোধন আসছে। এবার আইন সংশোধনের পাশাপাশি বিধিমালাও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে আইন মন্ত্রণালয়।

আইনজীবীরা বলছেন, নারী ও শিশু নির্যাতনে আইনের সাজা বাড়লেও অপরাধ ও বিচার সম্পর্কে আইনে সম্পন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া থাকে না। আইনে যা নেই তা বিধিমালায় সংযুক্ত করতে হবে। প্রতিটি আইনের জন্য বিধিমালা প্রয়োজন। বিধিমালার অভাবে একেক বিচারক একেকভাবে বিচার করেন। এতে একজন ভুক্তভোগীর পাশাপাশি বিচারকদের বিড়ম্বণায় পড়তে হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৭ সালে ধর্ষণ হয়েছিল ৮১৮টি, ২০১৮ সালে ৭৩২টি, ২০১৯ সালে ধর্ষণের সংখ্যা বেড়ে হয় এক হাজার ৪১টি। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৯৭৫টি।

আসকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শীপা হাফিজা আরটিভি নিউজকে বলেন, আইন কার্যকর না হলে ধর্ষণের বিরুদ্ধে সাজা বাড়ালেও এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা কমবে তা নয়। কারণ নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন থাকা অবস্থায় দেশের দশ শতাংশ মানুষও বিচার পাচ্ছে না।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ উপ-পরিচালক নীনা গোস্বামী বলেন, আইনে ধর্ষণ মামলার বিচার ১৮০ দিনের মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা সম্ভব হয় না। কারণ একজন ধর্ষিতাকে মেডিকেল রিপোর্ট ও পুলিশি তদন্ত প্রমাণিত হতে হয় যে, তিনি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। এতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা দেখা দেয়।

এফএ/এমকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক হত্যকান্ডে জড়িত এক ছিনতাইকারীকে আটক করেছে পুলিশ।  বুধবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে শহরের চন্ডিবের খাঁ বাড়ি এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৮ঘন্টা পর পুলিশ ঘটনার মুলহোতা এবং শহরের চিহ্নিত ছিনতাইকারী ইমনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। ইমন পৌর শহরের ভৈরবপুর মধ্যপাড়ার আড়াই বেপারীর বাড়ির মৃত মাসুদ মিয়ার ছেলে।  আজ বৃহস্পতিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার ওসি মো. শাহিন।  জানা গেছে, শহরের দুর্জয় মোড়ের পূর্ব পাশে গত সোমবার রাত সাড়ে দশটার দিকে এহসানুল হক নামে এক কয়লা শ্রমিক ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। নিহত শ্রমিক সুনামগঞ্জের বিশম্ভপুর উপজেলার বাঘগাঁও গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে। বিয়ের মাত্র দুই মাস পর নিহত এহসানুল তার এক চাচাসহ তারা দু’জন গত দু’সপ্তাহ আগে ভৈরবে কাজের সন্ধানে এসে ছিলেন। পরে কয়েক দিন শ্রমিকের কাজ করে কিছু টাকা জমান। পরে জমানো টাকা নিয়ে গত সোমবার রাতে তারা দুর্জয় মোড় থেকে বাড়ী যাবার সময় বাসে উঠার আগে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে। একই সাথে ছিনতাইকারীদের ধারালো ছুরির আঘাতে এহসানুল গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।  এ ঘটনায় পরের দিন মঙ্গলবার দুপুরে উত্তেজিত শত শত কয়লা শ্রমিকরা হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। ফেরিঘাট থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুর্জয় মোড় প্রদক্ষিণ করে ভৈরব থানায় প্রবেশ করে। পরে পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করার আশ্বাস দিলে তারা ফিরে যায় এবং কাজে যোগ দেয়।  এছাড়াও এদিন (মঙ্গলবার) রাতেই নিহতের চাচা আজিজুল হক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা দু’জনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মুঠোফোনে ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ মাঠে নামে এবং প্রকৃত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। জিএ
ছুরিকাঘাতে কয়লা শ্রমিকের মৃত্যু, ছিনতাইকারী আটক
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
চট্টগ্রামের আকবরশাহ এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী নুরুর ১১ সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর ৫টার দিকে ঝিল এলাকার গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ইয়াবা, ছুরি, চাপাতি সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। গত শনিবার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ১৭ মামলার আসামি নুরুকে খুঁজতে গেলে পুলিশের উপর হামলা চালায় তার সহযোগীরা। এ সময় ৪ পুলিশ সদস্য আহত হয়। এসময় আটক করা হয় নুরুর সেকেন্ড ইন আজমকে।  আটককৃতদের মধ্যে হামলার ঘটনায় কয়েকজন জড়িত বলে জানিয়েছেন আকবরশাহ থানার ওসি জহির হোসেন।   পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় শনিবার রাতে আকবর শাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঝিল এলাকায় সরকারী পাহাড়া কেটে আলিশান বাড়ী, সেমিপাকা ঘর, মসজিদ, এতিমখানা ও গরু-ছাগলের খামার তৈরি ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ রয়েছে নুরুর বিরুদ্ধে। জিএ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১১ জন আটক
কবর থেকে পীরের লাশ তুলে পালালো শিষ্যরা
পীরের চলে যাওয়া সইতে না পেরে ব্যাকুল হয়ে যান চার শিষ্য। এক সময় তারা পরিকল্পনা করেন কবর থেকে পীরের লাশ তোলার। পরিকল্পনামাফিক প্রায় আট মাস আগে মারা যাওয়া পীর নূরুল ইসলামের লাশ কবর থেকে তুলে পালানোর সময় চার শিষ্য আটক হয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া ইউনিয়নের চারালদিয়া গ্রামে।  বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) ভোর রাত ৩টার দিকে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী সিএনজিচালিত অটোরিকশা সহ চার ভক্তকে আটক করেন। মৃত পীর নূরুল ইসলামের নিজ বাড়ি ও আস্তানার কবরস্থান থেকে লাশ তুলে পীরের ভক্ত হিসেবে পরিচিত পার্শ্ববর্তী পাকুন্দিয়া উপজেলার বুরুদিয়া ইউনিয়নের বেলদী গ্রামের বাসিন্দা মো. মুকসেদ মিয়াসহ ৪ সহযোগী সিএনজিচালিত অটোরিকশা যোগে পালিয়ে যাচ্ছিলেন। পলিথিন কাগজে মোড়ানো কিছু একটা দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়।  পরে তারা জানতে পারেন পলিথিন কাগজে মোড়ানো পীরের লাশ। এ সময় অটোরিকশাসহ তাদের আটক হয়।  এলাকাবাসীর জিজ্ঞাসাবাদে মো. মুকসেদ মিয়া ও তার সহযোগীরা জানান, তারা পীরের বড় ভক্ত।  চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার খবর পেয়ে ভোর থেকে ওই পীরের শিষ্যসহ শত-শত উৎসুক এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহযোগিতায় পুলিশের উপস্থিতিতে পীরের লাশ স্থানান্তর না পূর্বের কবরস্থানে তাকে আবারও দাফন করা হয়। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কটিয়াদী মডেল থানার ওসি এমএ জলিল জানান, কবরস্থান নিয়ে শিষ্য-মুরিদ, মেয়ে, জামাতা ও ছেলেদের পূর্ব বিরোধের সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটেছে। জিএ
কবর থেকে পীরের লাশ তুলে পালালো শিষ্যরা
২০২০ সালে ১৮৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
২০২০ সালে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি ও নির্যাতনে ৪৯ বাংলাদেশিসহ সারা দেশে ১৮৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে জানায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রে (আসক)। আজ বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) মানবাধিকার পরিস্থিতি-২০২০ নিয়ে আসক আয়োজিত ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন আসক সদস্য আবু আহমেদ ফজলুল কবির। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' ১৮৮ জন এর মধ্যে মাদকবিরোধী অভিযানে ১১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বছরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে নিহত হয়েছেন ১১ জন। গ্রেপ্তারের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নির্যাতনে মারা গেছেন ১৩ জন। অসুস্থতাসহ নানা কারণে দেশের কারাগারগুলোতে মারা গেছেন ৭৫ জন। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলি ও নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ৪৯ বাংলাদেশি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ২০২০ পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, মহামারির মধ্যে অর্থনীতি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক অধিকারের ক্ষেত্রে অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রয়েছে। তবে এর মাঝেও চিকিৎসা খাতে চরম অনিয়ম, ত্রুটিপূর্ণ করোনা পরীক্ষা, অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর চরম মূল্য ভুগিয়েছে মানুষকে। এফএ
২০২০ সালে ১৮৮ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড
স্বামী বিদেশ, দেবরের দিনের পর দিন ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ
টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রবাসী ভাইয়ের স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দেবরের বিরুদ্ধে। ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ এখন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ দুই সন্তান নিয়ে বর্তমানে বাড়িছাড়া। উপজেলার ওয়াশি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। গৃহবধূর অভিযোগ, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে বিদেশ থাকেন। গেলো ২৮ জুলাই নিজ ঘরে প্রথমবার দেবরের ধর্ষণের শিকার হন তিনি। এরপর ঘটনার ন্যায়বিচার চেয়ে তিনি টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে দেবরকে আসামি করে একটি মামলা করেন। ভিকটিম আজ গণমাধ্যমকে জানান, প্রায় ১১ বছর আগে ওই প্রবাসীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের সংসারে নয় বছরের একটি ছেলে ও সাত বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। ভাই বিদেশ থাকার সুযোগে ভাবিকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল দেবর সাইফুল। গেলো ২৮ জুলাই ভিকটিমের দুই সন্তান নানার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এই সুযোগে সাইফুল রাতে ভাবির ঘরে ঢুকে ধর্ষণ করে। পরে গৃহবধূ বিষয়টি তার শাশুড়িকে জানান। কিন্তু ছেলেকে রক্ষা করার জন্য কোনো বিচার না করে পুত্রবধূকে শিশুসন্তানসহ বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখান। সেইসঙ্গে বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন। এদিকে বিভিন্ন ভয় দেখিয়ে ভাবিকে প্রায়ই ধর্ষণ করতে থাকে সাইফুল। স্বামীর সংসার রক্ষা ও শিশুদের বাঁচাতে বিষয়টি গোপন রাখে। এরই মধ্যে গৃহবধূ সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে সালিশে কেশবপুর গ্রামের মাতবর চাঁন মিয়া, বরুটিয়া গ্রামের হায়দার, জাকির, শাহিনসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। গ্রাম্য সালিশে মাতবরদের মধ্যে দুইটি গ্রুপে বিভক্ত হওয়ায় বিষয়টি মীমাংসা হয়নি। নিরুপায় হয়ে গৃহবধূ আদালতে মামলা দায়ের করেন। আরও পড়ুন... মায়ের ভেজা কাপড় শুকাতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার প্রেমিকের টালবাহানায় দ্বিতিয়বারের মতো অনশনে বসলেন প্রেমিকা তিন সন্তানের মাকে পেতে আদালতে দুই স্বামী প্রেমের কথা জানাজানি হওয়ায় মৃত্যুকে বেছে নিলো তরুণী এ ব্যাপারে ভাবিকে ধর্ষণ মামলার আসামি বলেন, আমার বড়ভাই বিদেশ থাকেন। ভাবি কিভাবে অন্তঃত্ত্বা হয়েছে এটা আমি জানি না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। টাঙ্গাইলের ডিবির এসআই মো. আলমগীর হোসেন জানিয়েছেন, গৃহবধূর দায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি এখন পর্যন্ত হাতে পাওয়া যায়নি। জেবি
স্বামী বিদেশ, দেবরের দিনের পর দিন ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ
আরও পড়ুন
স্বামী বিদেশ, দেবরের দিনের পর দিন ধর্ষণে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ
চুমু দেয়ায় ছক্কুকে কঞ্চি দিয়ে আঘাত করাই ছিলো মাইশার অপরাধ
নববধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ শেষে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে এলো 
ভাইয়ের স্ত্রীর গোসলের ভিডিও ধারণ করে ধর্ষণ