
জঙ্গিবাদে জড়িত থাকায় কারাগার থেকে জামিনে বের হওয়া নব্য জেএমবির এক নেতাকে ঢাকার পুরানা পল্টনে পুলিশ চেকপোস্টে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় আবারও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) তাকে গ্রেপ্তার করে।
সিটিটিসির প্রধান মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলছেন, গত বছর জুলাই মাসে ‘দূর নিয়ন্ত্রিত’ যে বোমাটি পুলিশ চেকপোস্টে ফাটানো হয়েছিল, গ্রেপ্তার আবদুল্লাহ আল নোমান আবু বাছিরই সেটি তৈরি করেন।
আজ বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে সংবাদ সম্মেলনে করে এসব তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হয়। বলা হয়, ২২ বছর বয়সী বাছির ‘নব্য জেএমবির সামরিক শাখার নেতা’। তার বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে। গতকাল বুধবার (৩ নভেম্বর) রাতে ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘গত বছর ২৪ জুলাই রাতে পুরানা পল্টন মোড়ের পূর্বপাশে পুলিশ চেকপোস্টের সামনে ল্যাম্পপোস্টের নিচে একটি আইইডি বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর জানা যায় এই বাছিরই বোমাটি তৈরি করেন। পল্টন মোড়ের পুলিশ চেকপোস্টের আশেপাশে রেকি করে তিনিই বোমার বিস্ফোরণ ঘটান।’
সিটিটিসি প্রধান আরও বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাছির বলেছেন, তিনি নব্য জেএমবির বর্তমান সামরিক শাখার একজন সক্রিয় দায়িত্বশীল সদস্য। তিনি টেলিগ্রাম চ্যানেলের মাধ্যমে নব্য জেএমবির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংগঠনের সামরিক শাখার কাজ পরিচালনা করতেন।’
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ‘২০১৭ সালে ফেসবুকের মাধ্যমে নব্য জেএমবিতে যোগ দেন বাছির। নব্য জেএমবির আমির মাহাদী হাসান ওরফে জনের নির্দেশে তিনি সামরিক শাখায় কাজ করতেন। সংগঠনের শুরা সদস্য আবু মোহাম্মদের নির্দেশে তিনি ঢাকার মান্ডা এলাকায় ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন। আবু মোহাম্মদ তাকে আইইডি বানানোর ভিডিও টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে পাঠায়। আইইডি তৈরির ভিডিও দেখে সে এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করে এবং সরঞ্জাম সংগ্রহ করে আইইডি তৈরি করে।’
এক প্রশ্নের জবাবে সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘যারা জামিন পেয়ে বের হয়, সিটিটিসি তাদের নজরদারিতে রাখে। বাছির জামিন পেয়ে একটি এলাকায় চাকরি করতেন, কিন্তু সেখান থেকে আত্মগোপনে চলে যান।’
পল্টনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এর আগে ২০২০ সালের ১১ অগাস্ট সিলেটে নব্য জেএমবির পাঁচজনকে ও ১০ সেপ্টেম্বর রাতে উত্তরার আজমপুর থেকে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসাদুজ্জামান সবশেষে জানান, জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ততার অভিযোগে বাছিরকে এর আগে ২০১৮ সালে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কিন্তু ১ বছর ৩ মাস কারাগারে থাকার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও নব্য জেএমবিতে সক্রিয় হন তিনি।
কেএফ/টিআই




