ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

যুবককে পিটিয়ে হত্যার মামলা নিতে নারাজ দুই থানার পুলিশ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৪ পিএম
নিহত সুজন মিয়া। ফাইল ছবি

ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির অপবাদে পিটিয়ে হত্যার ১৩ দিন পরও মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলা করতে গিয়ে দুই থানার পুলিশের কাছে ঘুরেও সাড়া মিলছে না। ঘটনাটি নিয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর ও ময়মনসিংহের ভালুকা থানার পুলিশের মধ্যে মামলা গ্রহণের এখতিয়ার নিয়ে গড়িমসি চলছে।

নিহত সুজন মিয়া (৩৫) শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ভেলুয়া গ্রামের আমিনুল হক কালুর ছেলে। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি এলাকার আবদার পাড়ায় তাসলিমার বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

জানা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর ভালুকা উপজেলার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করা হয়। এতে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। মারধরকারীরা তাকে মৃত মনে করে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের শ্রীপুরের দিকে নিয়ে যান এবং জৈনা বাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ফুটওভার ব্রিজের নিচে একটি ময়লার স্তূপে ফেলে রেখে চলে যান।

পরে স্থানীয় লোকজন তাকে দেখতে পেয়ে মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজনকে উদ্ধার করে। তবে ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হলে ৮ সেপ্টেম্বর রাতে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মৃত্যুর আগে সুজন আশপাশের লোকজনকে জানিয়েছিলেন, ভালুকার জামিরদিয়া মাস্টারবাড়ি এলাকার কয়েকজন তাকে চোর সন্দেহে মারধর করেছেন। গুরুতর আহত হওয়ার পর তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে গাজীপুরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পথে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

নিহত সুজনের চাচা মানিক মিয়া বলেন, ৮ সেপ্টেম্বর রাতে মরদেহ বাড়িতে এনে দাফন করা হয়েছে। সুজনের দুই সন্তান নানার বাড়িতে থাকে এবং তার স্ত্রী জর্ডানে থাকেন। পারিবারিকভাবে আলোচনা করে মামলা করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এদিকে মামলা গ্রহণের বিষয়ে দুই থানার পুলিশের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা দিয়েছে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনূর আলম বলেন, ভালুকার মাস্টারবাড়ি এলাকায় একটি ইলেকট্রনিকস পণ্যের দোকানে চুরির সন্দেহে সুজনকে মারধর করা হয় বলে তারা জানতে পেরেছেন। পরে তাকে সিএনজিতে করে জৈনা বাজার এলাকায় ফেলে যাওয়া হয় এবং সেখানে তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, মারধরের ঘটনা ভালুকা থানা এলাকায় হওয়ায় মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ভালুকা থানায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভালুকা থানায় মামলা হওয়ার কথা। তাদের থানায় এ বিষয়ে করার কিছু নেই।

অন্যদিকে ভালুকা মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, সুজনকে ভালুকা থানা এলাকায় মারধর করা হলেও তার মৃত্যু হয়েছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। তাই তাদের থানায় মামলা নেওয়ার সুযোগ নেই। শ্রীপুর থানায় মামলা হওয়ার পর তদন্তের প্রয়োজনে তাদের কাছে এলে পুলিশ সহযোগিতা করবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামিন বলেন, মারধরের ঘটনা ভালুকায় হলেও সুজনের মৃত্যু হয়েছে শ্রীপুর থানা এলাকায়। আইনগত ব্যবস্থা শ্রীপুর থানা পুলিশই নেবে। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ভালুকা থানায় কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান তিনি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভাড়ায় ডাকাতি করতে বিমানে দেশে, কাজ শেষে ফেরেন ইউরোপে
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে একাধিক মাফিয়া ডাকাত চক্র। চক্রগুলো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে টার্গেট করা ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে গাড়ি থেকে নামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।
ভাড়ায় ডাকাতি করতে বিমানে দেশে, কাজ শেষে ফেরেন ইউরোপে
সতর্কীকরণ: প্রবাসীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া
সম্প্রতি, ‘রেমিটেন্স না পাঠালে দেশে আসার সুযোগ নেই প্রবাসীদের: প্রধানমন্ত্রী’ শিরোনামে আরটিভির একটি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে যা সম্পূর্ণ ভুয়া। 
সতর্কীকরণ: প্রবাসীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নামে ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া
সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে ‘পিচ্চি রাজা’ কাণ্ড
এ যেন কোনো সিনেমার দৃশ্য। প্রিজনভ্যান থেকে দুর্ধর্ষ এক আসামিকে নামিয়ে কিছুদূর হাঁটিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো ব্যস্ত সড়কে অপেক্ষমাণ একটি প্রাইভেটকারের কাছে। এরপর পুলিশের এক কর্মকর্তা নিজেই সেই আসামিকে তুলে দিলেন গাড়িতে। তবে এটি কোনো সিনেমার গল্প নয়—ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর বংশালে।
সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে ‘পিচ্চি রাজা’ কাণ্ড
আরটিভির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করেন চাকরিচ্যুত প্রতিনিধি বাবু
আরটিভির নাম, লোগো, আইডি কার্ড ও ব্যুম ব্যবহার করে নোয়াখালীতে অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও হুমকি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে চাকরিচ্যুত সাবেক জেলা প্রতিনিধি মনির হোসেন বাবুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বেগমগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে আরটিভি কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জনসাধারণকে সতর্ক করে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
আরটিভির নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি করেন চাকরিচ্যুত প্রতিনিধি বাবু
জনস্বার্থে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি
এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আরটিভির নোয়াখালী জেলার সাবেক প্রতিনিধি মনির হোসেন বাবু (পিতা- আব্দুর রব মিয়া, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর- ৭৫২০৭০৪৪৮৩২৫৭, ঠিকানা- সোহেল স্টোর, দক্ষিণ হাজীপুর, ব্যাংক রোড, চৌমুহনী, নোয়াখালী)-কে গত ৮ মার্চ ২০২৬ তারিখ থেকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
জনস্বার্থে সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি