ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

৯ মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বেড়েছে প্রবৃদ্ধি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৩, ১২:১২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩৫ দশমিক ৬১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২২ সালের একই সময়ে ৩২ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের তুলনায় ৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বর্তমানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় তৈরি পোশাক রপ্তানি গন্তব্য হওয়ায় এই সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) গত নয় মাসের তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের মধ্যে ইউরোপে বাংলাদেশের রপ্তানি ৬ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়ে ১৭ দশমিক ৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৬ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তথ্য বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রধান বাজার জার্মানিতে গত কয়েক মাস ধরে ক্রমাগত কমেছে। ২০২৩ সালের প্রথম নয় মাসে জার্মানিতে আমাদের রপ্তানি ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমেছে। অর্থাৎ ৫ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ৪ দশমিক ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ইইউ অঞ্চলের অন্যান্য যেসব বাজারগুলোতে রপ্তানি কমেছে তা হচ্ছে- লিথুয়ানিয়া, মাল্টা, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া এবং স্লোভেনিয়া।

তবে ফ্রান্স, স্পেন এবং ইতালিতে রপ্তানি যথাক্রমে ১৩ দশমিক ২২ শতাংশ, ২০ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং ২৭ দশমিক ০২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা যথাক্রমে ২ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, ২ দশমিক ৯১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে ডেনমার্কে রপ্তানি ১৫ দশমিক ২৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিক্রম করেছে।

একই সময়ের মধ্যে, লাটভিয়া, রোমানিয়া, ফিনল্যান্ড এবং ক্রোয়েশিয়ার মতো দেশগুলো শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

বাংলাদেশের প্রধান বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ৭ দশমিক ১৮ শতাংশ এবং ২০২২ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে ৬ দশমিক৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২০২৩ সালের একই সময়ে ৬ দশমিক ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে, গত নয় মাসে যুক্তরাজ্যে ১৪ দশমিক ৯২ শতাংশ ও কানাডায় ৬ দশমিক ২৭ শতাংশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এই সময়ে যুক্তরাজ্য ও কানাডায় পোশাক রফতানি যথাক্রমে ৪ দশমিক ০৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ১ দশমিক ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে।

গতানুগতিক বাজারের পাশাপাশি অপ্রচলিত বাজারেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরে ৫ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার থেকে ২৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

প্রধান অপ্রচলিত বাজারগুলোর মধ্যে জাপানে তৈরি পোশাক রপ্তানি ১ দশমিক ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা বছরে ৪৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ায় ৫৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ, ভারতে ১৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশ, চীন এবং তুরস্কের মতো অন্যান্য অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি যথাক্রমে, ৪৬ দশমিক ৩২ শতাংশ ,৩৫ দশমিক ১১ শতাংশ এবং ২৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ বেড়েছে।

একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার, যা মোট রফতানির ১৭ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ইইউ তৈরি পোশাক রফতানির প্রায় ৪৯ দশমিক ২২ শতাংশ ধরে রেখেছে। যুক্তরাজ্য এবং কানাডার ক্ষেত্রে মোট পোশাক রপ্তানির ১১ দশমিক ৪৫ শতাংশ এবং ৩ দশমিক ১৬ শতাংশে এ পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৩ সালের প্রথম নয় মাসে অপ্রচলিত বাজারের অংশ মোট রপ্তানির ১৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছিল। অপ্রচলিত বাজারের অংশ বৃদ্ধি অবশ্যই পোশাক শিল্পের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির স্বপ্ন দেখে আগামী দিনগুলোতেও বাজারের বৈচিত্র্য অব্যাহত রাখতে হবে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন বছরের প্রথম মাস জানুয়ারিতে ঋণের সুদহার হবে ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তবে ভোক্তা ঋণের সুদহার পড়বে প্রায় ১৩ শতাংশ।  যে পদ্ধতির ওপর ভিত্তি করে এখন ঋণের সুদহার নির্ধারিত হচ্ছে, তা হলো ‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’‘এসএমএআরটি’ বা ‘স্মার্ট’ তথা– সিক্স মান্থ মুভিং এভারেজ রেট অব ট্রেজারি বিল হিসেবে পরিচিত। প্রতি মাসের শুরুতে এই হার জানিয়ে দিচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক।  চলতি বছরের জুলাইয়ে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ছয় মাসের গড় সুদহার (স্মার্ট রেট) ছিল ৭ দশমিক ১০ শতাংশ, আগস্টে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয় ৭ দশমিক ২০ শতাংশ, অক্টোবরে ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ, নভেম্বরে ৭ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং সবশেষ ডিসেম্বরে স্মার্ট রেট বেড়ে দাঁড়ায় ৮ দশমিক ১৪ শতাংশে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে এখন সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে জানুয়ারি মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। অন্যদিকে ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন যোগ করতে পারে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অবশ্য একবার সুদহার কার্যকর করা হলে পরবর্তী ছয় মাসে তা আর পরিবর্তন করা যায় না। ডিসেম্বর মাসের ‘স্মার্ট’ হারের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে জানুয়ারি মাসে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংক। সেই হিসাবে, নতুন ২০২৪ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে বড় অঙ্কের ঋণে সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ নিতে পারবে। প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের সুদহার হবে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ। তবে জানুয়ারিতে ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে ব্যাংক নিতে পারবে ১২ দশমিক ৮৯ শতাংশ সুদ। কারণ সিএমএসএমই, ব্যক্তিগত ও গাড়ি কেনার ঋণে অতিরিক্ত ১ শতাংশ তদারকি বা সুপারভিশন চার্জ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যা ডিসেম্বরে ছিল ১২ দশমিক ৪৭ শতাংশ।  এ ছাড়া ডিসেম্বরে বড় অঙ্কের ঋণে সুদহার ছিল ১১ দশমিক ৪৭ শতাংশ, প্রি-শিপমেন্ট রপ্তানি ঋণের ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং কৃষি ও পল্লী ঋণের ক্ষেত্রে ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ব্যাংকের ক্ষেত্রে শুধু ঋণে সর্বোচ্চ সীমা থাকলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আমানত সংগ্রহেও সুদহারের একটা সর্বোচ্চ সীমা দেওয়া আছে। এসব প্রতিষ্ঠান স্মার্টের সঙ্গে সর্বোচ্চ ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদ যোগ করে আমানত সংগ্রহ করতে পারবে। ‘স্মার্ট’ রেটের সঙ্গে সর্বোচ্চ ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে মার্জিন বা সুদ যোগ করে ঋণের বিপরীতে সুদ নিতে পারবে ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান এনবিএফআই। সেই হিসাবে ডিসেম্বর মাসে তাদের সর্বোচ্চ ঋণের সুদহার হবে ১৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং আমানতে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ। তবে জানুয়ারিতে ঠিক করা ঋণের এই সুদহার পরবর্তী ছয় মাসের মধ্যে পরিবর্তন করা যাবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ১৮২ দিন মেয়াদি ট্রেজারি বিলের ৬ মাসের গড় সুদহার প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে স্মার্ট ছিল ৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এরপর প্রতি মাসে একটু করে বেড়ে গত মে মাসে দাঁড়ায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ। জুন ও জুলাইয়ে সামান্য কমে ৭ দশমিক ১০ শতাংশে নামে। এরপর আগস্ট থেকে ধারাবাহিক সুদহার বাড়ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পরামর্শে ৯০ দশক থেকে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে বাজারভিত্তিক সুদহার ব্যবস্থা চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিতে ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ৯ শতাংশ সুদহারের সীমা আরোপ করা হয়। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ডলারের বাজার স্থিতিশীল করতে বিভিন্ন পর্যায় থেকে সীমা তুলে নেওয়ার জন্য বলা হয়।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনেও সুদহারের সীমা প্রত্যাহার অথবা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। কিন্তু সরকারের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় নীরব ছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। আইএমএফের ৪৭০ কোটি ডলার ঋণের অন্যতম শর্ত হলো, সুদহার বাজারভিত্তিক করা। সেই শর্তের আলোকে নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির জন্য এত দিন মূলত ডলারের মূল্যবৃদ্ধিকে দায়ী করে আসছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি কমানোর চেষ্টা করছে তারা। সুদের হার বাড়লে মানুষ সাধারণত ব্যাংকে আমানত রাখতে উৎসাহিত হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, গত জুন ও জুলাই মাসে দেশে মূল্যস্ফীতি সামান্য কমার পর আগস্ট, সেপ্টেম্বরে মাসেও তা আবার বেড়েছে। সবশেষ গত অক্টোবর মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হয়েছে ১২ দশমিক ৫৬ শতাংশ, যা গত ১১ বছর ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।  বিবিএসের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সার্বিক মূল্যস্ফীতিও কিছুটা বেড়ে ৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ হয়েছে।
নতুন বছরে ব্যাংক ঋণের সুদহার নির্ধারণ করল বাংলাদেশ ব্যাংক
ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ আজ
ব্যাংক হলিডে উপলক্ষে আজ (রোববার) ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। যার কারণে শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। নীতি অনুযায়ী, ব্যাংক হলিডেতে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংক গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন না। ৩১ ডিসেম্বর ও ১ জুলাই ব্যাংক হলিডে হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। সংশ্লিষ্টরা জানায়, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। এদিন বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। যার কারণে এ দিনটিকে ‘ব্যাংক হলিডে’ হিসেবে ধরা হয়। ওইদিন ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না। এদিকে, শেয়ারবাজারের শেয়ারের অর্থ ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ায় ব্যাংক বন্ধ থাকলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) কোনো প্রকার লেনদেন হয় না।
ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ আজ
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্য দিনকে দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। ব্যবসায়িক লেনদেন ঠিক রাখার জন্য তাই মুদ্রা বিনিময়ের পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসরত প্রবাসীরা নিয়মিত পাঠাচ্ছেন বৈদেশিক মুদ্রা। লেনদেনের সুবিধার্থে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার সঙ্গে বাংলাদেশি টাকার ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ বিনিময় হার তুলে ধরা হলো- বৈদেশিক মুদ্রার নাম   বাংলাদেশি টাকা   ইউ এস ডলার   ১২০ টাকা ৩০ পয়সা   ইউরোপীয় ইউরো   ১৩৪ টাকা    ব্রিটেনের পাউন্ড   ১৫৪ টাকা ১০ পয়সা   ভারতীয় রুপি   ১ টাকা ২৯ পয়সা   মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত   ২৬ টাকা ০৫ পয়সা   সিঙ্গাপুরের ডলার   ৯০ টাকা ০৭ পয়সা   সৌদি রিয়াল   ২৯ টাকা ২৭ পয়সা   কানাডিয়ান ডলার   ৯০ টাকা   অস্ট্রেলিয়ান ডলার   ৮২ টাকা    কুয়েতি দিনার   ৩৯৮ টাকা ৪১ পয়সা    ** যেকোনো সময় মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তন হতে পারে
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
যে কারণে রোববার বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংকের লেনদেন
আগামীকাল রোববার ‘ব্যাংক হলিডে’ হওয়ায় ব্যাংকে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ থাকবে। শেয়ারবাজারের লেনদেনও হবে না। তবে নিজেদের আর্থিক হিসাব মেলাতে ব্যাংকসহ সব ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও গুরুত্বপূর্ণ শাখা খোলা থাকবে। নীতি অনুযায়ী, ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংকগুলো পঞ্জিকা বছরের আর্থিক হিসাব শেষ করে। ‘ব্যাংক হলিডে’তে বাংলাদেশ ব্যাংক বা অন্যান্য ব্যাংকে গ্রাহকদের সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না। এ দিন ব্যাংকগুলো বিভিন্ন শাখা থেকে পাঠানো হিসাব একত্রিত করে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। ব্যাংক খোলা থাকলেও কোনো ধরনের লেনদেন হয় না।  আর্থিক প্রতিবেদন চূড়ান্ত করার জন্য বার্ষিক হিসাব-নিকাশ শেষ করতে প্রতি বছর দুই দিন ‘ব্যাংক হলিডে’ থাকে। অর্থবছরের প্রথম দিন ১ জুলাই এবং পঞ্জিকা বছরের শেষ দিন ৩১ ডিসেম্বর তফসিলি ব্যাংকের সব ধরনের লেনদেন বন্ধ রাখা হয়, শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রম চলে।   
যে কারণে রোববার বন্ধ থাকবে দেশের সব ব্যাংকের লেনদেন
বছরজুড়ে অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক
অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক অর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিচ্ছে আলোচিত বছর ২০২৩। বছরজুড়ে ভুগিয়েছে ডলার সংকট, পিছিয়ে পড়েছে আমদানি-রপ্তানি। বাজারে চলছে চরম মূল্যস্ফীতি। রেকর্ড গড়েছে খেলাপি ঋণ। ঋণ সহায়তা এগিয়ে এসেছে আইএমএফ। এ বছরই চালু হয়েছে মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল। ডলার সংকট করোনা পরবর্তী ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ভুগিয়েছে ২০২৩ কেও। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যস্ফীতি কারণে দেশে ডলারের দাম বছর শেষে এখন সর্বোচ্চ উচ্চতার রেকর্ড করেছে। চাপ সামলাতে বাজারে ডলার ছাড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, সৃষ্টি হয় তীব্র সংকট। ৮৫ টাকা ডলারের দাম উঠে ১২৮ টাকা পর্যন্ত। এদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ খালি হয়েছে প্রায় অর্ধেক।  চরম মূল্যস্ফীতি ডলার সংকটে আমদানিতে ঋণপত্র খুলতে বাধার মুখে পড়েন ব্যবসায়ীরা। শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আনতে পারছেন না অনেক ব্যবসায়ী। এমন বাস্তবতায় বাজারে হু হু করে বাড়তে থাকে নিত্যপণ্যের দাম। আর তার সুযোগ নিয়েছেন অসাধু ব্যবসায়ীরাও। সিন্ডিকেট করে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন আরও দ্বিগুণ। সরকারি হিসাবে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ। শীত মওসুমে যেখানে ২০ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হয় সবজি। এবার তার দাম প্রায় শত টাকা ছুঁই ছুঁই। শীতে আলু, পেয়াজ, ডিম ও মাংসের বাজার বেশ গরম। খেলাপি ঋণে রেকর্ড সীমাহীন অনিয়ম আর দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ছিল ব্যাংক খাত। পরিচালনা পর্ষদের খামখেয়ালিপনায় বড় বেকায়দায় বেশ কয়েকটি ইসলামি ব্যাংক। খেয়ে ফেলা হয়েছে মূলধন। দেড় লাখ কোটি টাকার উপরে ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ। বছর শেষে সিকদার পরিবারের আধিপত্য খর্ব করে ভেঙে ফেলা হয়েছে ন্যাশনাল ব্যাংকের পর্ষদ। আইএমএফ’র সাপোর্ট বেশি কিছু শর্তে অর্থনীতিকে কিছুটা সাপোর্ট দিতে এগিয়ে আসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল- আইএমএফ। ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির পাশাপাশি চলতি বছরে দুটি কিস্তি ছাড় করে সংস্থাটি। ভ্যাট-ট্যাক্স আদায়ে চমক না থাকায় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি রাজস্ব আদায়ে। অর্থবছরের পাঁচ মাসে আহরণ হয়েছে মাত্র ৩১ শতাংশ।  পেনশন স্কিম ২০২৩ সালে বড় চমক বেসরকারি খাতের আর্থিক নিরাপত্তায় বহুল প্রতীক্ষিত সার্বজনীন পেনশন স্কিম। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কিমটির উদ্বোধন করেন। তবে টাকার মান কমে যাওয়া ও স্কিমটি চেয়ে ব্যাংকের সুদের হার বেশি থাকায়, এতে তেমন সাড়া দেয়নি দেশের মানুষ। তিন মাসে স্কিমে যুক্ত মাত্র ১৭ হাজার মানুষ। উন্নয়নের মাইলফলক বছরজুড়ে ছুঁয়েছে উন্নয়নের অনন্য মাইলফলক। এ বছরই চালু হয়েছে রাজধানী ঢাকায় যানজট নিরসনে মেট্রোরেল, উদ্বোধন শেষে কর্ণফুলী টানেলের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে গাড়ি, অনন্য কারুকার্যে নির্মিত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল খুলে দেয়া হয়েছে আকাশ পথে যাত্রী চলাচলের জন্যে। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ গবেষক তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, ২০২৩ এ অর্থনীতিক সংস্কার করার প্রাতিষ্ঠানিক গুণগত মান বৃদ্ধি করার যে ব্যাপক চাহিদা সেটা খুব স্পষ্ট হয়ে বের হয়ে আসছে। তাই সেটাকে আর বিলম্ব না করে দ্রুত আগামী বছরের শুরুতে যথাসম্ভব দ্রুত গতিতে বাস্তবায়ন করতে হবে।
বছরজুড়ে অর্থনীতির নানামুখী চ্যালেঞ্জ আর উন্নয়নের মাইলফলক
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩১ ডিসেম্বর)
বাংলাদেশি টাকায় আজকের মুদ্রা বিনিময় হার (৩০ ডিসেম্বর)
ফেসবুক লাইভে ইভ্যালির রাসেলের নির্বাচনী আমেজ
১১ মাসে ৪২.৮৩ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি