
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় বেশ পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি পণ্যের বড় বাজার ইইউ দেশগুলো। দেশ থেকে যে পরিমাণ পোশাক রপ্তানি হয় তার বড় অংশই যায় ইইউ অঞ্চলে। অথচ, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে পোশাক রপ্তানি ১৩ শতাংশ বাড়লেও প্রতিযোগী দেশ কম্বোডিয়া থেকে বেড়েছে সাড়ে ২২ শতাংশ।
শুধু তাই নয়, এ তালিকায় ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের চেয়েও বাংলাদেশ পিছিয়ে রয়েছে বলে ইইউর পরিসংখ্যান অফিস ইউরোস্ট্যাটের তথ্য বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি করেছে ১ হাজার ৫২৫ কোটি ৫২ লাখ ইউরো। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৩৪৭ কোটি ৯৫ লাখ ইউরো। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ১৭ শতাংশ। তবে, বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক হলেও একই সময়ে প্রতিযোগী দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি হয়েছে আরও বেশি।
এদিকে, পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের অন্যতম প্রতিযোগী দেশ কম্বোডিয়া। চলতি বছরের একইসময়ে দেশটি থেকে ইইউভুক্ত দেশগুলো পোশাক আমদানি করেছে ৩৩৬ কোটি ৮৩ লাখ ইউরোর। গত বছরের একই সময়ে এ আমদানির পরিমাণ ছিল ২৭৪ কোটি ৯৪ লাখ ইউরো। এক বছরের ব্যবধানে যা বেড়েছে ২২ দশমিক ৫১ শতাংশ।
একইসঙ্গে পাকিস্তান থেকেও ইইউর পোশাক আমদানি এক বছরে ১৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেড়েছে। দেশটি থেকে ইইউ চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে পোশাক আমদানি করেছে ২৮৯ কোটি ৭০ লাখ ইউরো, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৫৪ কোটি ৬৩ লাখ ইউরো।
এ ছাড়া ভিয়েতনাও বেড়েছে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান ইইউতে দেশীয় পোশাক সরবরাহে নিজেদের অংশ বাড়িয়েছে। তবে, তুলনামূলকভাবে বাংলাদেশ তালিকার শীর্ষ সরবরাহকারী হলেও প্রবৃদ্ধির দৌড়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ইস্যুতে সতর্ক হয়ে অনেক দেশই নিজেদের রপ্তানি বাজার ইউরোপের দিকে নিয়ে গেছে। সেখানে বাংলাদেশ কৌশলগত কোনো পরিকল্পনা করে আগায়নি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, আমাদের আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হবে। জাপান, অস্ট্রেলিয়া ও কোরিয়ার বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। যাতে কোনো বাজারে চাপ তৈরি হলে অন্য বাজার তা সামলে দিতে পারে।
আরটিভি/আরএ-টি




