ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

বাম্পার ফলনে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে দেশ

বাসস

প্রকাশ : ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৪৫ পিএম
পেঁয়াজের পুরনো ছবি

এবার বাম্পার ফলনের কারণে পেঁয়াজে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগোচ্ছে দেশ। বাজারে দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।

কৃষক ও কৃষিবিদরা জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগে ৯ শতাধিক স্থাপনা নির্মাণ, কৃষি বিভাগের তদারকি এবং অনুকূল আবহাওয়ায় রোগবালাই কম হওয়ায় এবার উৎপাদন খুব ভালো হয়েছে। ফলে এবার আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নাসির-উদ-দৌলা (অতিরিক্ত সচিব) বলেন, এবার পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে রয়েছে দেশ। বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে, দামও স্থিতিশীল রয়েছে।

তিনি বলেন, দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে সারাদেশে ৯০০টি সংরক্ষণ ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ের কৃষকদেরও পেঁয়াজ সংরক্ষণের পদ্ধতি জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বাজারে সংকটকালে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন হওয়ায় খুব বেশি আমদানি করতে হয়নি। একইসঙ্গে কৃষক যাতে উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য পান, সে বিষয়েও সরকার সজাগ রয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদ করে ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

পেঁয়াজ উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত কৃষক ও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।

অন্যদিকে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ৮৬ হাজার ৩৯৮ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি করা হয়েছে। আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি হয়েছিল ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮১১ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন। দেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা সাধারণত ৩৫ থেকে ৩৬ লাখ মেট্রিক টন।

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রূপাপাত ইউনিয়নের বনমালীপুর গ্রামের কৃষক পার্থ কুমার মণ্ডল জানান, এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে। বেশি লাভের আশায় তিনি আধুনিক পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর যে পরিমাণ পেঁয়াজ পাই, এবার তার থেকে অনেক বেশি পেয়েছি।’

একই ইউনিয়নের সুতালিয়া গ্রামের আরেক চাষি সাধন হীরা জানান, গত বছরের তুলনায় এবার শতাংশপ্রতি উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। প্রতি শতাংশে প্রায় সাড়ে তিন মণ পেঁয়াজ পেয়েছি।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ১ হাজার টাকা বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। ফলন ভালো হওয়ায় শতাংশপ্রতি উৎপাদন খরচ কমেছে। এতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখার আশায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চারা, কন্দ ও বীজ মিলিয়ে ২ লাখ ৮০ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ৪২ লাখ ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছে। ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ এবং ৪২ লাখ ৬৪ হাজার ১০০ টন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত কয়েক বছরের আমদানি চিত্রে দেখা যায়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ লাখ ৯১ হাজার টন, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ লাখ ৬৭ হাজার ১৫১ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৬ লাখ ২ হাজার ২৯ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৭ লাখ ৫০ হাজার ৬৮ টন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬ লাখ ৫ হাজার ৩৩৭ টন এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮১১ দশমিক ২৭ মেট্রিক টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আমদানি হয়েছে ৮৬ হাজার ৩৯৮ দশমিক ৮৪ মেট্রিক টন।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক হেলাল উদ্দিন বলেন, এবার পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় আমদানি সবচেয়ে কম হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে নির্মিত একটি মডেল ঘরে ৩০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। পাঁচজন কৃষকের জন্য একটি ঘর করা হয়েছে। আমাদের উদ্দেশ্য, এসব মডেল ঘর দেখে কৃষকরা নিজেরাই একই ধরনের ঘর তৈরি করে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করবেন।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সরকার ‘বায়ু প্রবাহ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ ও রসুন সংরক্ষণ পদ্ধতি আধুনিকায়ন এবং বিপণন কার্যক্রম’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে না পারায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। ইতোমধ্যে নতুন এয়ার-ফ্লো মেশিনের মাধ্যমে সংরক্ষণ শুরু হয়েছে। আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত ওই নিয়মে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা গেলে দেশ পেঁয়াজে পুরোপুরি স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকার সম্ভাব্য অনুদান দিতে যাচ্ছে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)।
চট্টগ্রাম নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে প্রায় ১২০ কোটি টাকা দেবে জাইকা
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে আবারও সোনার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসেসিয়েশন (বাজুস)। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রাইসিং এন্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ দুপুর ১টা ৪৫ মিনিট থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতভাবে স্বর্ণ ও রৌপ্যালঙ্কারের ভ্যাটসহ নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ১৩ হাজার ৮৫৯ টাকা এবং ১৮ ক্যারেটের সোনা বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮২ টাকায়। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা। এর আগে সোমবার (২ নভেম্বর) সোনার দাম ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা বাড়িয়েছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ানো হলো। সোনার পাশাপাশি রুপার দামও নির্ধারণ করেছে বাজুস। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি গ্রাম রুপার দাম ৩০০ টাকা, ২১ ক্যারেটের ২৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ২৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম ১৯০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, সোনা ও রুপার অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ক্রেতার কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলংকার এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে মজুরি ও পাথরের দাম বাদ দিয়ে নির্ধারিত মূল্যের ওপর ১২ শতাংশ এবং পুরোনো সোনা কেনার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ বাদ দিতে হবে। এক্সচেঞ্জ ও পুরোনো স্বর্ণ কেনার ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভ্যাট বাদ দেওয়া যাবে না। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাজুস। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৩১ বার সোনার দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। এর মধ্যে ৬৩ বার দাম বাড়ানো হয়েছে, ৬৭ বার কমানো হয়েছে এবং একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। ওই বছর ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানো হয়। আরটিভি/এসআর
দেশের বাজারে আবারও বাড়ল সোনার দাম
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
দেশের গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে দুটি নতুন কূপ খননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ৩ কোটি ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের আশা করা হচ্ছে। ১০ বছরে এসব কূপ থেকে পাওয়া গ্যাসের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকা।
নতুন দুই গ্যাসকূপ খনন করবে সরকার, চলবে ১০ বছর
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের পরিপ্রেক্ষিতে কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে এবং বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত রেখে শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকরা।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান পোশাকশিল্প মালিকদের
ডিএসসিসিকে ৩০০ ওয়েস্ট বিন দিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
পরিচ্ছন্ন, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ৩০০টি ‘টেকসই ও দৃষ্টিনন্দন ওয়েস্ট বিন’ হস্তান্তর করেছে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক।
ডিএসসিসিকে ৩০০ ওয়েস্ট বিন দিল বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক
আরও পড়ুন
সরকার পেঁয়াজ আমদানি করেনি, আগামীতেও করতে হবে না: কৃষিমন্ত্রী
আলু-পেঁয়াজ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাইয়ে শ্রীলঙ্কায় যাবে বাংলাদেশের প্রতিনিধি দল
উপকূলে কেওড়ার বাম্পার ফলন, বাড়ছে আয়ের সম্ভাবনা
বাংলাদেশের চেয়েও বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে