ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রথম বাজেট আজ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুন ২০২৬, ০৮:৪২ এএম
আরটিভি গ্রাফিকস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা হবে আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন)। এ দিন বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট পেশ করবেন।

বাজেটের সম্ভাব্য আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছে সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস। এটি পাস হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট হবে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট। একই সঙ্গে এটি হবে বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদের প্রথম এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীরও প্রথম বাজেট।

এটিই হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট এবং সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার পূরণের চাপ থেকেই বাজেটের আকার এত বড় হচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে অর্থবিভাগ।

বাসস জানিয়েছে, প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকার ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছে। একই সাথে বাজেটে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যে আসছে এই বাজেট। তাই নতুন সরকারের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটকে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মঞ্চ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা।

এর আগে বিএনপি সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বাজেট উপস্থাপিত হয়েছিল ২০০৬-০৭ অর্থবছরে। সে সময় অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন প্রয়াত এম সাইফুর রহমান। প্রায় দুই দশক পর আবারও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের সময় প্রধানমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সদস্য প্রথমবারের মতো সংসদীয় বাজেট প্রক্রিয়ার অংশ হতে যাচ্ছেন। এদিকে, আকারের দিক থেকে এটি হতে যাচ্ছে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট। জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

বর্তমান বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৬ শতাংশ। এছাড়া মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হতে পারে সাড়ে ৭ শতাংশ। এদিকে, বাজেটে আগামী (২০২৬-২৭) অর্থবছরের জন্য প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করেছে সরকার। এডিপিতে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা। আর ঋণ সহায়তা বা বিদেশি অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা।

বিনিয়োগে গতি আনা, কর্মসংস্থান বাড়ানো এবং একটি আধুনিক ও স্বচ্ছ কর ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আয়কর সংক্রান্ত একগুচ্ছ বড় প্রস্তাব পেশ করা হতে পারে। মধ্যবিত্ত করদাতাদের স্বস্তি দেয়া, তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে এবারের বাজেটে কর কাঠামোতে আনা হতে পারে আমূল পরিবর্তন।

বাজেটে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে।

বাজেটের খসড়ায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সম্প্রসারণ ও ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ তেরটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে বহুল আলোচিত ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচির আওতায় মোট ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করার কথা রয়েছে নতুন বাজেটে।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের পরিবেশগত সুরক্ষা, পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সাথে বিজিএমইএ এর দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানীর উত্তরাস্থ বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক আঞ্চলিক পরিচালক মারা কে. ওয়ারউইক এর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের সাথে মতবিনিময় করেন। বিজিএমইএ এর পক্ষ থেকে আলোচনায় আরও অংশ নেন পরিচালক ড. মো. হাসিব উদ্দিন। বৈঠকের শুরুতেই  বিজিএমইএ সভাপতি বলেন যে, পানি ব্যবস্থাপনা এখন কেবল একটি পরিবেশগত বিষয় নয়, বরং এটি আমাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার সাথে সরাসরি জড়িত। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতারা, বিশেষ করে ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলো, পোশাক উৎপাদনের প্রতিটি স্তরে পানির ব্যবহার হ্রাস, বর্জ্যপানি পরিশোধন এবং পানি রিসাইক্লিংয়ের ডেটা বা তথ্যকে অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখছেন। তাই, ঢাকার নদী ও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষার পাশাপাশি রপ্তানি বাজার টিকিয়ে রাখতে পানি সাশ্রয়ী আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সভায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন ‘ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম’ এবং এর আওতাধীন ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের ভিজিএফ পাইলট প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় বিজিএমইএ’র পক্ষ থেকে ৩১টি কারখানার একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তাব করা হয়েছিল, যার মধ্য থেকে বিশ্বব্যাংক ৮টি কারখানা নিয়ে কাজ শুরু করবে। তবে টেকসই প্রযুক্তির প্রতি দেশীয় পোশাক কারখানাগুলোর বিপুল আগ্রহ ও চাহিদার তুলনায় এই ৫ মিলিয়ন ডলারের তহবিল এবং নির্বাচিত কারখানার সংখ্যা অত্যন্ত অপ্রতুল। এই বাস্তবতায় বিজিএমইএ সভাপতি প্রকল্পের তহবিল এবং সামগ্রিক পরিধি আরও বড় পরিসরে বাড়ানোর জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। বৈঠক শেষে বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দল বিজিএমইএ নেতাদের প্রস্তাবগুলোকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেন এবং বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের সবুজ রূপান্তর ত্বরান্বিত করতে লজিস্টিকস ও সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন। বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদলে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন লিড ওয়াটার স্পেশালিস্ট ডেভিড মেলকম লর্ড, সিনিয়র ওয়াটার সাপ্লাই অ্যান্ড স্যানিটেশন স্পেশালিস্ট রোকেয়া আহমেদ, ওয়াটার স্পেশালিস্ট মো. মাহাদী হাসান এবং এনভায়রনমেন্টাল স্পেশালিস্ট বুশরা নিশাত। আরটিভি/টিআর
বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিজিএমইএ’র বৈঠক
টোকিওর ফ্যাশন মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন
জাপানের টোকিও বিগ সাইটে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী ‘ফ্যাশন ওয়ার্ল্ড টোকিও (অটাম) ২০২৬’-এ বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করা হয়েছে।   বুধবার (৭ অক্টোবর) জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী প্রধান অতিথি হিসেবে এ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন করেন। মেলার স্টলগুলো তিনি ঘুরে দেখেন এবং উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। খবর তথ্যবিররণীর। পরে টোকিও বিগ সাইটের এক্সিবিশন হলে ‘বাংলাদেশ : সোর্সিং এক্সিলেন্স ফর অ্যাপারেল, হোম টেক্সটাইল এন্ড লেদার প্রডাক্টস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।  বাংলাদেশ দূতাবাস এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর যৌথ উদ্যোগে এবং জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের সহায়তায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারের জাপানি আমদানিকারক, বিনিয়োগকারী, ট্রেডিং হাউস এবং দু’দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সেমিনারে মো. দাউদ আলী বলেন, বাংলাদেশ কেবল একটি উৎপাদনকারী দেশই নয় বরং জাপানি ব্যবসার জন্য অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য সোর্সিং এবং বিনিয়োগের অংশীদার। অ্যাপারেল, টেক্সটাইল, চামড়া ও পাদুকা, ফার্মাসিউটিক্যালস, সিরামিকস, আইটিইএস এবং এগ্রো-প্রসেসিংয়ের মতো খাতে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে তুলেছে।   প্রতিযোগিতামূলক দাম, দক্ষ ও তরুণ কর্মী বাহিনী এবং ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ সক্ষমতার সুবাদে বাংলাদেশ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সুনামের সঙ্গে পণ্য সরবরাহ করছে বলেও জানান তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আরএমজি রপ্তানিকারক দেশ, যেখান থেকে বার্ষিক প্রায় ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়। এখন বাংলাদেশ ইউনিক্লো, এইচঅ্যান্ডএম, জারা, ওয়ালমার্টের মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডগুলোর অন্যতম আস্থার প্রতীক।   তিনি বলেন, এছাড়া পরিবেশগত ও সামাজিক সুরক্ষায় বাংলাদেশের রয়েছে বিশ্বের সর্বোচ্চ সংখ্যক ২৩০টিরও বেশি এলইইডি সার্টিফাইড গ্রিন গার্মেন্টস কারখানা।  চামড়া ও পাদুকা খাত সম্পর্কে রাষ্ট্রদূত জানান, এটি আরএমজির পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত, যার বার্ষিক রপ্তানি আয় প্রায় ১ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার এবং আগামী পাঁচ বছরে তা ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে।   এছাড়া, অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির (ইপিএ) ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো সুদৃঢ় হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।  জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি বিভাগের সিনিয়র ডিরেক্টর ইউজি আন্দো বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতসমূহ— বিশেষ করে অ্যাপারেলস, হোম টেক্সটাইল এবং চামড়াজাত পণ্যের গুণগত মান ও দামের বিষয়টি তুলে ধরেন।   তিনি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে বজায় রেখে উৎপাদিত হওয়ায় বাংলাদেশের পণ্যগুলোর মান অত্যন্ত উচ্চমানের বলে উল্লেখ করেন। বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের পোশাক, হোম টেক্সটাইল ও চামড়াজাত পণ্যের সক্ষমতা তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত এ মেলায় বাংলাদেশ রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর অধীন ২৫টি বাংলাদেশি কোম্পানির ২৭টি বুথের পাশাপাশি আরো পাঁচটি বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিয়েছে। আরটিভি/টিআর
টোকিওর ফ্যাশন মেলায় বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন উদ্বোধন
এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি
দুটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের মোট ২৭৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের দুটি ঋণচুক্তি এবং ২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলারের একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী এবং এডিবির বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর কিংফেং ঝাং চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এডিবির নির্বাহী পরিচালক সত্য শ্রীনিবাস লোল্লা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। চুক্তির আওতায় প্রথম প্রকল্পটি ‘ইনক্লুসিভ অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ফাইন্যান্স প্রজেক্ট’। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে এডিবি ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের জন্য সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল আবাসন অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। দ্বিতীয় প্রকল্প ‘সাসটেইনেবল এনার্জি ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কমিউনিটি এমপাওয়ারমেন্ট ইন দ্য চট্টগ্রাম হিল ট্র্যাক্টস প্রজেক্ট’-এ এডিবি ১৭৫ মিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ২ দশমিক ৭২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দেবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিদ্যুৎ অবকাঠামোর জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎনির্ভর অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। উভয় ঋণের বার্ষিক সুদের হার ২ শতাংশ। পাঁচ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ২৫ বছরে ঋণ পরিশোধ করতে হবে। দ্বিতীয় প্রকল্পের অনুদানটি এডিবি পরিচালিত জাপান ফান্ড ফর প্রস্পেরাস অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট এশিয়া অ্যান্ড দ্য প্যাসিফিক (জেএফপিআর) থেকে দেওয়া হবে। ১৯৭৩ সালে সদস্যপদ লাভের পর থেকে এডিবি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বহুপক্ষীয়  উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিভিন্ন অগ্রাধিকার খাতে সহায়তা দিয়ে আসছে। এ পর্যন্ত এডিবি বাংলাদেশকে ৩৬ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার ঋণ এবং ৬৩৬ দশমিক ৫২ মিলিয়ন ডলার অনুদান দিয়েছে। আরটিভি/টিআর
এডিবির সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি
রাজশাহীতে ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টি ভবন নির্মাণের জন্য ৪৯৭ কোটি ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ ডব্লিউডি-১-এর পূর্তকাজে ৪৯৭ কোটি ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ টাকা ব্যয় হবে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রস্তাবক স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। প্রকল্পের আওতায় ১২০০ শয্যাবিশিষ্ট ১১ তলা হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টি ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটিতে একটি ভূগর্ভস্থ তলাও থাকবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টি ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় দেওয়ানি কাজ, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়নের কাজ করা হবে। একই সঙ্গে ভবনের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ স্থায়ী সুবিধাও নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পূর্ত কাজের জন্য অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, ঢাকার কাছ থেকে নির্ধারিত অর্থে কাজটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ‘সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত মেয়াদের আওতায় বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ জিডি-১০ এর লট-৫ এর আওতায় যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫১১ টাকা। এ অর্থ সরকারি উন্নয়ন বাজেট থেকে দেওয়া হবে। প্রস্তাবক স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এ প্যাকেজের আওতায় স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা, চর্মরোগ, রক্ত পরিসঞ্চালন চিকিৎসা, শ্বাসতন্ত্রের চিকিৎসা, মনোরোগ, দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি এবং দুর্ঘটনা ও জরুরি বিভাগের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল সরঞ্জাম কেনা হবে। উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এ কাজের জন্য দুটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে একটি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫১১ টাকায় এসব মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত মেয়াদ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। এছাড়া একই প্রকল্পের প্যাকেজ জিডি-১০ এর লট-৩ এর আওতায় আরও বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৬৭ টাকা। এ প্রস্তাবের প্রস্তাবক স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। লট-৩ এর আওতায় সার্জারি, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল সরঞ্জাম কেনা হবে। এ কাজের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ছয়টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে চারটি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ই-ক্রয় ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজ, ঢাকার কাছ থেকে ১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৬৭ টাকায় এসব যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
রাজশাহীতে ১ হাজার ২০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণে ৪৯৭ কোটি টাকা অনুমোদন
জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা
দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জেট ফুয়েলের দাম লিটারে ১৭ দশমিক ০৬ পয়সা বৃদ্ধি করা হয়েছে। 
জেট ফুয়েলের নতুন দাম ঘোষণা
আরও পড়ুন
তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে: চিফ হুইপ   
মিষ্টির পদত্যাগপত্র পেয়েছি, আজ থেকেই কার্যকর: স্পিকার
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
শেখ হাসিনাকে ফেরাতে কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত: স্থায়ী কমিটি