
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১ হাজার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টি ভবন নির্মাণের জন্য ৪৯৭ কোটি ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন’ প্রকল্পের আওতায় প্যাকেজ ডব্লিউডি-১-এর পূর্তকাজে ৪৯৭ কোটি ৩৩ লাখ ২১ হাজার ৩৬২ টাকা ব্যয় হবে। সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পটির বাস্তবায়নকারী সংস্থা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রস্তাবক স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ।
প্রকল্পের আওতায় ১২০০ শয্যাবিশিষ্ট ১১ তলা হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টি ভবন নির্মাণ করা হবে। ভবনটিতে একটি ভূগর্ভস্থ তলাও থাকবে। হাসপাতাল ও ক্লিনিক্যাল ফ্যাকাল্টি ভবন নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় দেওয়ানি কাজ, পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা এবং অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়নের কাজ করা হবে। একই সঙ্গে ভবনের প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ স্থায়ী সুবিধাও নির্মাণ করা হবে।
এ প্রকল্পের মেয়াদ ২০২২ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পূর্ত কাজের জন্য অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বান করা হলে চারটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে দুটি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে গ্রহণযোগ্য সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন লিমিটেড, ঢাকার কাছ থেকে নির্ধারিত অর্থে কাজটি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ‘সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন’ প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত মেয়াদের আওতায় বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার দুটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্যাকেজ জিডি-১০ এর লট-৫ এর আওতায় যন্ত্রপাতি কেনায় ব্যয় হবে ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫১১ টাকা। এ অর্থ সরকারি উন্নয়ন বাজেট থেকে দেওয়া হবে। প্রস্তাবক স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
এ প্যাকেজের আওতায় স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা, চর্মরোগ, রক্ত পরিসঞ্চালন চিকিৎসা, শ্বাসতন্ত্রের চিকিৎসা, মনোরোগ, দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি এবং দুর্ঘটনা ও জরুরি বিভাগের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল সরঞ্জাম কেনা হবে।
উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে এ কাজের জন্য দুটি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে একটি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একমাত্র গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজের কাছ থেকে ১৭ কোটি ৪৯ লাখ ৫৩ হাজার ৫১১ টাকায় এসব মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপন প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত মেয়াদ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।
এছাড়া একই প্রকল্পের প্যাকেজ জিডি-১০ এর লট-৩ এর আওতায় আরও বিভিন্ন মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৬৭ টাকা। এ প্রস্তাবের প্রস্তাবক স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
লট-৩ এর আওতায় সার্জারি, অস্ত্রোপচার কক্ষ ও ক্যানসার চিকিৎসা বিভাগের জন্য বিভিন্ন হাসপাতাল সরঞ্জাম কেনা হবে। এ কাজের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে ছয়টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। এর মধ্যে চারটি দরপ্রস্তাব কারিগরিভাবে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়। পরে দরপত্রের সব প্রক্রিয়া শেষে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ই-ক্রয় ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্বাচিত গ্রহণযোগ্য দরদাতা প্রতিষ্ঠান মেসার্স রাজু এন্টারপ্রাইজ, ঢাকার কাছ থেকে ১৫ কোটি ৯৮ লাখ ৩৪ হাজার ১৬৭ টাকায় এসব যন্ত্রপাতি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/টিআর




