ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুপারি উৎপাদনে সমৃদ্ধ বরিশাল, বছরে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৬ টন

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৯ পিএম
ঝুড়িতে বিক্রির জন্য রাখা সুপারি। পুরোনো ছবি

উর্বর মাটি ও অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদিত সুপারি বরিশাল বিভাগের জেলাগুলোর অন্যতম প্রধান অর্থকরী ফসল। দেশের দক্ষিণাঞ্চালের গ্রামীণ অর্থনীতির একটি বড় চালিকাশক্তি এ সুপারি। বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর, বরগুনা, ভোলা এবং ঝালকাঠি জেলায় প্রচুর পরিমাণে সুপারি উৎপাদিত হয়।

বরিশাল বিভাগের গ্রামীণ জনপদের বাড়ির আঙিনা, বসতভিটা কিংবা গ্রামের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি সুপারি গাছ। বিভাগের প্রায় প্রতিটা জেলায় গ্রামীণ জনপদে সুপারি বাগানের এ মনোরম দৃশ্য যেন বাংলার চিরচেনা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।

একসময় পারিবারিক চাহিদা মেটাতেই বাড়ির আঙিনায় সুপারি গাছ লাগানো হতো। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সেই সুপারি এখন অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের অন্যতম উৎসে পরিণত হয়েছে। শুধু বসতভিটা নয়, বাণিজ্যিকভাবেও বাড়ছে সুপারি চাষ। ফলে বরিশাল অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে সুপারি।

কৃষি বিভাগের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদন তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় মোট ২২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৬ দশমিক ২ মেট্রিক টন সুপারি।

উৎপাদনে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভোলা জেলা। সেখানে প্রায় ১৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে সুপারি আবাদ হয়েছে। আর এ থেকে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬৮ হাজার মেট্রিক টন। বিভাগের মোট উৎপাদনের বড় একটি অংশই আসছে এ জেলা থেকে।

এর পরে রয়েছে পিরোজপুর। এ জেলায় ৪ হাজার ৫৭৯ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১৭ হাজার ৭১ মেট্রিক টন সুপারি। পটুয়াখালীতে ১ হাজার ৫৪৮ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে ১৫ হাজার ৩৩৯ মেট্রিক টন। বরগুনায় ৮১০ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬৭০ মেট্রিক টন।

ঝালকাঠিতে ৪৮১ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৮ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন এবং বরিশাল জেলায় ১ হাজার ৫৪৪ হেক্টর জমিতে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭২০ মেট্রিক টন সুপারি।

বসতভিটা থেকে বাজার—বদলে যাচ্ছে সুপারির অর্থনীতি:
বরিশালের গ্রামাঞ্চলে সুপারি চাষের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এর জন্য সবসময় আলাদা কৃষিজমির প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড়, বসতভিটার ফাঁকা জায়গা কিংবা জমির আইলজুড়েও গড়ে ওঠে সুপারি বাগান। ফলে বাড়তি জমি ব্যবহার না করেই অনেক পরিবার দীর্ঘমেয়াদে এ গাছ থেকে বেশ ভালো আয় করার সুযোগ পাচ্ছেন।

কৃষক জব্বার বলেন, ‘আমাদের বসতভিটায় যে পরিমাণ সুপারি উৎপাদন হয়, তা দিয়ে পারিবারিক চাহিদা মেটানোর পরও কিছু সুপারি বিক্রি করি। এ টাকা ছেলে-মেয়ের পড়ালোখার খরচসহ সংসারের বিভিন্ন কাজে ব্যয় হয়।’

লাহারহাট এলাকার শহবদুল ইসলাম ও দপদপিয়া এলাকার সাদ্দাম হোসেন জানান, বর্তমানে সুপারির বাজার ভালো। উৎপাদিত সুপারি বিক্রি করে তারা বাড়তি আয় করছেন। নিজেদের পরিবারের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত সুপারি বাজারে বিক্রি করেন তারা।

কৃষকের পাশাপাশি লাভবান অন্যরাও:
সুপারি উৎপাদনকে ঘিরে শুধু কৃষকরাই নন, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পাইকার, আড়তদার, শ্রমিক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরাও যুক্ত। মৌসুমে বিভিন্ন গ্রাম থেকে সুপারি সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীরা তা স্থানীয় হাট-বাজার ও আড়তে নিয়ে যান। পরে সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব সুপারি সরবরাহ করা হয়।

ফলে একটি সুপারি গাছ শুধু একটি পরিবারের আয়ের উৎস নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে একটি বড় সরবরাহব্যবস্থাও। উৎপাদন, সংগ্রহ, পরিবহন, বেচাকেনা—প্রতিটি ধাপেই তৈরি হচ্ছে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড।

চাহিদা থাকায় চাষে বাড়ছে আগ্রহ:
কৃষকদের মতে, সারা বছর সুপারির চাহিদা থাকায় এটি তুলনামূলক লাভজনক ফসল। বিশেষ করে বরিশাল অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটি সুপারি চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তাই অনুকূল আবহাওয়ায় এ ফসলের উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

তবে রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, আধুনিক পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে আরও সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি কৃষক যেন উৎপাদিত সুপারির ন্যায্যমূল্য পান, সেদিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে তার অভিমত ব্যক্ত করেন।

কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, পরিকল্পিতভাবে চাষ সম্প্রসারণ, উন্নত জাতের চারা সরবরাহ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে পারলে বরিশাল বিভাগে সুপারি উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব। একই সঙ্গে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে উৎপাদন-পরবর্তী ক্ষতি কমবে এবং কৃষকরাও পেতে পারেন ভালো দাম।

বর্তমান উৎপাদনের পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে, বরিশাল বিভাগে সুপারি এখন আর কেবল বসতভিটার ঐতিহ্যবাহী গাছ নয়। ২২ হাজার ৮৪৬ হেক্টর জমিতে ১ লাখ ৮ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টনের বেশি উৎপাদন এ অঞ্চলে সুপারির ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক গুরুত্বেরই প্রমাণ। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কৃষকবান্ধব বাজারব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সুপারি হয়ে উঠতে পারে বরিশাল বিভাগের অন্যতম শক্তিশালী অর্থকরী ফসল।

বরিশাল বিভাগীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, বরিশাল বিভাগের মাটি ও আবহাওয়া সুপারি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বসতভিটা ও বাণিজ্যিকভাবে সুপারি চাষের কারণে এ অঞ্চলে এর উৎপাদন ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব দু’টিই বাড়ছে।

তিনি বলেন, উন্নত জাতের চারা, সঠিক পরিচর্যা, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি উৎপাদিত সুপারি সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে এ ফসল গ্রামীণ অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচ চাষ, দামে খুশি কৃষকরা
দিনাজপুরের সীমান্তঘেঁষা হাকিমপুর হিলি উপজেলায় দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে কাঁচামরিচের চাষাবাদ। অন্যান্য ফসলের তুলনায় কম খরচ, সহজ পরিচর্যা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার কারণে কাঁচামরিচ চাষে ঝুঁকছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনুকূল আবহাওয়া ও কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শে এবার মরিচের ফলনও হয়েছে চমৎকার। কাঙ্ক্ষিত ফলনের পাশাপাশি বাজারে চড়া দাম পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন উপজেলার মরিচ চাষিরা।
হিলিতে বাড়ছে কাঁচামরিচ চাষ, দামে খুশি কৃষকরা
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি
অনুকূল আবহাওয়া ও খাল পুনঃখনন কর্মসূচির ফলে খুলনা অঞ্চলের চার জেলায় চলতি মৌসুমে রোপা আমন ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। নিচু এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হওয়া এবং সুষম বৃষ্টিপাতের কারণে কৃষকরা এবার অধিক পরিমাণে রোপা আমনের চাষ করেছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রোপা আমনের আবাদ, কৃষকের মুখে হাসি
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
রোববার (৪ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক এ আদেশ দেন।
পান রপ্তানি নিয়ে ‘সুখবর’
চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ৪৩ লাখ কৃষক এ বছর কৃষক কার্ড পাবেন। পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের উপকরণ প্রণোদনা পাচ্ছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক। 
চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
কয়েক দিন আগেও আমন ধানের জমির মাটি ছিল ফেটে চৌচির ও শুষ্ক। এখন বৃষ্টিতে সেই শুকিয়ে যাওয়া জমিতে পানি জমেছে। পানি পেয়ে আমন ধানের সবুজ পাতাগুলোও সতেজ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও বাতাসে দুলছে ধানের শীষ, আবার কোথাও শীষ বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে কৃষকদের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে তা অনেকটাই দূর হয়েছে। অতিরিক্ত সেচ খরচের ওপরও চাপ কমেছে। এখন ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরে এসেছে। পানি পেয়ে শুকিয়ে যাওয়া ধানের চারাগুলোও নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজে সবুজে ভরে উঠছে। কৃষকরা বলছেন, আমন ধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বৃষ্টি তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন। উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। ধানের চারাগুলোও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেচ দিতে হলে বাড়তি খরচ হতো। এখন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি এসেছে। এতে ধানের চারাগুলোও সতেজ হয়েছে। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আমি আশা করছি।’ চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আমন ধানের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও দানা গঠনের পর্যায়ে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টি জমিতে আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনেছে, যা ধান চাষের জন্য ইতিবাচক। তবে জমিতে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমে না থাকে, সে বিষয়েও কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, ‘আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে আর্দ্রতা ফিরে এসেছে, যা ধান চাষের জন্য উপকারী।’ তিনি আরও বলেন, এই সময়ে কৃষকদের নিয়মিতভাবে তাদের ধানের ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কোনো রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে যথাযথ পরিচর্যা করা হলে, কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আমি আশা করছি। বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমন ধানের সবুজ গাছের বর্ণিল সমারোহের দেখা মিলছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। শেষ মুহূর্তে বড় কোনো রোগবালাই দেখা না দেওয়ায় কৃষকরা এখন আমন ক্ষেতের পরিচর্যায় সময় কাটাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ মনে করছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯,০৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৮,৫০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো চারা রোপণ, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সময়মতো সেচ ও সারের কোনো ঘাটতি না থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সচেতন করতে এবং সঠিক সময়ে চারা রোপণ, নিবিড় তদারকি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সময়মতো সেচ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান, আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার ও ফসলকে রোগবালাইমুক্ত রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রানীনগর উপজেলায় রোপা আমন ধানের বেশ ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: বাসস আরটিভি/আইএম
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
আরও পড়ুন
কক্সবাজারে বিলাস ভ্রমণে গিয়ে ধরা ‘কেডিসি বস্তি’র ৫ বাসিন্দা
বরিশালে ৬৩৭ মণ্ডপে চলছে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি 
সিটিস্ক্যান মেশিনের ওপর শুয়ে টেকনিশিয়ানের বিশ্রাম, ভিডিও ভাইরাল
রাশেদ খানের হস্তক্ষেপে নিয়োগ পাচ্ছেন ‘বসতভিটা না থাকা’ সেই প্রার্থী