ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৪ এএম
গ্যাসক্ষেত্রের পুরোনো ছবি

বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আজ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ কূপ থেকে আরও ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস গ্রিডে যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিএনপি সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন কার্যক্রমের সুফল হিসেব এ গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-২৮ কূপ খনন কাজ শেষ হয়েছে। পাশাপাশি তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ কূপ খননের কাজ এগিয়ে চলছে। এসব কূপের কাজ শেষ হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে মোট প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম বলেন, বিজিএফসিএলের আওতাধীন তিতাস-২৮ নম্বর কূপ শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। উদ্বোধনের পরপরই কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। এতে আমদানি-নির্ভরতার চাপ কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।

‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন বলেন, তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। কূপটির গভীরতা প্রায় ১৩ হাজার ফুট। উদ্বোধনের পরপরই এটি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে।

তিনি জানান, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাসসহ বেশ কয়েকটি কূপ খননের কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ নম্বর কূপ আগামীকাল উৎপাদনে যাবে। অন্য কূপগুলোর কাজও দ্রুত শেষ করে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কূপটির খনন গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে।

তিনি বলেন, গভীরতার কারণে কূপটির খনন ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে তুলনামূলক বেশি সময় লাগছে। কোনো ধরনের ভূতাত্ত্বিক জটিলতা দেখা না দিলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। কূপটি সফলভাবে সম্পন্ন হলে সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে কূপটির লগিংসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কার্যক্রম চলছে। এসব কাজ শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। তিতাস-২৯ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ ছাড়া তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা করছে বিজিএফসিএল।

বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানান, তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হওয়ার পর বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপের খননকাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৪ হাজার ৫০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কমবেশি হতে পারে। সফলভাবে খনন ও পরীক্ষা সম্পন্ন হলে বাখরাবাদ-১১ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর সঙ্গে তিতাস-২৮ থেকে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট যোগ হলে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের মজুত প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে এর মজুত আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তিতাস-৩১ একটি অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় এর মাধ্যমে নতুন গ্যাসের মজুত আবিষ্কারের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রাথমিকভাবে কূপটির মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুত যুক্ত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ মজুদের পরিমাণ নিশ্চিত করতে কূপটির খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই নতুন মজুতের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
‘দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করা হবে’
দেশের সব ডিপ ও শ্যালো সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
‘দেশের সব সেচ পাম্প পর্যায়ক্রমে সোলারে রূপান্তর করা হবে’
দেশে বাড়ল সোনার দাম
দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম বাড়ানো হয়েছে ১ হাজার ৬৯১ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৬২১ টাকা। স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম বাড়ায় এই দাম বাড়ানো হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। শনিবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৬৫ টাকা। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম এক হাজার ৩০১ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে এক লাখ ৯২ হাজার ৩৯৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা বাড়িয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ টাকা ৫৭ হাজার ১৭২ টাকা। এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম এক হাজার  ৫০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম ১ হাজার ৪৯ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯০ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম ৯৩৩ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি সোনার দাম ৭৫৮ টাকা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এদিকে সোনার দাম বাড়ানোর পাশাপাশি রুপার দামও বাড়ানো হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম ১১৭ টাকা বাড়িয়ে ৫ হাজার ১৩২ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ৯৫৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা বাড়িয়ে ৪ হাজার ২৫৭ টাকা ও সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি রুপার দাম ১১৬ টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ২০৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১১৬ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৫৮ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৫৮ দফা। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার। প্রসঙ্গত, দেশের বাজারে ২৯ জানুয়ারি সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতিভরি সোনার দাম ১৬ হাজার ২১৩ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ১ টাকা নির্ধারণ করা হয়, যা দেশের ইতিহাসে রেকর্ড সৃষ্টি করে। এটাই ছিল সোনার সর্বোচ্চ দাম। আরটিভি/এসএস আরটিভি/এসএস
দেশে বাড়ল সোনার দাম
সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট
নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বেসরকারি খাত থেকে প্রায় ৯১৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ ২০২৮ সালের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
404255
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
দেশের বাজারে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সোনার দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস) নির্ধারিত সর্বশেষ দর অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনা বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকায়।
দেশের বাজারে আজ যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে সোনার দাম। এই দাম বৃদ্ধির ফলে মূল্যবান ধাতুটির দর এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছেছে।
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় লাফ
আরও পড়ুন
সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে সুখবর, জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে ৯১৮ মেগাওয়াট
গ্যাস নিয়ে বড় সুখবর 
সকাল থেকে ২৪ ঘণ্টা গ্যাস থাকবে না যেসব এলাকায়
রূপপুরের বিদ্যুৎ দ্রুত জাতীয় গ্রিডে দিতে আইএইএর সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ