ঢাকা বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

সৌরবিদ্যুৎ কেনার দাম নির্ধারণ করল বিইআরসি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র (মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট) থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের পাইকারি দর এবং জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ লাইন ব্যবহারের মাশুল (ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ) নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে বিইআরসি।

বিইআরসির নির্ধারণ অনুযায়ী, ৩৩ কেভি সংযোগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনবে ৬ টাকা ৯৮ পয়সায়। আর ১৩২ কেভি সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি ইউনিটের দাম হবে ৭ টাকা ১১ পয়সা।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করার সুযোগ থাকবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ উৎপাদক ও গ্রাহক নিজেদের মধ্যে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করতে পারবেন। তবে সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করলে এর জন্য নির্ধারিত মাশুল পরিশোধ করতে হবে।

সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহারের এ মাশুলকে বলা হয় ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’। বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের সংযোগের ধরন অনুযায়ী প্রতি ইউনিটে এ মাশুল ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে সংযোগের ধরন অনুযায়ী আলাদা মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি গ্রিডে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার মাধ্যমে সংযুক্ত থাকলে সঞ্চালন ভোল্টেজ অনুযায়ী মোট মাশুল দিতে হবে। ২৩০ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটে এ মাশুল ১ টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা।

এই মাশুলের মধ্যে সঞ্চালন, বিতরণ, বিদ্যুতের হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সঞ্চালন মাশুল ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ১৭ পয়সা। হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য দিতে হবে আরও ৫ পয়সা।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে পৃথক বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যুক্ত হবে। এ ক্ষেত্রে ২৩০ কেভিতে মোট মাশুল দাঁড়াবে ১ টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা।

তবে সঞ্চালন ব্যবস্থার দুই প্রান্তে বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা মাশুল দিতে হবে না। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে বিতরণ লসও আরোপ করা হবে না। এ হিসাবের ক্ষেত্রে দেশের সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের অধীন একটি বিতরণ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকা বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহকের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহে সঞ্চালন ব্যবস্থা ব্যবহার না হলে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ২২ পয়সা।

তবে নির্ধারিত মাশুলের বাইরে বিদ্যুৎ সরবরাহের সময় সঞ্চালন ও বিতরণজনিত লসের হিসাবও প্রযোজ্য হবে। সঞ্চালন লসের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিডের প্রতি মাসে প্রকাশিত প্রকৃত গড় হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। আর বিতরণ লসের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোল্টেজ পর্যায়ে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের অর্জিত হার কার্যকর হবে।

বিতরণ সংস্থাভেদেও পৃথক মাশুল নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। বিপিডিবির জন্য প্রতি ইউনিটে এ হার ৭০ পয়সা। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ক্ষেত্রে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৮৫ পয়সা এবং ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানির (ডেসকো) জন্য ৯৯ পয়সা। ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মাশুল ৮৭ পয়সা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা।

মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্টে উৎপাদিত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের হিসাব সংরক্ষণ এবং বিল নিষ্পত্তির সমন্বিত দায়িত্ব পালন করবে বিপিডিবি। নির্ধারিত হারে কেন্দ্রগুলোর কাছ থেকে বিল আদায় করে পরে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থাকে তাদের প্রযোজ্য মাশুল অনুযায়ী অর্থ পরিশোধ করবে সংস্থাটি।

নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে ২০২৫ সালে মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়। এ নীতিমালার আওতায় একটি এলাকায় স্থাপিত বিদ্যুৎকেন্দ্র সরকারি সঞ্চালন ও বিতরণ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্য এলাকার বড় গ্রাহকের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে পারবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, বাণিজ্যিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা যাবে। অবশিষ্ট বিদ্যুৎ উদ্যোক্তারা সরাসরি বড় গ্রাহকের কাছে বিক্রি করতে পারবেন।

এর আগে, গত ২৩ আগস্ট মার্চেন্ট পাওয়ারের বিদ্যুতের দাম ও গ্রিড ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। ওই শুনানিতে কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করা সৌরবিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল।

গণশুনানিতে বড় শিল্পগ্রাহক হারিয়ে রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিল বিপিডিবি ও কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিল্পগ্রাহকরা দিনের বেলায় মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সৌরবিদ্যুৎ কিনে রাতে আবার বিতরণ কোম্পানির কাছ থেকে বিদ্যুৎ নিতে পারেন।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ই-টিন সার্টিফিকেট আছে কিন্তু আয় নেই, ‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করবেন যেভাবে
টিন সার্টিফিকেট থাকলেই আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হতে পারে। তবে রিটার্ন দাখিল করা আর আয়কর পরিশোধ করা এক বিষয় নয়। আয় করমুক্ত সীমার মধ্যে থাকলে রিটার্ন দাখিল করেও করের পরিমাণ শূন্য হতে পারে। সাধারণভাবে এটিই ‘জিরো ট্যাক্স রিটার্ন’ হিসেবে পরিচিত।
ই-টিন সার্টিফিকেট আছে কিন্তু আয় নেই, ‘জিরো রিটার্ন’ দাখিল করবেন যেভাবে
সার আমদানি কমাতে ৩ বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ
দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় তিনটি সার কারখানা আগামী নভেম্বরের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সার আমদানি কমাতে ৩ বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ
জাপানের সঙ্গে মেট্রোরেলের নতুন চুক্তি, হবে উড়ালপথ ও ৮ স্টেশন
রাজধানীতে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫-এর চারটি নির্মাণ প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এসব প্যাকেজের আওতায় ডিপোর অবকাঠামো, ১১.৫০৭ কিলোমিটার উড়াল রেলপথ এবং আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে।
জাপানের সঙ্গে মেট্রোরেলের নতুন চুক্তি, হবে উড়ালপথ ও ৮ স্টেশন
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
গ্রিড বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে করণীয় নির্ধারণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি
গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন
আন্তর্জাতিক মানের ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিশ্চিতে পপুলার ও কেএনএস কানাডার নতুন সমঝোতা
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড ও কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর মধ্যে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা পরিচালনা নিয়ে নতুন করে সমঝোতা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিশ্চিতে পপুলার ও কেএনএস কানাডার নতুন সমঝোতা
আরও পড়ুন
সিলিন্ডার গ্যাসের দাম না বাড়ানোর দাবি ক্যাবের, বিইআরসির গণশুনানি বৃহস্পতিবার
গ্রীষ্মের আগেই দেশে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য সরকারের
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন সিদ্ধান্ত সরকারের
ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, কমবে খরচ