ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

চলতি বছর সুখবর পাচ্ছেন ৪৩ লাখ কৃষক

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম
ধান নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কৃষকরা। ছবি: সংগৃহীত

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ৪৩ লাখ কৃষক এ বছর কৃষক কার্ড পাবেন। পাইলট পর্যায়ের উদ্বোধনী দিনে কৃষক কার্ডের উপকরণ প্রণোদনা পাচ্ছেন ১ লাখ ৪৭ জন কৃষক।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ফেনী জেলার ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ‘ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যক্তিবর্গের সম্মানী’ প্রদান অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষক কার্ডের প্রাক-পাইলট সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর পাইলট পর্যায়ে এ বছর ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির কাজ শুরু হয়। প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন। এর মধ্যে আগামীকাল (১ অক্টোবর) ১ লাখ ৪৭ জন কৃষি উপকরণ বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা করে পাবেন। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কার্ড (প্রিন্টেড) কপি পাবেন।

তিনি আরও বলেন, আগামীকালের অনুষ্ঠানে দেশের ৫৬টি জেলার ৭৭টি উপজেলা যুক্ত থাকবে। এর মধ্যে ১৩টি উপজেলার সঙ্গে সরাসরি সংযোগ থাকবে, বাকি ৬৪ উপজেলাও যুক্ত থাকবে।

মন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড ও উপকরণ সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী আড়াই থেকে তিন বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, কৃষক কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের কৃষি উপকরণ ক্রয়ে সহায়তা প্রদান এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে সরকারি সহায়তা আরও সহজে কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতি সন্তোষজনক এবং অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই কাজ করছেন।

এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
কয়েক দিন আগেও আমন ধানের জমির মাটি ছিল ফেটে চৌচির ও শুষ্ক। এখন বৃষ্টিতে সেই শুকিয়ে যাওয়া জমিতে পানি জমেছে। পানি পেয়ে আমন ধানের সবুজ পাতাগুলোও সতেজ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও বাতাসে দুলছে ধানের শীষ, আবার কোথাও শীষ বের হওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দীর্ঘদিন বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে কৃষকদের যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতে তা অনেকটাই দূর হয়েছে। অতিরিক্ত সেচ খরচের ওপরও চাপ কমেছে। এখন ভালো ফলনের আশায় কৃষকরা জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা ফিরে এসেছে। পানি পেয়ে শুকিয়ে যাওয়া ধানের চারাগুলোও নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠ এখন সবুজে সবুজে ভরে উঠছে। কৃষকরা বলছেন, আমন ধানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এই বৃষ্টি তাদের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে। সময়মতো বৃষ্টি হওয়ায় সেচের প্রয়োজনীয়তা কমেছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার আমনের ভালো ফলন হবে বলে তারা আশা করছেন। উপজেলার নিমপাড়া ইউনিয়নের ভাটপাড়া গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন বলেন, ‘বৃষ্টি না হওয়ায় জমি শুকিয়ে যাচ্ছিল। ধানের চারাগুলোও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেচ দিতে হলে বাড়তি খরচ হতো। এখন বৃষ্টি হওয়ায় জমিতে প্রয়োজনীয় পানি এসেছে। এতে ধানের চারাগুলোও সতেজ হয়েছে। আবহাওয়া এমন ভালো থাকলে ফলন ভালো হবে বলে আমি আশা করছি।’ চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা জানান, আমন ধানের বৃদ্ধি, ফুল আসা ও দানা গঠনের পর্যায়ে জমিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টি জমিতে আর্দ্রতা ফিরিয়ে এনেছে, যা ধান চাষের জন্য ইতিবাচক। তবে জমিতে অতিরিক্ত পানি যাতে দীর্ঘ সময় জমে না থাকে, সে বিষয়েও কৃষকদের সতর্ক থাকতে হবে। চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, ‘আমন ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে জমিতে আর্দ্রতা ফিরে এসেছে, যা ধান চাষের জন্য উপকারী।’ তিনি আরও বলেন, এই সময়ে কৃষকদের নিয়মিতভাবে তাদের ধানের ক্ষেত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কোনো রোগ বা পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে দ্রুত কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক সময়ে যথাযথ পরিচর্যা করা হলে, কাক্সিক্ষত ফলন পাওয়া সম্ভব হবে বলে আমি আশা করছি। বরেন্দ্র অঞ্চল হিসেবে পরিচিত নওগাঁর রানীনগর উপজেলায় আটটি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন রোপা আমন ধানের সবুজ গাছের বর্ণিল সমারোহের দেখা মিলছে। চলতি রোপা আমন মৌসুমে কৃষকরা ভালো ফলনের আশা করছেন। শেষ মুহূর্তে বড় কোনো রোগবালাই দেখা না দেওয়ায় কৃষকরা এখন আমন ক্ষেতের পরিচর্যায় সময় কাটাচ্ছেন। কৃষি বিভাগ মনে করছে, স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শে কৃষকরা আধুনিক পদ্ধতিতে আগাম ধান চাষ করায় এবং কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় চলতি মৌসুমে রোপা আমনের ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ১৯,০৭০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রায় ১৮,৫০০ হেক্টর জমিতে ধান রোপণ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং সময়মতো চারা রোপণ, নিবিড় পরিচর্যা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সময়মতো সেচ ও সারের কোনো ঘাটতি না থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের ভালো ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ জাহিদুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের সচেতন করতে এবং সঠিক সময়ে চারা রোপণ, নিবিড় তদারকি, সার ও কীটনাশক প্রয়োগ, সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, সময়মতো সেচ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান, আধুনিক পদ্ধতির ব্যবহার ও ফসলকে রোগবালাইমুক্ত রাখার বিষয়ে পরামর্শ দিতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে রানীনগর উপজেলায় রোপা আমন ধানের বেশ ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। সূত্র: বাসস আরটিভি/আইএম
ভালো ফলনের প্রত্যাশায় আমন চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা
বরেন্দ্র অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে আশার আলো
সকালের রোদের তেজ তখনও পুরোপুরি বাড়েনি, কিন্তু রাজশাহীর গোদাগাড়ীর গোলাই গ্রামের কৃষকরা তখন থেকেই মাঠে পুরোদমে কাজে ব্যস্ত।
বরেন্দ্র অঞ্চলে আগাম সবজি চাষে আশার আলো
সবজির বাজারে আগুন, ঘি ঢালছে জ্বালানি তেলের দাম
চলতি সপ্তাহে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর রাজধানীর বাজারে নতুন করে বাড়তে শুরু করেছে সবজির দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেগুন, ঝিঙা, পটোল, ধুন্দল, করলা ঢ্যাঁড়শসহ বিভিন্ন সবজির দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
সবজির বাজারে আগুন, ঘি ঢালছে জ্বালানি তেলের দাম
সার ও মসুর ডাল আমদানি নিয়ে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
দেশের বর্ধমান চাহিদা মেটাতে সরকার পৃথক প্রস্তাবে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং ১ লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি ও ডিএপি সার কেনার অনুমোদন দিয়েছে।
সার ও মসুর ডাল আমদানি নিয়ে সরকারের বড় সিদ্ধান্ত
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
উত্তরাঞ্চলের কৃষিশিক্ষা, গবেষণা ও কৃষিভিত্তিক সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০২১ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত হয় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার পর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবল সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি এসেছে।
উত্তরাঞ্চলের কৃষির স্বপ্নপূরণে ‘কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়’
আরও পড়ুন
৪০০ কলাগাছ কেটে ফেলার অভিযোগ, ন্যায়বিচার চান কৃষক
পে-স্কেল নিয়ে এবার সুখবর পেতে যাচ্ছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
কৃষকলীগ নেতাকে ছাড়াতে থানায় হাজির জামায়াত নেতা, অতঃপর...
দুই শতাধিক কৃষকের জমি দখলের চেষ্টা, প্রতিবাদে মানববন্ধন