ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

আনন্দ হাউজিং সোসাইটিতে বাড়ছে প্লট ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১২ পিএম
সৌজন্য ছবি

আধুনিক নগর পরিকল্পনা, আইনগত স্বচ্ছতা এবং ধারাবাহিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বয়ে পুলিশ পরিবার কল্যাণ বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের আওতাধীন আনন্দ হাউজিং সোসাইটি আবাসন খাতে একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প হিসেবে ক্রমশ বিনিয়োগকারী ও প্লট ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কারণে দেশ-বিদেশের বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ জানায়, শুরু থেকেই একটি স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যক্তি ও পরিবার এই প্রকল্পে প্লট ক্রয় করেছেন। অনেক ক্রেতা জমির বাজারমূল্য বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করায় নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যেও ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়েছে।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রকল্প এলাকায় একটি পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। সার্বক্ষণিক আইন-শৃঙ্খলা তদারকির ফলে প্রকল্পটি বিনিয়োগকারী ও ভবিষ্যৎ বাসিন্দাদের জন্য আরও নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য আবাসিক পরিবেশে পরিণত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

আবাসন খাতের সংশ্লিষ্টদের অভিমত, নগরায়ণের বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিত সড়ক ব্যবস্থা, আধুনিক নাগরিক সুবিধা এবং নিরাপদ আবাসন পরিবেশসম্পন্ন প্রকল্পের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় আনন্দ হাউজিং সোসাইটির উন্নয়ন পরিকল্পনা ও অবকাঠামোগত অগ্রগতি ভবিষ্যতে প্রকল্পটির বাজারমূল্য এবং গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বর্তমানে পল্লী বিদ্যুৎ ব্যবস্থা চলমান থাকলেও প্রকল্পের অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে শিগগিরই একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র (সাব-স্টেশন) নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি চালু হলে নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতের আবাসিক, বাণিজ্যিক ও অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একই সঙ্গে প্রকল্প বাসীদের ধর্মীয় ও সামাজিক চাহিদা বিবেচনায় একটি আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এটি শুধু ধর্মীয় উপাসনার স্থানই নয়, বরং স্থানীয় বাসিন্দাদের সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আনন্দ হাউজিং সোসাইটিতে প্রায় ৯২৭টি রেজিস্ট্রি-যোগ্য প্লট রয়েছে। এর মধ্যে ৪৬২ টি প্লটের রেজিস্ট্রি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা প্রকল্পের আইনগত স্বচ্ছতা এবং ক্রেতাদের আস্থার প্রতিফলন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অবশিষ্ট প্লটের আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রতি মাসে রেজিস্ট্রেশন প্রদান করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আনন্দ হাউজিং সোসাইটিকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও পূর্ণাঙ্গ আবাসিক কমিউনিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত সবুজ এলাকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নিরাপদ ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের জন্য আনন্দ হাউজিং সোসাইটি একটি সম্ভাবনাময় আবাসন প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। চলমান উন্নয়ন, সফল রেজিস্ট্রি কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ অবকাঠামো পরিকল্পনা প্রকল্পটির প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও শক্তিশালী করছে।

প্রকল্প কর্তৃপক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে জানিয়েছে, নির্ধারিত উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে আনন্দ হাউজিং সোসাইটি দেশের অন্যতম আধুনিক, সুপরিকল্পিত ও টেকসই আবাসন প্রকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে, এটি প্লট মালিক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে মূল্য সংযোজন এবং উন্নত জীবনযাপনের একটি মানসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রান-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচারকার্যে দেশের শীর্ষস্থানীয়রা
বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর সৃজনশীলতার বিকাশ, নতুন প্রতিভার স্বীকৃতি এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে সৃজনশীলতার নতুন সম্ভাবনা তুলে ধরার লক্ষ্যে আয়োজিত প্রান-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচারকার্যে অংশ নিয়েছেন দেশের চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ডিং, ফ্যাশন, সংগীত, মার্কেটিং ও সৃজনশীল যোগাযোগশিল্পের বিশিষ্ট পেশাজীবীরা। চূড়ান্ত বিচারকার্য অনুষ্ঠিত হয় দ্য ডেইলি স্টার কনফারেন্স হলে।
প্রান-আরএফএল প্রেজেন্টস প্রিজম এআই ক্রিয়েটিভ অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর চূড়ান্ত বিচারকার্যে দেশের শীর্ষস্থানীয়রা
জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও
জাপানের রাজধানী টোকিওতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক সেমিনার ‘ওলিস ২০২৬ অটাম’। এ সেমিনারে অংশ নিয়েছেন জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির সিইও এস এম নুরুজ্জামান। বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে এ সেমিনারে অংশ নিয়েছেন তিনি। এশিয়ার ১০টি দেশের ২৫ জন প্রতিনিধি অংশ নেন এ সেমিনারে। সেমিনারে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা জানিয়ে এস এম নুরুজ্জামান জানান, আন্তর্জাতিক এ আয়োজনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি আনন্দিত ও গর্বিত। সেমিনার থেকে বৈশ্বিক বিমাশিল্পের কার্যক্রম, উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন সম্পর্কে নতুন জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ হয়েছে। অর্জিত অভিজ্ঞতা দেশের বীমাশিল্পের উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান তিনি। এস এম নুরুজ্জামান বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স ফোরামের যুগ্ম মহাসচিব এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য। জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি জানায়, ওলিস কর্তৃপক্ষের সম্পূর্ণ অর্থায়নে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিমাশিল্পের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও পেশাগত দক্ষতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। প্রতিষ্ঠানটি আশা প্রকাশ করে, আন্তর্জাতিক এ সেমিনারে অর্জিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা দেশের বিমাশিল্পের আধুনিকায়নে কাজে লাগবে। এ অভিজ্ঞতা জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কার্যক্রমের মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করায় এস এম নুরুজ্জামানকে অভিনন্দন জানিয়েছে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। আরটিভি/এসআর
জাপানে আন্তর্জাতিক সেমিনারে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন জেনিথ লাইফের সিইও
আন্তর্জাতিক মানের ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিশ্চিতে পপুলার ও কেএনএস কানাডার নতুন সমঝোতা
পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিমিটেড ও কেএনএস কানাডা (বিডি)-এর মধ্যে ফাইব্রোস্ক্যান সেবা পরিচালনা নিয়ে নতুন করে সমঝোতা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক মানের ফাইব্রোস্ক্যান সেবা নিশ্চিতে পপুলার ও কেএনএস কানাডার নতুন সমঝোতা
শিশু চিত্রশিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিল লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল
ওয়ার্ল্ড লায়ন্স সার্ভিস ডে ২০২৬ এবং অক্টোবর সার্ভিস প্রোগ্রাম উপলক্ষে জাঁকজমকপূর্ণ সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করল লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩১৫ এ১।  এ উপলক্ষে রাজধানীর আগাারগাঁও এলজিইডি ভবন মিলনায়তনে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।  চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগীতায় ক বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে, নুসাইবা নুজহাত, ২য় স্থান আজরিন খান রূপকথা, তৃতীয় স্থান ইমাদ আলদিম তাজ৷  খ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে আফসানা মাহরিন, ২য় স্থান এমডি সাদ, তৃতীয় স্থান ওসমান গনি, গ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে হুমায়রা তাসনিম,  ২য় স্থান মাইশা হাসান, তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে রিমঝিম খান।  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা ৩১৫ এ১ এর বাংলাদেশের জেলা গভর্নর লায়ন নওজাত ইসলাম পিএমজেএফ। উদ্বোধক ছিলেন লায়ন কাজী সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন গুডউইল অ্যাম্বাসেডর ও বিএলএফ এর চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল হক, ফাস্ট জেলা গভর্নর গোলাম ফারুক, ইউসিসি গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. এম এ হালিম পাটোয়ারী,  লায়ন ডা: আবুল হোসেন খন্দকার।    অনুষ্ঠানে মূলত পারস্পরিক সহযোগিতা, ভ্রাতৃত্ব, মানবিক মূল্যবোধ ও সেবার মানসিকতাকে আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। লায়ন্স ক্লাবের সদস্যরা আগামী দিনগুলোতেও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার জোরালো অঙ্গীকার করেন। আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করা হয়। আরটিভি/এসআর
শিশু চিত্রশিল্পীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিল লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল
ওয়ালটন হাই-টেকের ২০তম এজিএম সফলভাবে অনুষ্ঠিত
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স, ইলেকট্রিক্যাল ও প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ২০তম বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অনুমোদন করা হয়। বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আকর্ষণীয় ডিভিডেন্ড দেয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন সাধারণ বিনিয়োগকারীরা। একই সঙ্গে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর নতুন শিল্প উদ্যোগের জন্য ওয়ালটন কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানান তারা। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের উপস্থিতিতে ডিজিটাল প্লাটফর্মে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম।  ভার্চুয়াল সভায় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের ভাইস-চেয়ারম্যান এস এম আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম, পরিচালক এস এম নূরুল আলম রেজভী, এস এম রেজাউল আলম, এস এম মঞ্জুরুল আলম অভি, তাহমিনা আফরোজ তান্না, রাইসা সিগমা হিমা, সাবিহা জারিন অরনা, নিশাত তাসনিম শুচি ও সাদমান সাকিব দিপ্র, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর মো. সাদিকুল ইসলাম (পিএইচডি, এফসিএমএ), আখতার মতিন চৌধুরী এফসিএ (এফসিএস), জোহরা বিবি, অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর (এএমডি) ও চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার মো. জিয়াউল আলম, এফসিএ, এসিএ (আইসিএইডব্লিউ), এএমডি ও হেড অব ইন্টারন্যাল অডিট এন্ড কমপ্লায়েন্স আবু নাফিস, কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক, কর্পোরেট গভর্নেন্স কমপ্লায়েন্স নিরীক্ষক, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, কোম্পানির ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাগণসহ বিপুল সংখ্যক শেয়ার হোল্ডারগণ। সভা সঞ্চালনা করেন ওয়ালটন হাই-টেকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম, এফসিএস। সভায় স্বাগত বক্তব্যে ওয়ালটন হাই-টেকের চেয়ারম্যান এস এম শামছুল আলম বলেন, ‘সুশাসনের শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনীতির নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা ভালো আর্থিক ফল অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় ধারাবাহিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে পরিচালনা পর্ষদ ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড সুপারিশ করেছে। ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী আর্থিক ফল অর্জনের মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় আমরা কাজ করে যাব।’ ভার্চুয়াল মাধ্যমে সভায় যোগদানপূর্বক বার্ষিক সাধারণ সভাকে সাফল্যমণ্ডিত করায় কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার, স্টেকহোল্ডারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান তিনি। ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মাহবুবুল আলম সভায় ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপনের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক সূচকের উন্নতি ও ব্যবসায়িক অগ্রগতির লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।  তিনি বলেন, ‘২০২৫-২৬ অর্থবছর ছিল বৈশ্বিক ও বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য পরিবর্তনশীল ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও ওয়ালটন ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে দক্ষ ব্যয় ব্যবস্থাপনা, দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক কৌশল, উদ্ভাবন এবং বাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।’ বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশ্যে ওয়ালটনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, ‘ওয়ালটনের বর্তমান সাফল্যকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনের জন্য নতুন সম্ভাবনা ও দীর্ঘমেয়াদি সমৃদ্ধির পথ তৈরি করতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। ব্যবসায়িক পথ চলার শুরু থেকেই দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশিয় শিল্পের বিকাশে কাজ করে যাচ্ছি। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি আমদানির নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে নিজস্ব লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।  এই প্রকল্পের মাধ্যমে ওয়ালটনই বাংলাদেশে সর্বপ্রথম বৃহৎ পরিসরে উন্নতমানের লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি উৎপাদন করতে যাচ্ছে, যা ইলেকট্রিক ভেহিকেল, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহারযোগ্য। এছাড়াও ফুয়েল চালিত জেনারেটরের বিকল্প হিসেবে বাসাবাড়িতে স্টোরেজ পাওয়ার এবং শিল্প কারখানায় এনার্জি স্টোরেজ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। এই প্রকল্প বাংলাদেশে একটি যুগান্তকারী সবুজ জ্বালানি বিপ্লব হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছে। এটি দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সর্বাধুনিক শিল্প স্বনির্ভরতা অর্জনের পথে একটি কৌশলগত উদ্যোগ, যা ভবিষ্যতে গ্রিন এনার্জি ও পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থার ভিত্তি গড়ে দেবে এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’  পণ্যের মর্যাদাকে আরও অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। আর এই সব কিছুর কৃতিত্বের অংশীদার হবেন আপনারা (বিনিয়োগকারীরা)।’ এস এম মাহবুবুল আলম আরও বলেন, ‘উদ্ভাবনের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিও ওয়ালটন দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এরই প্রেক্ষিতে ওয়ালটন কারখানায় দেশের সর্ববৃহৎ ভাসমান বা ফ্লোটিং সোলার পাওয়ার প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ওয়ালটনের সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে, যা ওয়ালটনের নিজস্ব বিদ্যুৎ চাহিদার বিশাল অংশ পূরণ করছে।  ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে এই সক্ষমতা ৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ওয়ালটনের অবদান আরও সম্প্রসারণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে ওয়ালটনের এই অগ্রগতি আমাদের সবার জন্যই গর্বের। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই শিল্পায়নের পথে আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকারেরও প্রতিফলন। বৈশ্বিক বাজার সম্প্রসারণের অগ্রগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স ব্র্যান্ড হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে ওয়ালটন। ইতোমধ্যে ওয়ালটন ঈঊ (সিই), টখ (ইউএল), ঘঙগ (এনওএম), ইওঝ (বিআইএস) এবং ঞটঠ (টিইউভি) -এর মতো বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানসনদ অর্জন করে বিশ্বের ৬৪টি দেশে পণ্য রপ্তানি ও ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। আমাদের রপ্তানি তালিকায় লিফট এবং ক্যাবলসহ নতুন নতুন পণ্য যুক্ত হচ্ছে। গ্রিন টেকনোলজি-নির্ভর আমাদের উদ্যোগগুলো ওয়ালটন পণ্যের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরো বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’ সভায় ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী, নিরীক্ষা প্রতিবেদনসহ ১৮০ শতাংশ নগদ ও ১০ শতাংশ স্টক ডিভিডেন্ড অনুমোদনের পাশাপাশি পরিচালকদের প্রতিবেদন, পুনঃনিয়োগ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পুনঃনিয়োগ, কোম্পানির সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষক, কর্পোরেট গভর্নেন্স কমপ্লায়েন্স, চার্টাড সেক্রেটারি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কনসালটেন্টের নিরীক্ষক পুনঃনিয়োগ এবং স্বতন্ত্র পরিচালক হিসেবে জোহরা বিবির নিয়োগ অনুমোদন করা হয়। পাশাপাশি ওয়ালটন হাই-টেকের রিলেটেড পার্টি ওয়ালটন প্লাজার সাথে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টার্নওভারের বিষয়টি অনুমোদন করা হয়।  আরটিভি/এসআর  
ওয়ালটন হাই-টেকের ২০তম এজিএম সফলভাবে অনুষ্ঠিত