ঢাকা সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের বড় পরিকল্পনা

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
রাজস্ব ভবনের পুরোনো ছবি

কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, করদাতা সেবার মানোন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।

এ লক্ষ্যে এনবিআর চলতি অর্থবছরের রাজস্ব কৌশল সাজিয়েছে ‘থ্রি-আর’ বা তিনটি মূলনীতির ভিত্তিতে। এগুলো হলো—রিকভারি (পুনরুদ্ধার), রেস্টোরেশন (পুনর্বহাল) এবং রিকনস্ট্রাকশন (পুনর্গঠন)।

রিকভারি কৌশলের আওতায় রাজস্ব আদায়ে গড়ে ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রেস্টোরেশন কৌশলের মূল লক্ষ্য করের আওতা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব পরিবেশ তৈরি করা। অন্যদিকে, রিকনস্ট্রাকশন কৌশলের আওতায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও স্বেচ্ছায় কর পরিপালন নিশ্চিত করে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

গত মাসে অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এনবিআরের উপস্থাপিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসব পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে সরকারি ব্যয়ের চাহিদা পূরণে এনবিআরের সক্ষমতা, কর-জিডিপি অনুপাতের ব্যবধান কমাতে গৃহীত পদক্ষেপ এবং সংস্থাটির সাংগঠনিক কাঠামো ও প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা দেওয়া হয়।

চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআর বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব সংগ্রহের পরিকল্পনাও তুলে ধরেছে।

লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে আয়কর অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) অনুবিভাগের জন্য ২ লাখ ২৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা এবং কাস্টমস অনুবিভাগের জন্য ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এনবিআরের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনে সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে বলে এনবিআর আশা করছে।’

আয়কর খাতে বাড়তি আদায়ের পরিকল্পনা
রাজস্ব আদায়ের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, আয়কর খাতে প্রবৃদ্ধি বাড়ানো, কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার, উৎসে করের আওতা সম্প্রসারণ, ব্যক্তিশ্রেণির কর কাঠামো ও বিনিয়োগে কর রেয়াতের পরিবর্তন, মূলধনি মুনাফার ওপর কর আরোপ, কর পরিপালন জোরদার এবং করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

আয়কর অনুবিভাগ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার এবং বিভিন্ন নীতিগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে চায়।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর ও ভ্রমণ কর বাবদ আদায় হয়েছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৪ হাজার ৫৫৮ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল, আয়কর গোয়েন্দা বিভাগ, আইআইসি এবং কর সার্কেলের মাধ্যমে কর ফাঁকি দেওয়া অর্থ উদ্ধার করে আরও ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। নিরীক্ষা ও আয়কর আইনের ২১২ ধারায় পুনরায় মামলা খোলার মাধ্যমে সৃষ্ট করসংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি করে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বিলম্বে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে স্বেচ্ছায় কর পরিপালনে উৎসাহিত করার মাধ্যমে আরও ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নীতিগত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ৫ শতাংশ করহার পরিবর্তন করে সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রগতিশীল করহার চালুর মাধ্যমে অতিরিক্ত ৩ হাজার কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিনিয়োগজনিত কর রেয়াতের হার ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ রেয়াতের সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

সব ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের করদাতাদের জন্য টার্নওভার কর চালুর মাধ্যমে আরও ১ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ী করদাতাদের আয়কর রিটার্নের সঙ্গে নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী ও হিসাবের বিবরণী জমা বাধ্যতামূলক করে ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ব্যবসা-থেকে-ব্যবসা (বিজনেস-টু-বিজনেস) মডেলে খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে উৎসে কর আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবাসন খাতের ডেভেলপারদের হিসাবরক্ষণে আইএফআরএস-১৫ চালুর মাধ্যমে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা এবং জমি, ফ্ল্যাট ও অন্যান্য মূলধনি সম্পদ বিক্রি থেকে অর্জিত মুনাফার ওপর নিয়মিত করহার প্রয়োগ করে আরও ৪ হাজার কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করছে এনবিআর।

ভ্যাট আদায়ে প্রবৃদ্ধি ও পরিপালনে জোর
ভ্যাট অনুবিভাগ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের পরিকল্পনা নিয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯ কোটি টাকা আদায় হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে ১০ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে অতিরিক্ত ১৫ হাজার ৬০৭ কোটি টাকা আদায়ের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) বাস্তবায়ন বাড়ার ফলে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা এবং বিড়ি ও সিগারেটসহ তামাক খাত থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। অবৈধ সিগারেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে আরও ২ হাজার ৫শ’ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া নিরীক্ষা, বকেয়া রাজস্ব আদায়, ভ্যাট নিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নজরদারি এবং কর পরিপালনের ঘাটতি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ভ্যাট অনুবিভাগের লক্ষ্য, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বিচারাধীন মামলার ৫০ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে অনিষ্পন্ন মামলার অন্তত ৯৫ শতাংশ নিষ্পত্তি করা।

কাস্টমসে ১ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য
চলতি অর্থবছরে কাস্টমস অনুবিভাগের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪০ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আদায় হয়েছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬২৩ কোটি টাকা।

নিয়মিত প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে ১১ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন পদক্ষেপ থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আদায়ের প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া বকেয়া রাজস্ব আদায়, গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রতিরোধমূলক অভিযান, পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা, নিলাম, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণ, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

পণ্য খালাস-পরবর্তী নিরীক্ষা থেকে ৫শ’ কোটি টাকা, নিলাম থেকে ৫শ’ কোটি টাকা, আমদানিপণ্যের সঠিক শ্রেণিবিন্যাস ও মূল্য নির্ধারণের মাধ্যমে ৪ কোটি টাকা, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধ করে ১ হাজার ৮শ’ কোটি টাকা এবং স্থগিত রাজস্ব আদায়ের মাধ্যমে ১৪০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
করের আওতা বাড়াতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেছেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে বাড়বে করদাতা সংখ্যা। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে কর প্রদানে সক্ষম নতুনদের করের আওতায় আনতে হবে বা করের আওতা বাড়াতে হবে অর্থনীতিতে অধিক মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে করের আওতা বাড়বে এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের জন্য রাজস্ব আহরণ সহজ হবে। তিনি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে টেকসই করতে পেশাজীবীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) ঢাকার এক হোটেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম (মাস্টার অব ট্যাক্স ম্যানেজমেন্ট) অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ‘৩য় অভিষেক অনুষ্ঠান ও এমটিএম নাইট ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এটি শুধু অর্থনীতির আকার বাড়ানোর লক্ষ্য নয়, বরং উৎপাদনমুখী, বিনিয়োগবান্ধব, কর্মসংস্থানসমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার অঙ্গীকার। এ লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিল্পায়ন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রতিটি পেশাজীবীর নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রের ছোট ছোট অবদান সম্মিলিতভাবে জাতীয় সাফল্যে রূপ নেয়। তিনি বলেন, একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি শুধু উৎপাদন ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করে না। কার্যকর রাজস্ব আহরণ, সুশৃঙ্খল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও এর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে কর ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা পেশাজীবীদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কর-জিডিপি অনুপাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ, যেখানে ভারত ও চীনে তা যথাক্রমে প্রায় ১২ ও ২০ শতাংশ। বাংলাদেশে কর প্রদানকারীর সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম। উন্নত দেশের মতো রাষ্ট্রীয় সেবা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হলে রাজস্ব আহরণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার আনতে হবে। করদাতাদের হয়রানিমুক্ত সেবা দিতে হবে এবং কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের যথাযথ ব্যবহার সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে বিনিয়োগের বিপরীতে প্রত্যাশিত সুফল বা রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট (জঙও) বিবেচনা করা প্রয়োজন। সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে জনগণের স্বার্থ ও বাস্তব ফলাফলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের বিষয়টি উল্লেখ করে জনপ্রশাসন উপদেষ্টা বলেন, অর্থনীতির গণতন্ত্রায়ণের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি নাগরিকের উৎপাদনশীল সক্ষমতাকে কাজে লাগানো। আর্থিক খাতের পেশাজীবীদের দায়িত্ব হলো মানুষের এই সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা এবং উদ্যোক্তা ও উৎপাদনশীল উদ্যোগকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করা। এমটিএম অ্যালামনাই সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে পেশাগত সততা, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার পরিচয় দিতে হবে। করসংক্রান্ত জটিলতা কমানো, ডিজিটাল করব্যবস্থা সম্প্রসারণ, রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ এবং করদাতাদের সেবার মান উন্নয়নে সরকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে কর বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে অ্যালামনাই সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।  উপদেষ্টা আরও বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার কর প্রশাসনকে আরও দক্ষ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। এ জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এমটিএম অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বিভিন্ন পর্যায়ের অ্যালামনাই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আরটিভি/টিআর
করের আওতা বাড়াতে হবে: জনপ্রশাসন উপদেষ্টা
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে নতুন অধ্যাদেশ জারি
নতুন বিধান অনুযায়ী, সাধারণ নিবন্ধিত, তালিকাভুক্ত, নিবন্ধনযোগ্য বা তালিকাভুক্তিযোগ্য ব্যক্তিকে কর মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
ভ্যাট রিটার্ন দাখিলে নতুন অধ্যাদেশ জারি
সোনাহাট স্থলবন্দরে ৭ দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি  
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ নীল মাছরাঙা। উজ্জ্বল নীল ও সবুজাভ পালক, কমলা রঙের বুক এবং লম্বা কালো ঠোঁটের কারণে সহজেই নজর কাড়ে পাখিটি।
সোনাহাট স্থলবন্দরে ৭ দিন বন্ধ থাকবে আমদানি-রপ্তানি  
জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াল এনবিআর
চলতি অর্থ বছরের জুলাই ও আগস্ট ইভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কোনো প্রকার জরিমানা ছাড়াই ওই মাসের ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবে প্রতিষ্ঠানগুলো।
জুলাই-আগস্টের অনলাইন ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের সময় বাড়াল এনবিআর
ভ্যাট আদায়ে বড় সাফল্য চট্টগ্রামের
উচ্চ ঝুঁকির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নজরদারি, নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়ার সুফল মিলেছে চট্টগ্রামে।
ভ্যাট আদায়ে বড় সাফল্য চট্টগ্রামের
আরও পড়ুন
যুব উন্নয়নের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় বরখাস্ত এনবিআরের ২ কর্মী 
চা খাতের উন্নয়নে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’
বিটিআরসির নতুন পরিকল্পনায় ঝুঁকিতে বাটনফোন
তুলা উৎপাদন নিয়ে সরকারের ‘বড় পরিকল্পনা’