ঢাকা সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ভ্যাট আদায়ে বড় সাফল্য চট্টগ্রামের

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪০ পিএম
কাস্টমস হাউজের পুরোনো ছবি

উচ্চ ঝুঁকির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে নজরদারি, নতুন প্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থাপনায় জোর দেওয়ার সুফল মিলেছে চট্টগ্রামে। এসব উদ্যোগের ফলে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয় চট্টগ্রামের রাজস্ব আদায় এক বছরে বেড়েছে ১ হাজার ৭৯৮ কোটি টাকার বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি মোট ১৮ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট কার্যালয় চট্টগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভ্যাট, আবগারি শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক এবং জরিমানা খাতে মোট রাজস্ব আদায় হয়েছিল ১৬ হাজার ৬৩৭ কোটি ৮৬ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৪৩৫ কোটি ৮৮ লাখ ৪৫ হাজার টাকায়। অর্থাৎ রাজস্ব আদায় বেড়েছে ১ হাজার ৭৯৮ কোটি ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২২ হাজার ৭৯৫ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৩৫৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৯ দশমিক ১২ শতাংশ কম, তবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১১ দশমিক ৭ শতাংশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কাস্টমস এক্সাইজ ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনার শেখ আবু ফয়সল মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশে আমদানি-রপ্তানি কমেছে, এর প্রভাবও পড়েছে ভ্যাটের ওপর। বর্তমান সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের অবস্থা মন্দা, তাই ভ্যাট আদায় কম হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ভ্যাট বৃদ্ধির জন্য। ব্যবসায়ীদের বুঝিয়ে ভ্যাট বেশি আদায় করার পন্থা অবলম্বন করতে বলেছি কর্মকর্তাদের। এতে আগামীতে ভ্যাট আদায় বাড়বে।

চট্টগ্রামে ভ্যাট আদায়ের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭০২ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ওই মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৩০ শতাংশ। তবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় কম হয়েছে ৩০০ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগস্টে আদায় হয়েছে ১ হাজার ২৮৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। এ মাসে আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র দশমিক ৯৪ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি ছিল ৩১৩ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়। ওই মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ হাজার ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৮১ কোটি ৩৪ লাখ টাকা বা ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ বেশি। একইসঙ্গে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ২৪ কোটি ৫৩ লাখ টাকা বেশি আদায় হয়েছে।

তবে পরবর্তী মাসগুলোতে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যমাত্রার ঘাটতি দেখা যায়। অক্টোবরে ১ হাজার ৪১৩ কোটি ৭৭ লাখ, নভেম্বরে ১ হাজার ৩৮৯ কোটি ৮৪ লাখ এবং ডিসেম্বরে ১ হাজার ৭৫২ কোটি ৯৩ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। জানুয়ারিতে আদায় হয় ১ হাজার ৪১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৪১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। মার্চে রাজস্ব আদায় নেমে আসে ১ হাজার ২৬০ কোটি ৪০ লাখ টাকায়। এ মাসে আগের বছরের তুলনায় আদায় কমেছে ১৪৮ কোটি ৪৬ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৫৪ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতি ছিল ৭৮২ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

এপ্রিল ও মে মাসে অবশ্য আগের বছরের তুলনায় রাজস্ব আদায়ে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এপ্রিলে ১ হাজার ৬৮৪ কোটি ৮২ লাখ এবং মে মাসে ১ হাজার ৪১৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকা আদায় হয়। জুনে আদায় হয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৫২ শতাংশ বেশি।

কমিশনার শেখ আবু ফয়সাল মোহাম্মদ মুরাদ বলেন, করজালের বাইরে থাকা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং ভ্যাট ফাঁকি ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর ফলে আদায়ের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে। বিশেষ করে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বা রিস্ক প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে উচ্চ ঝুঁকির প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করে তাদের লেনদেন ও ভ্যাট রিটার্ন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে নিবন্ধনের আওতায় আনায় রাজস্ব আদায়ের ভিত্তিও বড় হয়েছে।

তিনি জানান, একই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরও কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সরকারি সংস্থা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও এনজিওসহ কর্তনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ভ্যাট আদায় নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি কর ফাঁকি এবং দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা ভ্যাট বকেয়া আদায়েও বিশেষ কার্যক্রম চলছে। সূত্র: বাসস

আরটিভি/আইএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের বড় পরিকল্পনা
কর প্রশাসনে বিনিয়োগ, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তির ব্যবহার, করদাতা সেবার মানোন্নয়ন এবং কর পরিপালন নিশ্চিত করার মাধ্যমে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
রাজস্ব বাড়াতে এনবিআরের বড় পরিকল্পনা
ওভারফ্লাই ফি থেকে শাহজালালের রেকর্ড আয়: এক বছরে ৮০৫ কোটি
বাংলাদেশের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর যাতায়াত (ওভারফ্লাই) থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করেছে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। বিগত অর্থবছরে (জুলাই থেকে জুন) কেবল ওভারফ্লাই ফি বাবদ বিমানবন্দরে মোট আয় হয়েছে ৮০৫ কোটি ১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ টাকা ২০ পয়সা। 
ওভারফ্লাই ফি থেকে শাহজালালের রেকর্ড আয়: এক বছরে ৮০৫ কোটি
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত, ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন
বিস্কিট ও ব্রেডের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখার বিষয়ে সম্মত হয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতারা। একই সঙ্গে বেকারি পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ ব্যয়, কাঁচামালের দাম, কর ও শুল্কসহ অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত স্থগিত, ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন
জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন
অনলাইনভিত্তিক তৈরি পোশাক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান জে-ক্রিয়েশনের প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন করেছে কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ঢাকা (পশ্চিম)।
জে-ক্রিয়েশনের ৩ কোটি ৭৬ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি উদঘাটন
ইউনিয়ন পর্যায়েও বসছে ভ্যাট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা
প্রান্তিক পর্যায়ের ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ব্যবস্থার আওতায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
ইউনিয়ন পর্যায়েও বসছে ভ্যাট, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য মাসে ৫০০ টাকা