
চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আলবেরুনী হলের প্রভোস্ট অফিসে ছাত্রলীগের তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ৮টায় প্রভোস্ট অফিসে তালা দেয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এরপর চার দফা দাবিতে প্রভোস্টের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেয় তারা।
হল অফিস ও রেজিস্ট্রার অফিসসূত্রে জানা যায়, আলবেরুনী হলে পেশ ইমাম, অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী মোট তিনটি পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী পদের বিপরীতে যথাক্রমে ১৯ জন ও ১৫ জন চাকরিপ্রত্যাশী আবেদন করেন। গতকাল বুধবার এ দুটি পদে সাক্ষাৎকারের দিন নিধার্রণ করা হয়। তবে সকাল সাড়ে ৮টায় হল অফিসে এসে তালা ঝুলানো দেখতে পান প্রভোস্ট অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইন। পরে দুপুর ২টায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিত করা হয়।
হলের শিক্ষার্থীরা বলছেন, ‘হল প্রভোস্টকে নিয়মিত অফিসে পাওয়া যায় না। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজ স্বাক্ষর করানোর জন্য তার বাসায় যেতে হয়। হলের পুকুর বহুদিন যাবৎ মশার কারখানা। বার বার বলা হলেও তিনি কোন পদক্ষেপ নেননি। হলের কাজ অর্ধেক বাকি থাকলেও কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। হলের সামনে রাস্তার কাজে উদাসীনতা দেখিয়েছেন।’
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অফিস সহকারী ও নিরাপত্তাকর্মী দুটি পদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে আট লাখ করে মোট ১৬ লাখ টাকা নিয়েছে হল প্রশাসন। আর ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় পেশ ইমাম পদে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে ১৭ লাখ টাকার ‘ডিল’ করে হল ছাত্রলীগ। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তাকর্মী ও অফিস সহকারী পদে নিজেদের প্রার্থীকে নিয়োগের দাবি জানায় ছাত্রলীগ। আর পেশ ইমাম পদে প্রভোস্টের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার প্রস্তাব করে। এ নিয়ে হল প্রশাসন ও ছাত্রলীগের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ছাত্রলীগের প্রস্তাব গ্রহণ না করায় শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনাম, নাহিদ ও যুগ্ম সম্পাদক চিন্ময় সরকারের নেতৃত্বে হল অফিসে তালা দেয় নেতাকর্মীরা।
তবে নিয়োগ বাণিজ্যের বিষয়টি অস্বীকার করে শাখা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও আলবেরুনী হল ছাত্রলীগ নেতা এনামুল হক এনাম বলেন, ‘নিয়োগ এবং নিয়োগে লেনদেনের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আজ সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর হলের সামনে জটলা দেখতে পাই। পরে জানতে পারি বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা দিয়েছে। এগুলো ছাত্রদের দীর্ঘদিনের দাবি। ছাত্রলীগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলোর সঙ্গে একমত। তাই ছাত্রলীগ কর্মীরাও সেখানে ছিল।’
এ ব্যাপারে হল প্রভোস্ট সিকদার মো. জুলকারনাইন বলেন, ‘আমি বোর্ডে উপস্থিত থাকতে না পারায় নিয়োগ বোর্ড স্থগিত হয়ে যায়। বিষয়টি আমার জন্য খুবই বিব্রতকর। পরিস্থিতি এখন এমন হয়ে গেছে যে কোনো নিয়োগ বোর্ড থাকবে না। তারা যাকে নিয়োগ দিতে বলবে তাকেই নিয়োগ দিতে হবে। একটা ছেলে অলরেডি মাস্টাররোলে কাজ করতেছে, ছাত্রলীগের দাবি অনুযায়ী তাকে নেয়া যাবে না। তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দিতে হবে। আমিতো নিয়োগকর্তা না। নিয়োগবোর্ডে একজন প্রধান থাকেন, সিন্ডিকেট প্রতিনিধি থাকেন। এখানে আমার একার কিছু করার নেই।’




