ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ফেসবুকে হা হা রিঅ্যাক্ট দিতে ‘না’, অতঃপর... 

ববি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:২০ এএম
ফাইল ছবি

ফেসবুকে হা হা রিঅ্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) দুই শিক্ষার্থীর মাঝে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি ক্যাম্পাস সংলগ্ন ভোলা রোডের ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারামারিতে একজনকে চোখে আঘাত করা হলে রক্তজমাট বেধে যায়। অপরজনের হাতের আঙুলে কামড়ের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বেশ সরগরম।

পরে আহত দুই শিক্ষার্থীকে বরিশাল শেরে-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। আহত দুজনই ববির বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তারা হলেন, শান্ত ইসলাম আরিফ ও জাকির হোসেন।

জানা গেছে, শান্ত ইসলাম আরিফের ছবিতে জাকির হোসেন হা হা রিয়েক্ট দেওয়ায় দুজনের মাঝে মেসেঞ্জারে কথা কাটাকাটি হয় এবং একে অপরকে হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে তারা ভোলারোড আসে এবং জাকির ও শান্তর মাঝে মারামারি হয়। এ সময় জাকির হোসেনের মুখমণ্ডলে ঘুষি মারেন শান্ত। অপরদিকে শান্তর হাতের আঙুলে কামড় দেয় জাকির।

প্রত্যক্ষদর্শী রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী জানান, আমি বাজার করতে গিয়ে দেখি তারা কথা কাটাকাটি করছে। এক পর্যায়ে কিলঘুষি মারছে। সবাই মাইর খাইছে। তবে কি কারণে এমন হয়েছে তা আমি জানি না। পরে শুনি ফেসবুকে হা হা রিঅ্যাক্টকে কেন্দ্র করে তারা মারামারি করেছে। একজনের চোখে বেশি ব্যাথা পেয়েছে আরেকজনের চোখের নিচে রক্তজমে গেছে।

এদিকে মারামারি শেষে সবাই হাসপাতালে না গিয়ে তাদের বাসায় চলে যায়। তখন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একাংশ থেকে হাসপাতালে যেতে বললে অস্বীকৃতি জানায় জাকির। তখন হাসপাতালে না গেলে ছাত্রলীগের ওই একাংশ পুণরায় জাকিরকে মেরে হাসপাতালে পাঠাবে বলে হুমকি দিলে জাকিরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে নিয়ে শেবাচিমে ভর্তি করা হয়। এমন তথ্য আসে প্রতিবেদকের কাছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বাংলা বিভাগের গোলাম রসূল একটি হোটেলে ৯ হাজার টাকার মত বাকি করেছে। হোটেলের মালিক এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ দিবে; এই কথা শুনতে পেরে গোলাম রসূলকে বিষয়টি শান্ত জানায়। শান্ত ও গোলাম রসূলের মাঝে আগেও দ্বন্দ্ব ছিল। এই নিয়ে গোলাম রসূলের সমালোচনা করেন শান্ত। তখন জাকিরকে শান্তর বিরুদ্ধে উত্তেজিত করে গোলাম রসূল, এমনটাই মনে করেন অনেকে। এ ঘটনার পরের দিন ফেসবুকে ছবিতে হা হা দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মাঝে সংঘাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সেদিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিজেদের মাঝে মারামারি হলে সবাই মিলে ছাড়িয়ে দেয়। কার দোষ বা কার গুণ সেটা তো আমরা বলতে পারব না।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম রসূল এই মারামারির সঙ্গে জড়িত না থাকার দাবি করে বলেন, আমার কাছে এক দোকানদার কিছু টাকা পাবে। আমি তার নিয়মিত ক্রেতা। টিউশনির টাকা পেলে সেটা পরিশোধ করে দেব। এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়। এসব বিষয়ে কারও সঙ্গে আমার ঝামেলা হয়নি। আমি ভোলা রোডে সবজি কিনতে গেছিলাম, আমি দোকানে ছিলাম, তখন দেখি ওদের মাঝে ঝামেলা হচ্ছে আমি গিয়ে ছাড়িয়ে দেই।

এ ঘটনায় শান্ত বলেন, জাকির দীর্ঘদিন যাবৎ নানাভাবে আমাকে উত্যাক্ত করে আসছিল। মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) জাকির পরিকল্পিতভাবে আমার পোস্টে হা হা রিঅ্যাক্ট দেয়। আমি মেসেজ দিয়ে জাকিরকে রিঅ্যাক্ট রিমুভ করার জন্য অনুরোধ জানাই। কিন্ত জাকির রিঅ্যাক্ট রিমুভ না করে আমাকে গালি ও হুমকি দেয়। উসকানি দিয়ে আমার বাসা সংলগ্ন ভোলার রোডে ডেকে নিয়ে যায়। আমার কাছে এসবের স্ক্রিনশট রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভোলারোড যাওয়ার পর অকথ্য ভাষায় আমাকে গালি দেয়। আমি প্রতিবাদ করলে দুইজন আমার ওপর আতর্কিতভাবে আক্রমণ করে। গোলাম রসূল আমাকে ধরে রাখে আর জাকির কিল ঘুষি দিয়ে আঘাত করে। আমি একা ছিলাম, আত্মরক্ষার জন্য আমিও হিট করি। তখন জাকির আমাকে কামড় দেয়।

শিক্ষার্থী জাকির বলেন, আমি শান্তর একটা ছবিতে ভুলে ‘হা হা’ রিঅ্যাক্ট দিয়েছিলাম। ও আমাকে সেটা রিমুভ করতে বলেছিল। কিন্তু আমার ফোনে এমবি ছিল না। শুরুতে আমি মশকরা করে বলেছিলাম, তুই আমাকে মারবি? পরে আমি কোথায় আছি তা জানতে চায় শান্ত। তখন শান্তকে বলি, ‘আমি ভোলার রোডে আছি।’ তারপর অল্প সময়ের মধ্যে আসলে, আমি ওরে বন্ধু বলে সম্বোধন করি কিন্তু শান্ত আমার কথা না শুনে চোখে ঘুষি মারে। ঘুষির আঘাতে আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বেধড়ক মারতে থাকে আমাকে। তখন গোলাম রসূল এসে ছাড়িয়ে দিয়ে আমাকে রক্ষা করে। হাতে কামড় দেওয়ার বিষয় অস্বীকার করে বলেন, এগুলো সব বানোয়াট। দরকার হলে ফরেনসিক রিপোর্ট করে দেখুন।

ববির বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা পম্পা রানী মজুমদার বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা আমাদের শিক্ষার্থী। তাদের সঙ্গে আমার মৌখিকভাবে কথা হয়েছে। আমরা চাই সব শিক্ষার্থী ভালো থাকুক। এখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কোনো শিক্ষক বরিশালে নেই। খুব শিগগিরই আমরা বিষয়টির সমাধান করবো।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. আব্দুল কাইউম বলেন, আমাকে সেদিন রাত ১২টার দিকে এক শিক্ষার্থী ফোন করে বলেছিলেন আমাদের এক শিক্ষার্থী খুব অসুস্থ। অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন। আমি অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিলাম। সকালে জানতে পারি মারামারি হয়েছিল। আমি তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি।

কোনো অভিযোগ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নেব। শিক্ষার্থীদের সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সব সময় তাদের পাশে আছে।

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
২০২৩ শেষ হয়ে ২০২৪ সালের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। বিগত ২০২৩ সালে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বশেমুরবিপ্রবি) ঘটে গেছে নানা ঘটনা। এর মধ্যে কিছু সুখস্মৃতি, কিছু বেদনাদায়ক। সবকিছু মিলিয়ে তুলে ধরা হলো ২০২৩ এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।  জানুয়ারি বছরের শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ জন শিক্ষার্থী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে মনোনীত হয়। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে বশেমুরবিপ্রবি পায় প্রথম কোষাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. মোবারক হোসেন এই পদে নিয়োগ পান। জানুয়ারি মাসেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে কোনো বিভাগ মেয়েদের জন্য কমন রুম চালু করে। বাংলা বিভাগের এই উদ্যোগ ভূয়সী প্রশংসা পায়। ক্যাম্পাসে ইতিবাচক সংবাদের পাশাপাশি নেতিবাচক সংবাদও প্রকাশিত হয়, গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষিত হয় শৌচাগারে। ২৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে ১৫তম সহকারী জজ নিয়োগে উত্তীর্ণ হন আইন বিভাগের আনিচ মুন্সী।  ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে নিয়োগের নামে টাকা আত্মসাতের ঘটনায় খবর প্রকাশিত হয়। মাস্টাররোল কর্মচারীদের নিয়োগের নামে আকাশ শিকদার ও তার সিন্ডিকেট এই বাণিজ্য করেন। ১৩ই ফেব্রুয়ারী বশেমুরবিপ্রবি ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়। দীর্ঘ প্রতিরক্ষার পরে চালু হয় কেন্দ্রীয় ক্যাফেটেরিয়া।  মার্চ এত এত খবরের মধ্যে মার্চের শুরুতে ঘটে বেদনাদায়ক ঘটনা, ভালোবেসে বিয়ের এক বছরের মাথায় পারিবারিক কলহের জেরে ফ্যানের সাথে ঝুলে আত্মহত্যা করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নোভা ইয়াসমিন। ৪ জন শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে।  বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে প্রথমবারের মত আয়োজিত হয় স্বেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন "বাঁধনের" আয়োজনে ৫ দিনব্যাপী বইমেলা। ৮ জানুয়ারি বিশ্ব নারী দিবসে ঋতুস্রাবকালীন নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলিন্টিয়ার ফর বাংলাদেশের উদ্যোগে স্থাপিত হয় প্যাড ব্যাংক। প্রকাশিত হয় পরিবহন খাতে অতিরিক্ত বিল দেখিয়ে টাকা ভাগাভাগির খবর। আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে ৩ কোটি টাকার অডিট আপত্তি দেখানো হয়। দেশব্যাপী ১২টি আইসিটি পার্ক স্থাপনের লক্ষ্যে বশেমুরবিপ্রবিতে উদ্বোধন করা হয় নলেজ পার্কের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন।  এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কমিটিহীন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বশেমুরবিপ্রবি শাখা, কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কেন্দ্র থেকে নোটিশ দিয়ে ছাত্রলীগের পদপ্রার্থীদের সিভি আহ্বান করে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ। ছাত্রী হলে মেয়েদের পোষাক পরিহিত চোর আটকের ঘটনা ঘটে মাসের শেষের দিকে। মে মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য মনোনীত হয় ৪ শিক্ষার্থী, তদন্ত কমিটির দীর্ঘসূত্রিতায় এই পদক থেকে বঞ্চিত হয় কৃষি অনুষদ। মার্ক টেম্পারিং এর অভিযোগ উঠে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৎকালীন সভাপতি ড. মো. আবু সালেহ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. হাসিবুর রহমানের বিরুদ্ধে। তেল ক্রয় না করেও ভুয়া ভাউচারে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠে বাস চালক আতিকুর রহমান ঝন্টুর বিরুদ্ধে, প্রেসক্লাব থেকে অডিও রেকর্ড প্রকাশের পরে গঠন করা হয় তদন্ত কমিটি।  জুন নিজ ক্যাম্পাসে বিয়ের গায়ে হলুদ হয় এনিম্যাল সায়েন্স এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) বিভাগের শিক্ষার্থী মিমের। জুলাই তীব্র শিক্ষক সংকটে একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। শিক্ষক-কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান বশেমুরবিপ্রবির সাবেক ৩ শিক্ষার্থী। খবর প্রকাশিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠিত একমাত্র ইনস্টিটিউট নিয়ে, বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি ধুঁকতে থাকে অবহেলায়। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স এসোসিয়েশনের নির্বাচনে মহাসচিব হিসেবে নির্বাচিত হন ডেপুটি রেজিস্ট্রার (একাডেমিক) নজরুল ইসলাম হীরা।  আগস্ট শোকের মাসের শুরুতেই ঘটে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে একটি ভয়াবহ ঘটনা, লেকের পানিতে ডুবে প্রাণহানি ঘটে পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের দুই শিক্ষার্থী হিয়া ও ঋতুর। শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আমরণ অনশন করে ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা, একাত্মতা ঘোষণা করে বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাব। প্রথমবারের মত ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন হয়। বিজিই বিভাগ থেকে বৃক্ষরোপণের পুরস্কার হিসেবে বঙ্গবন্ধু কর্ণারের ঘোষণা দেওয়া হয়।  সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরির জন্য ভেঙে ফেলা প্রধানমন্ত্রীর নামফলক, শেখ হাসিনা চত্বর নামে পরিচিত ফলকটি ভাঙার ঘটনায় তদন্তে গড়িমসি করে প্রশাসন। মার্ক টেম্পারিং ঘটনা ধামাচাপা দিতে তৎপরতা দেখা যায়, কোর্স শিক্ষক পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হালিমা খাতুন ও তৎকালীন ইইই (সি) বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ শাহজাহানের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠে। ল্যাব, শ্রেণি সংকটসহ পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার দাবিতে ৯ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করে ফার্মেসী বিভাগের শিক্ষার্থীরা।  অক্টোবর মাসের শুরুতে বিভিন্ন দাবিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেয় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষক সমিতি। ফার্মেসী বিভাগের আন্দোলনে বন্ধ হয় প্রশাসনিক কার্যক্রমও। বিশ্বসেরা গবেষকদের তালিকায় জায়গা করে নেয় বশেমুরবিপ্রবির দুই শিক্ষক। জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপে ১১ জন শিক্ষার্থী মনোনীত হন। প্রতিষ্ঠার একযুগ পরে প্রথমবারের মত উপ-উপাচার্য নিয়োগ পায় বশেমুরবিপ্রবি, হযরত শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৈয়দ সামসুল আলমকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।  নভেম্বর জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড পায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী রিয়াজ। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবম ব্যাচের (২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষ) শীত বরণ উৎসব "উষ্ণতার খোঁজে নবনীতক" অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বনের কারণে মনোবিজ্ঞান বিভাগের ৪ শিক্ষার্থী হয় সাময়িক বহিষ্কার।  ডিসেম্বর সাহসী ক্যাম্পাস সাংবাদিকতার পুরস্কার পান বশেমুরবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি কে. এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফ, ইউনিভার্সিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (ইউজেএফ) কর্তৃক এই পুরস্কার দেওয়া হয়। দুর্বৃত্তদের হামলায় বশেমুরবিপ্রবি শিক্ষার্থী আহসান উল্লাহ গুরুতর আহত হয়। হাজবেন্ড্রি কাউন্সিল বাতিলের দাবিতে প্রাণিসম্পদ সচিবের কুশপুত্তলিকা দাহ করে ভেটেরিনারি বিভাগের শিক্ষার্থীরা, দেওয়া হয় মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের হুমকি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন চীফ ইঞ্জিনিয়ার এস এম এস্কান্দার আলী।
বশেমুরবিপ্রবিতে বছরজুড়ে যা ছিল আলোচনায়
ডিজিটাল নথির যুগে প্রবেশ করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
হিসাবাধ্যক্ষ অফিসের বাজেট শাখার একটি ডিজিটাল নথি (ডি-নথি) অনুমোদনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিজিটাল নথির যুগে প্রবেশ করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম ডিজিটাল নথির (ডি-নথি) আনুষ্ঠানিক অনুমোদন করেন। এর আগে গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) মিলনায়তনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-নথির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।  ডি-নথি অনুমোদনের সময় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক শেখ মো. মনজুরুল হক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. রাশেদা আখতার, রেজিস্ট্রার আবু হাসান, আইআইটির পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক অধ্যাপক ড. এম. শামীম কায়সার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপাচার্য বলেন, সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপকল্প ‘স্মার্ট সিটিজেন’, ‘স্মার্ট গভর্নমেন্ট’, ‘স্মার্ট ইকোনমি’ এবং ‘স্মার্ট সোসাইটি’- এই ৪টি স্তম্ভের ওপর নির্মিত। স্মার্ট জনশক্তি তৈরির প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে অনলাইন প্রকাশনা পোর্টাল, একাউন্টিং সিস্টেম অটোমেশন এর মতো কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। ডি-নথি ব্যবস্থাপনা চালু করার মধ্য দিয়ে দাপ্তরিক ফাইল ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ আরও সহজ হবে।  
ডিজিটাল নথির যুগে প্রবেশ করল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল (তালিকা)
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি বাড়িয়ে নতুন করে ২০২৪ সালের শিক্ষাপঞ্জিকা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। শিক্ষকদের দাবির মুখে ১৬ দিন ছুটি বাড়ানো হয়। রোববার (৩১ ডিসেম্বর) ডিপিই থেকে নতুন করে ছুটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। নতুন তালিকা অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবার ছাড়া মোট ৭৬ দিন বন্ধ থাকবে প্রাথমিক বিদ্যালয়।   চাঁদ দেখার ওপর ধর্মীয় উৎসবের ছুটি নির্ভর করবে। জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ মর্যাদায় বিদ্যালয় পর্যায়ে পালন করতে হবে। প্রধান শিক্ষকের সংরক্ষিত ছুটি থানা/উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমোদনক্রমে ভোগ করতে হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছুটি বাড়ল (তালিকা)
নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
সরকারের দেওয়া ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে যাবে নতুন বই।  রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হল থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিয়ে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তিনি। শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির সভাপতিত্বে নতুন বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের পর নতুন বছরের প্রথম দিন অর্থাৎ সোমবার এক জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে কেন্দ্রীয় পাঠ্যবই উৎসব উদযাপন করবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কারিগরি, মাদরাসাসহ বিভিন্ন স্তরে ৩ কোটি ৮১ লাখ ২৮ হাজার ৩২৪ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৩০ কোটি ৭০ লাখ ৮৩ হাজার ৫১৭টি পাঠ্যবই বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে। যার বাজারমূল্য ১৪শত কোটি টাকারও বেশি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব সোলেমান খান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ফরহাদুল ইসলাম প্রমুখ। আগামী ১ জানুয়ারি সারাদেশের স্কুলগুলোতে বই উৎসব উদযাপনের নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে সরকারি-বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই বিতরণ করবেন। পাঠ্যবই বিতরণের মাধ্যমে বই উৎসব উদযাপনের ব্যবস্থা নিতে স্কুলগুলোকে এক নির্দেশনা দিয়ে আদেশ জারি করে তা সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক, নিম্নমাধ্যমিক স্কুল এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজগুলোর প্রধানদের পাঠানো হয়েছে।   নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, মাঠ পর্যায়ের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নিজ নিজ কর্মস্থলে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর মধ্যে যথা নিয়মে বই বিতরণ করবেন। প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে বই বিতরণ কাজ শুরুর সম্মতি দিলে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গত সোমবার নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বই উৎসব আয়োজনের ব্যবস্থা নিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে নির্দেশ নিয়ে আদেশ জারি করেছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।
নতুন বই বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী
বিসিএসের আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে যেদিন
৪৬তম বিসিএসের আবেদন আগামীকাল রোববার (৩১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় শেষ হচ্ছে। গত ১০ ডিসেম্বর শুরু হয় এ আবেদন প্রক্রিয়া। ৪৬তম বিসিএসে ৩ হাজার ১৪০ জন বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ দেওয়া হবে। পিএসসি জানায়, ১০ ডিসেম্বর থেকে ৪৬তম বিসিএসের আবেদন শুরু হয়। আবেদনের জন্য প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে। যাদের জন্মতারিখ ১৯৯৩ সালের ২ নভেম্বর এবং ২০০২ সালের ২ নভেম্বরের মধ্যে, তারা আবেদন করতে পারবেন। তবে বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রার্থী ও বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের প্রার্থীদের জন্য সর্বোচ্চ বয়স ৩২ বছর। ৪৬তম বিসিএসের আবেদনের সময় বাড়বে কি না, সে বিষয়ে রোববার কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পিএসসি।  পরীক্ষা শাখার কর্মকর্তারা বলছেন, ৪৫তম বিসিএসে আবেদন পড়েছিল ৩ লাখ ১৮ হাজার। এবার ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত আবেদন পড়েছে ১ লাখ ৪৩ হাজার প্রার্থী। গত বিসিএসের তুলনায় আবেদন কম পড়েছে। এমনকি গত সাতটি সাধারণ বিসিএসের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন আবেদনের হার। হরতাল, অবরোধ ও জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে এবার আবেদন কম পড়ছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে অনেক শিক্ষার্থী স্নাতক বা সম্মান কিংবা সমমানের পড়াশোনা নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেননি। ফলে আবেদনে সাড়া কম। এই অবস্থায় আবেদনের সময় বাড়ানোর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে আনন্দ কুমার বিশ্বাস বলেন, ৪৬তম বিসিএসের আবেদনের সময় আর বাড়ছে না, এটা ধরে নিয়েই প্রার্থীদের আবেদন করার অনুরোধ করব। রোববার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবেদন চলবে। এরপর টেলিটক আমাদের চূড়ান্ত আবেদনকারীর সংখ্যা জানাতে পারবে। আবেদনের সময় বাড়বে কি না তা রোববার বলা যাবে।
বিসিএসের আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে যেদিন
আরও পড়ুন
শীতকালীন অবকাশেও ববির রিডিং রুমে শিক্ষার্থীদের ভিড়
সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ববি শিক্ষার্থী রাফির
ববির নতুন প্রক্টর আবদুল কাইয়ুম 
লাকড়ি শুকানোকে কেন্দ্র করে মারামারি, প্রাণ গেল লন্ড্রি ব্যবসায়ীর