ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

রাবিতে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে ফের মানববন্ধন 

রাবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি : আরটিভি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আবারও মানববন্ধন করা হয়েছে।

বুধবার (১১ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে এই মানববন্ধন করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে প্রতিবাদ জানান তারা।

মানববন্ধনে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক গেলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু বলেন, গত জুলাই আন্দোলনে ২০ হাজারেরও বেশি ভাই আহত হয়েছেন। তাদের এই ত্যাগের কারণে আমরা এক নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। আমরা এমন একটি বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম যেখানে শিক্ষার্থীরা মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সুযোগ-সুবিধা পাবে। কিন্তু আপনারা আজ একটু খোঁজখবর নিলে দেখবেন, কয়েকজন শিক্ষক ছাড়া বাকি সবাই কোনো না কোনো ভাবে আত্মীয়তার বন্ধনে আবদ্ধ। এই আত্মীয়তার বন্ধন এখনই সময় ভেঙে ফেলার।

তিনি আরও বলেন, আমাদের বুকে যতক্ষণ পর্যন্ত রক্ত ও শক্তি আছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকবো। ইনশাল্লাহ! আমাদের লড়াই এখনো শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশ দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন হওয়ার পরেও এখন আমাদের রাস্তায় দাঁড়ানো দুঃখজনক।

এ সময় উম্মে সালমা নামের তৃতীয় শ্রেণির এক কর্মকর্তা বলেন, আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেলে যাই তখন দেখি এই বাচ্চারা পোষ্য কোটা নিয়ে কথা-বার্তা বলছে। তখন আমি রিকশা থেকে নেমে দাঁড়িয়ে যাই। তাদের কষ্ট দেখে আমার বুকে আবু সাইদ, আবু রায়হানের মায়ের কান্না সহ সারা বাংলাদেশের সকল মায়ের কান্নার কথা মনে পড়ে। তাই আমি তাদের সাথে একাত্মতা পোষণ করছি। আমি পোষ্য কোটার অন্তর্ভুক্ত হলেও আমি পোষ্য কোটা চাই না।

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক সালাউদ্দিন আম্মার বলেন, কোটা সংস্কার করতে গিয়ে শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হয়ে গেল, রাষ্ট্র সংস্কার হয়ে গেল। কিন্তু পোষ্য কোটার মতো একটি অযৌক্তিক কোটা এখনো রয়ে গেল। এটা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাল-বাহানা শুরু করছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলে দিতে চাই, আমরা আমাদের জায়গা থেকে বিন্দু পরিমাণ সরে যাই নাই। আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত মাঠ ছাড়ব না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন বিভিন্ন ধরনের যুক্তি দেখাচ্ছে। আপনাদের যুক্তি এই জুলাই বিপ্লবের কাছে কিছুই না।

এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত ১৪ নভেম্বর রাবিতে পোষ্য কোটা বাতিলের দাবিতে আমরণ অনশনেও বসেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেদিন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মাঈন উদ্দীনকে সভাপতি করে ২০ সদস্যের এ কোটা পর্যালোচনা কমিটি গঠিত হয়। তবে এ কমিটি এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেও কার্যকরী সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি বলে জানা গেছে। পরে প্রশাসনকে লাল কার্ড দেখানো সহ একাধিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

আরটিভি/এএএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
দেশের প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে শিক্ষাবর্ষ ২০২৪-২৫ ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি।  পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুবিধার্থে দেখে নিন বুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও কুয়েটের পরীক্ষার দিনক্ষণ: আরটিভি/এমএ/এস  
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষার তারিখ
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
২০২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সাপ্তাহিক ছুটির বাইরে ৭৬ দিন বন্ধ থাকবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত ২০২৫ শিক্ষাবর্ষের বাৎসরিক ছুটির তালিকা থেকে এ তথ্য জানা গেছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. মিরাজুল ইসলামের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ২ মার্চ থেকে পবিত্র রমজানের ছুটি শুরু হবে। ঈদুল ফিতর, জুমাতুল বিদা, স্বাধীনতা দিবসসহ কয়েকটি ছুটি মিলিয়ে টানা ২৮ দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। এরপর ৮ এপ্রিল পুনরায় ক্লাস শুরু হবে। ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশেও টানা ১৪ দিন স্কুল ছুটি থাকবে। এ ছুটি শুরু হবে ৩ জুন, চলবে ২২ জুন পর্যন্ত। দুর্গাপূজায় এবার ৭ দিন ছুটি রাখা হয়েছে। অবশ্য এ ছুটির মধ্যে লক্ষ্মীপূজা, ফাতেহা-ই-ইয়াজ দহমসহ বেশ কয়েকটি ছুটি পড়বে। এদিকে, বরাবরের মতো এবারও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের হাতে সংরক্ষিত তিনদিন ছুটি রাখা হয়েছে। এর বাইরে বিভিন্ন জাতীয়, আন্তর্জাতিক দিবস ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে নিয়ম মেনে ছুটি থাকবে। আরটিভি/এসএপি
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাৎসরিক ছুটির তালিকা প্রকাশ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার বিষয়ে জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।  সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে সংগঠনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেবো। বৈঠক চলমান রয়েছে। এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে কিছু দিনের মধ্যে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘোষণাপত্র’ প্রস্তুত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। এর আগে রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছে, তারা মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকালে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করবে। সংগঠনের নেতারা ঘোষণাপত্রে দুটি মৌলিক বিষয়ের উল্লেখ করেছেন। তাতে ১৯৭২ সালের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এর ‘কবর’ রচনা করা এবং ‘নাৎসিবাদী আওয়ামী লীগকে’ বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক ঘোষণা করার কথা থাকবে। আরটিভি/কেএইচ
জরুরি বৈঠকে বসেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
৪৩তম বিসিএসে নিয়োগের জন্য গত ১৫ অক্টোবরের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে নতুন করে আবার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছেন আরও ১৬৮ জন প্রার্থী। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) এই প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সুপারিশপ্রাপ্ত ১ হাজার ৮৯৬ জন প্রার্থীকে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। এসব প্রার্থীকে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে যোগ দিতে হবে। এর আগে, গত ১৫ অক্টোবর ৪৩তম বিসিএসের নিয়োগের প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তাতে ২ হাজার ৬৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। সেখান থেকে নতুন প্রজ্ঞাপনে বাদ পড়লেন ১৬৮ জন। বাদ পড়া ১৬৮ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ২৬ , পররাষ্ট্র ক্যাডারের ৩ এবং পুলিশের ৮ জন বাদ পড়েছেন। প্রসঙ্গত, ৪৩তম বিসিএস থেকে ২ হাজার ১৬৩ জনকে ক্যাডার পদে নিয়োগের জন্য গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর সুপারিশ করেছিল সরকারি কর্ম কমিশন। সুপারিশের দীর্ঘ ১০ মাস পর ১৫ অক্টোবর যে প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছিল সেখানে বিভিন্ন ক্যাডারে বাদ পড়েছিলেন ৯৯ জন। সব মিলিয়ে ৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়লেন মোট ২৬৭ জন। আরটিভি/কেএইচ
ফের ৪৩তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপন, আরও ১৬৮ প্রার্থী বাদ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা) মো. শাহীনুর ইসলাম জানিয়েছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সমকক্ষ’ একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রুপ দিতে চার সদস্যের উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিটি আগামী চার মাসের মধ্যে নির্ধারিত কাজ শেষ করবে। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর)  সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে চার সদস্যের এই কমিটির প্রধান করা হয়েছে। আর সদস্য হিসেবে আছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ও ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক তানজীমউদ্দিন খান। কমিটি গঠনের আদেশে বলা হয়েছে, ইউজিসির ওপরে এ কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব ন্যস্ত থাকবে। তা ছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী উচ্চশিক্ষার প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিশেষজ্ঞকে কমিটিতে সদস্য হিসেবে সংযোজন করতে পারবে। প্রসঙ্গত, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। রাজধানীর এই সাতটি সরকারি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।  এর ফলে এসব কলেজে ভর্তি পরীক্ষা, পাঠ্যসূচি ও পরীক্ষা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিচালিত হয়ে আসছিল। তবে নানা সমস্যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্তি থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন করেছেন। পরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষার্থীদের দাবি যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা তাতেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। অবশেষে ৬ নভেম্বর শিক্ষা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেন।  আরটিভি/কেএইচ
সাত কলেজকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় সমকক্ষ’ করতে বিশেষজ্ঞ কমিটি
আরও পড়ুন
রাবিতে পোষ্য কোটার আসন কমলেও মিলছে না শিক্ষার্থী
নানা আয়োজনে রাবি প্রেসক্লাবের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
মানবাধিকার দিবসে গুম-খুনের বিচার চাইল রাবি ছাত্রদল
প্রাথমিকে মেধার ভিত্তিতে ৯৩ শতাংশ শিক্ষক নিয়োগ, থাকছে না পোষ্য কোটা