
বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফ্রিল্যান্সিংকে আন্তর্জাতিক মানের পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম এবং একমাত্র পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম জেডিসি একাডেমি। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রকৌশলী, ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী এবং পেশাজীবীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে গেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়েছে খুলনায়। সেখানে সরাসরি এবং ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন জেডিসি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা এবং বিশ্বমানের ফ্রিল্যান্সার ও নির্মাণ ব্যবস্থাপক ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব এবং অর্থনৈতিক মিনিস্টার (সোদি আরাবিয়া) ড. মো. আবুল হাসান, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন IEB-এর নির্বাহী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইমরুল কায়েস পরাগ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার মো. তারেক-এ-সালমান, ইঞ্জিনিয়ার ইলিয়াস হোসেন, কানাডা থেকে যুক্ত হয়েছিলেন, অভিজ্ঞ প্রকৌশলী টিবলু বড়ুয়া, আরব আমিরাত থেকে যুক্ত হয়েছিলেন অভিজ্ঞ স্থপতি জাহেদ, ইঞ্জিনিয়ার রিংকু এবং ইঞ্জিনিয়ার আকতারুজ্জামান আসিফসহ দেশ-বিদেশের খ্যাতনামা ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ বলেন, জেডিসি একাডেমি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়। এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের প্ল্যাটফর্ম। আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের প্রতিভাবানদের বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং ক্ষেত্রে যুক্ত করা, যাতে তারা আন্তর্জাতিক মানের দক্ষতা অর্জন করতে পারে এবং বিশ্বব্যাপী প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যেতে পারে।
জেডিসি একাডেমির মূল বৈশিষ্ট্যসমূহের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইঞ্জিনিয়ারিং ফ্রিল্যান্সিং কোর্স, নবীন থেকে প্রফেশনাল পর্যায় পর্যন্ত সবার জন্য গঠনমূলক শেখার পথ, শিল্পভিত্তিক ওয়ার্কশপ এবং ফ্রি সেমিনার, আন্তর্জাতিক কমিউনিটি উন্নয়ন প্ল্যাটফর্ম, পাশাপাশি ক্যারিয়ার পরামর্শ এবং প্রফেশনাল মেন্টরশিপ।
বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং অঙ্গনে শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যেতে জেডিসি একাডেমি চালু করেছে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন কোর্স। যেমন অটো ক্যাড বেসিক থেকে অ্যাডভান্সড এবং মার্কেটপ্লেস ইন্টিগ্রেশন, গ্লোবাল কন্সট্রাকশন এস্টিমেশন (সিভিল) এবং মার্কেটপ্লেস, গ্লোবাল কন্সট্রাকশন ম্যানেজমেন্ট এবং মার্কেটপ্লেস, গ্লোবাল এমইপি এস্টিমেশন এবং মার্কেটপ্লেস, ডিজিটাল মার্কেটিং এবং অ্যাডভান্সড ডেটা এন্ট্রি, রিভিট আর্কিটেকচার এবং মার্কেটপ্লেস, অফিস সমন্বয়, হিসাবরক্ষণ এবং মার্কেটপ্লেস, রিয়েল এস্টেট ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট এবং ডেটা এন্ট্রি কোর্সগুলো পাওয়া যাবে জেডিসি একাডেমি এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে www.jdcacademy.org-এ।
ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ জানান, গেল নয় মাসে জেডিসি একাডেমি সফলভাবে আন্তর্জাতিক মানের ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ পরিচালনা করেছে। এর প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ বিশ্বমানের ফ্রিল্যান্সার এবং নির্মাণ ব্যবস্থাপক, কন্সট্রাকশন, রিয়েল এস্টেট, ব্যবস্থাপনা এবং অফিস সমন্বয় ক্ষেত্রে এক দশকের বেশি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে প্রকল্প ব্যবস্থাপক (রিমোট) হিসেবে কাজ করছেন।
ইঞ্জিনিয়ার রাশেদের নেতৃত্বে জেডিসি একাডেমি ইতিমধ্যেই এক হাজারের বেশি দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক প্রকল্প সম্পন্ন করেছে এবং পাঁচশতাধিক বাংলাদেশি প্রকৌশলীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেছে। তারা বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে কাজ করছেন এবং দেশের রেমিট্যান্স এবং পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি করতে অবদান রাখছেন।
খুলনায় জেডিসি একাডেমির প্রথম অফলাইন শাখা উদ্বোধন করা হয়েছে রাজধানী এবং প্রধান শহরের বাইরেও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার এক নতুন মাইলফলক হিসেবে। ভবিষ্যতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে আরও শাখা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে একাডেমি। সেখান থেকে দেশের সকল তরুণ প্রকৌশলী এবং ফ্রিল্যান্সার বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং ক্যারিয়ার পরামর্শ পাবেন।
আরটিভি/এএ




