ইবি প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে বিশ্বের সেরা ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তারা হলেন— বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান। গুগল স্কলারের তথ্যমতে, ড. মিজানুর রহমানের গবেষণা-সংক্রান্ত সাইটেশনের সংখ্যা ৩ হাজার ৮৬ এবং ড. হাবিবুর রহমানের সাইটেশন ২ হাজার ৩৩৪।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির মেটা রিসার্চ ইনোভেশন সেন্টার (মেট্রিক্স)-এর গবেষক জন পি এ ইয়োনিডিস গবেষণা প্রকাশনার ওপর ভিত্তি করে এলসিভিয়ার জার্নালে এ তালিকা প্রকাশ করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে গবেষকদের প্রকাশনা, সাইটেশন, এইচ-ইনডেক্সসহ নানা সূচক বিশ্লেষণ করে শীর্ষ গবেষকদের তালিকা তৈরি করা হয়। ২২টি প্রধান বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্র এবং ১৭৪টি উপক্ষেত্রে বিভাজিত এ তালিকায় দুটি আলাদা ধাপে গবেষকদের মূল্যায়ন করা হয়— একটিতে সমগ্র পেশাগত জীবনের অর্জন, অন্যটিতে কেবল এক বছরের গবেষণাকর্মের ভিত্তিতে।
এ অর্জন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ গবেষকের তালিকায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি জায়গা থেকে আমার নাম আসাটা আমার জন্য সত্যিই অনেক আনন্দের ও গর্বের বিষয়। একইসাথে এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এবং আমার বায়োটেকনোলজি বিভাগের জন্যও আনন্দের বলেই আমি মনে করি। এটি কেবল আমার একার অর্জন নয়, আমার সহকর্মী এবং শিক্ষার্থীদেরও অর্জন। আমি যেন এ সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারি এজন্য সকলের দোয়া ও সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।
সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান বলেন, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় (যুক্তরাষ্ট্র) এবং এলসেভিয়ার কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পাওয়া শুধু আমার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের জন্য একটি সম্মানের বিষয়। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশ থেকেও বিশ্বমানের গবেষণা করা সম্ভব। এই স্বীকৃতির জন্য আমি সর্বপ্রথম আমার আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি আমার পরিবার, সহকর্মী, গবেষণা সহযোগী এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে আরো উজ্জ্বলভাবে উপস্থাপন করতে ভবিষ্যতেও গবেষণা কার্যক্রমে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই।
উল্লেখ্য, স্ট্যানফোর্ড–এলসেভিয়ার টপ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীদের তালিকা হলো বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত এক মানদণ্ড, যেখানে গবেষকদের অসাধারণ উদ্ধৃতি প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি একাডেমিক অবদানকে গুরুত্ব দিয়ে স্থান দেওয়া হয়। এলসেভিয়ার প্রতিবছর প্রায় ২ হাজারের বেশি জার্নাল প্রকাশ করে। প্রকাশিত জার্নালে নিবন্ধের সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি এবং এর আর্কাইভে ৭০ লাখের বেশি প্রকাশনা রয়েছে।
আরটিভি/এমকে/এস




