
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে তার গায়েবানা জানাজা।
শনিবার (২০ ডিসেম্বর) আছর নামাজের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু)-এর তত্ত্বাবধানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ জানাজা আদায় করা হয়। জানাজা চলাকালে শোকের আবহে নীরব হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।
জানাজায় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন খান, বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাকসুর প্রতিনিধিসহ স্থানীয় জনগণ ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন। অনেককে আবেগ সংবরণ করতে না পেরে অশ্রুসিক্ত চোখে দোয়া করতে দেখা যায়।
জানাজা শেষে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মাইন উদ্দিন খান বলেন, ‘শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন একজন সাহসী ও নীতিবান মানুষ। দেশ ও মানুষের জন্য তার ত্যাগ ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তার অকাল প্রয়াণ আমাদের জন্য গভীর বেদনার।’
এ সময় রাকসুর সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির বলেন, ‘ওসমান হাদির মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো জাতির ক্ষতি। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার আদর্শকে ধারণ করেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।’
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারের সময় গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে গুলিবিদ্ধ হন শরিফ ওসমান হাদি। গুলি মাথা ভেদ করে যাওয়ায় গুরুতর আহত হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, পরে এভারকেয়ার হাসপাতালের আইসিউতে নেওয়া হয়।
তিনদিন পর সোমবার দুপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টা দিকে মারা যান ওসমান হাদি। শুক্রবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে হাদির মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে দেশে পৌঁছায়।
এরপর শনিবার দুপুর আড়াইটায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে শহীদ ওসমান হাদির জানাজা শুরু হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন তিন বাহিনীর প্রধানরাও। এছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) বিভিন্ন দলের নেতারাও জানাজায় অংশ নেন।
শহীদ ওসমান হাদির জানাজা ঘিরে সকাল থেকে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে এসে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জানাজায় অংশ নেন লাখো মানুষ। পরে দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ সংলগ্ন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
এদিকে, ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারী হিসেবে ফয়সাল করিম মাসুদ নামে একজনকে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তার সহযোগী আলমগীর শেখ মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন। এই দুজন অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছেন বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে।
ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৪ জনকে আটক ও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র্যাব।
আরটিভি/এফএ




