
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী পরিচয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে প্রবেশ করে এক নারী শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ এবং পরে তাতে অশালীন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক যুক্ত করে টিকটকে আপলোডের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কয়েকজন বহিরাগত যুবকের বিরুদ্ধে নারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি ও অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগে অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন আড়ারদাহ গ্রামের বর্তমান ইউপি সদস্য সিরাজুল ইসলামের ছেলে সুজন, একই গ্রামের ইতালিপ্রবাসী বাবুর ছোট ভাই আব্দুর রহমান এবং ফুলসরা গ্রামের হাসিবসহ আরও কয়েকজন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইলা বলেন, যবিপ্রবি সবার জন্য উন্মুক্ত। কিন্তু এই সুযোগে কোনো নারী শিক্ষার্থীর অনুমতি ছাড়া ছবি বা ভিডিও ধারণ করে অশালীনভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু অনৈতিক নয়, এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং একজন নারীর মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত। আজ যিনি হয়রানির শিকার হয়েছেন, আগামীকাল সেখানে আমাদের যেকোনো একজন, আমাদের বোন বা বন্ধুও থাকতে পারেন। তাই নীরব না থেকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব।
আইপিই বিভাগের শিক্ষার্থী আলফি শাহরিন রিফাত বলেন, ক্যাম্পাসে কিছু বহিরাগত এসে টিকটক ভিডিও তৈরি করার সময় একজন নারী শিক্ষার্থী হেঁটে যাওয়ার মুহূর্তে তাঁর পেছন থেকে অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণ করে। বিষয়টি অত্যন্ত অনৈতিক। প্রশাসনের বিষয়টি হয়তো নজরে আসেনি। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অন্যান্য বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলেও এমন ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ না হলে নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী শাহিদা আক্তার লিথি বলেন, ক্যাম্পাসের একজন নারী শিক্ষার্থীর ভিডিও ধারণ করে টিকটকে প্রকাশ করা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর সরাসরি আঘাত। নিজের ক্যাম্পাসেই যদি একজন ছাত্রী নিরাপদে চলাফেরা করতে না পারেন, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্রুত ভিডিওগুলো অপসারণ, জড়িতদের শনাক্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মোঃ হামিদুর রহমান বলেন, অভিযুক্ত বহিরাগতদের অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ভিডিওটি টিকটকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তরা তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি করবে না মর্মে লিখিত মুচলেকা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিরোধে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশের বিষয়টি আরও কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা বাহিনী ও আনসার সদস্যদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল ক্যাম্পাস নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করছি।
আরটিভি/জেএমএ


