ঢাকা শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো নয়’

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৪:১৯ পিএম
অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন। সৌজন্য ছবি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮ম উপাচার্য হিসেবে ১৪ মে নিয়োগ পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর সম্প্রতি আরটিভিকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গবেষণা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, করপোরেট সংযোগ, সমাবর্তন ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আরটিভির নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় সংবাদদাতা আবু তাহের।


আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর এখন পর্যন্ত একবারই সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সমাবর্তন নিয়ে বর্তমান প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ২০ বছরের পথচলায় এখন পর্যন্ত মাত্র একটি সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় সমাবর্তনের জন্য আমাদের হাজারো শিক্ষার্থী অপেক্ষা করছে। আসলে একটি সমাবর্তন আয়োজন ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং এতে অনেকের অংশগ্রহণ প্রয়োজন হয়। বস্তুতপক্ষে, বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো একটি দিকই আমরা এখনো পরিপূর্ণভাবে গড়ে তুলতে পারিনি। আমাদের যেমন লোকবলের অভাব রয়েছে, তেমনি রয়েছে অর্থসংকট। তারপরও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের কাছে সমাবর্তন একটি আবেগের জায়গা। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে চায়, বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুনভাবে দেখতে চায়। আমরাও তাদের এই চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে একমত। আমরা আমাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা চেষ্টা করব, দ্বিতীয় সমাবর্তনটি যেন খুব ধুমধাম ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে উদযাপন করতে পারি। আমরা ধীরে ধীরে সমাবর্তন খাতে অর্থ জমা করার চেষ্টা করছি। উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অতি দ্রুতই দ্বিতীয় সমাবর্তনের আয়োজন করতে পারব।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে আবাসন সংকট রয়েছে। আবাসন সংকট নিরসনে বর্তমান প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আমি মনে করি, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আবাসনের ক্ষেত্রে বেশ এগিয়ে আছে। আমাদের চারটি হলে মোট শিক্ষার্থীর ৩০ শতাংশের অধিক শিক্ষার্থী অবস্থান করতে পারে। এছাড়াও আমাদের নতুন দুটি বৃহৎ আকৃতির হল তৈরি হচ্ছে। এমন বৃহৎ আকৃতির হলের সংখ্যা বাংলাদেশে খুবই নগণ্য। আমাদের নতুন এই দুটি হল আগামী সেপ্টেম্বর মাসে হস্তান্তর করার কথা। আমরা আশা করি, এ বছরই সেখানে অ্যালটমেন্ট দিতে পারব। হলের প্রায় সব কাজই শেষ। আমরা ফার্নিচারেরও অর্ডার দিয়ে দিয়েছি। সেপ্টেম্বরের মধ্যে হল দুটি বুঝে পেলে সেখানে আরও ৩ হাজার শিক্ষার্থীর আবাসন নিশ্চিত হবে। এতে আমরা ৫০ শতাংশ আবাসন সুবিধার আওতায় চলে আসব। আমাদের আরও ৭৫ একর জমি ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেখানে আরো ৩টি হলের পরিকল্পনা রয়েছে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়ন হয়ে যাবে। তখন আর আবাসন সংকট থাকবে না।

আরটিভি: পরিবহন সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংখ্যার বিপরীতে অ্যাম্বুলেন্সও কম। এ বিষয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: অফিসিয়ালি আমাদের একটা অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। তবে আরেকটি গাড়ি আমরা অ্যাম্বুলেন্সের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করছি। বেশি অসুস্থ, যাকে শুইয়ে ছাড়া হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব নয়—এমন ক্ষেত্রে আমরা মূল অ্যাম্বুলেন্সটি ব্যবহার করছি। আর সাধারণ অসুস্থতার ক্ষেত্রে আমরা একটি হাইএস গাড়ি ব্যবহার করছি। দীর্ঘদিন ধরেই পরিবহন খাতে নতুন গাড়ি কেনার জন্য আমরা কোনো বাজেট পাচ্ছি না। আমাদের পরিবহন খাতে ২৪টি গাড়ি রয়েছে। এর বেশির ভাগই বিআরটিসিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ভাড়া করে পরিচালনা করছি। আমরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন ব্যাংক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি এবং তাদের কাছে আবেদন করেছি, তারা যেন শিক্ষার্থীদের চলাচলের বিষয়টি বিবেচনা করে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়।


আরটিভি: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আপনার শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? আগামী দিনে বিশ্ববিদ্যালয়কে কোথায় দেখতে চান?

উপাচার্য: বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি বুঝেছি, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুধু শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করানো নয়; তাদের ভবিষ্যতের জন্যও প্রস্তুত করা। তাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও ভালোভাবে এগিয়ে নিতে দেশের ও বিশ্বের যেসব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণায় ভালো করছে, তাদের ভালো কাজগুলো অনুসরণ করতে চাই। একই সঙ্গে দেশ-বিদেশের ভালো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কার্যকর ব্যবস্থাগুলো আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন অনুযায়ী কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের আদর্শ ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে গড়ে উঠেছে। সাম্য, মানবতা, প্রেম, নেতৃত্ব ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের যে শিক্ষা নজরুল আমাদের দিয়েছেন, আমরা যদি সেগুলো ধারণ করতে পারি, তাহলে নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ও দেশের ও বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। আমরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে চাই। পাশাপাশি শিক্ষা, গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও গুরুত্ব দিতে চাই। আমার লক্ষ্য হলো, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়কে এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা ভালো শিক্ষা পাবে এবং ভবিষ্যতের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করতে পারবে।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিমাণ খুবই কম। গবেষণা বাড়াতে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী ও ক্লাসমুখী করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ইউজিসি এই অর্থবছর থেকেই এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালুর ব্যবস্থা করেছে। আমরাও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এ ধরনের প্রণোদনা দিয়ে থাকি। বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি করার উদ্যোগও আমরা নিয়েছি। ইতোমধ্যে আমরা ঘোষণা করেছি, প্রত্যেকটি ফ্যাকাল্টিতে সেরা একজন শিক্ষার্থীকে আমরা ডিনস অ্যাওয়ার্ড দেব।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির নানা কথা শোনা যায়। আপনি নিয়োগে কেমন স্বচ্ছতা রাখতে চাচ্ছেন?

উপাচার্য: বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি বা অনিয়মের নানা কথা বিভিন্ন সময় শোনা যায়। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, আমাদের দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই এ ধরনের আলোচনা রয়েছে। আমি চেষ্টা করব এই ধারা থেকে বের হয়ে একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। নিয়োগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য কাজেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা রাখতে চাই। নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। যে পদের জন্য যে ব্যক্তি সবচেয়ে যোগ্য, তাকে সেই পদে নিয়োগ দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য।

আরটিভি: আমাদের ক্যাম্পাসে তুলনামূলকভাবে সবুজায়ন কম। ক্যাম্পাস সবুজায়নে প্রশাসনের কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একটি সুন্দর, পরিকল্পিত ও সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে আমরা কাজ করছি। যেখানে-সেখানে গাছ না লাগিয়ে ভবিষ্যতে ভবন, রাস্তা, মাঠ বা অন্যান্য স্থাপনা কোথায় হবে—এসব বিবেচনা করে নির্দিষ্ট জায়গায় গাছ লাগানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন, আঞ্চলিক সংগঠন ও অন্যান্য সংগঠনও এ কাজে সহযোগিতা করছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আমরা একটি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছি। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই ক্যাম্পাসে গাছ লাগানো হচ্ছে।

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে ভিত্তিপ্রস্তর রয়েছে, সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে আনার বিষয়ে প্রশাসনের পরিকল্পনা কী?

উপাচার্য: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তার অবদানকে স্বীকার করা উচিত। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থাকা সেই ভিত্তিপ্রস্তরটি ক্যাম্পাসের ভেতরে আনার প্রক্রিয়া আমরা শুরু করেছি। পাশাপাশি সেখানে একটি স্মৃতি সংগ্রহশালা করার পরিকল্পনা রয়েছে। একইভাবে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ঐতিহাসিক স্মৃতিবিজড়িত বটতলাটিকেও ক্যাম্পাসের সীমানার মধ্যে এনে পাশে একটি নজরুল সংগ্রহশালা করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিহাসের প্রতি সম্মান দেখিয়েই এসব স্মৃতি সংরক্ষণ করতে চাই।

আরটিভি: সরকারি ও বেসরকারি করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীদারিত্ব জোরদারে কী পরিকল্পনা রয়েছে?

উপাচার্য: আমরা বিষয়টিকে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করছি। ইতোমধ্যে ‘Industry Academia Collaboration’ শীর্ষক একটি সেমিনার করেছি। শিক্ষার্থীরা স্নাতক শেষ করার পর কর্মক্ষেত্রে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। এ জন্য সিলেবাস প্রণয়নের ক্ষেত্রেও অ্যালামনাইদের যুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও শিক্ষার্থীদের থিসিস, প্রজেক্ট ও প্রশিক্ষণে সহযোগিতা করতে এগিয়ে এসেছে। ইউজিসি ইতোমধ্যে ৫০০ কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে, যা আগামী অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই তহবিল একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

আরটিভি: আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান তৈরি করতে কী কী উদ্যোগ নেবেন?

উপাচার্য: আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ের জন্য যেসব নিয়ামক রয়েছে, সেগুলো অর্জনের চেষ্টা করছি। আমাদের অনেক শিক্ষকের ভালো ভালো পাবলিকেশন রয়েছে। সম্প্রতি কিউ-ওয়ান (Q1) জার্নালে প্রকাশিত আর্টিকেলের জন্য প্রতিটি ফ্যাকাল্টির সেরা একজন শিক্ষককে পুরস্কৃত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও কিউ-ওয়ান জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশিত হলে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে, যাতে গবেষণা কার্যক্রম আরও বেগবান হয়। র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক হলো সাইটেশন। গবেষণা যত সমৃদ্ধ হবে এবং মানসম্মত পাবলিকেশনের সংখ্যা যত বাড়বে, সাইটেশনও তত বাড়বে। তাই শিক্ষকদের তাদের গবেষণা ও অর্জনগুলো ব্যক্তিগত প্রোফাইলে প্রকাশ করার জন্য উৎসাহিত করছি। ইতোমধ্যে আমাদের একটি আর্টিকেল এক মাসেই ৯০০টি সাইটেশন পেয়েছে এবং কয়েকজন শিক্ষকের সাইটেশন ৫ হাজারের বেশি। একটি তরুণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আশা করি, আমাদের গবেষকেরা তাদের অবদানের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে নিতে সহযোগিতা করবেন।

আরও পড়ুন

আরটিভি: বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আপনার পরামর্শ কী থাকবে?

উপাচার্য: শিক্ষার্থীদের প্রতি আমার পরামর্শ হলো, জেনারেশন জেডের সৃজনশীল চিন্তা, চিন্তাশীল বুদ্ধিমত্তা ও মননশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। দুশ্চিন্তা ও কুচিন্তা থেকে দূরে থেকে লাইব্রেরি, সেমিনার ও ক্লাসমুখী হতে হবে। এ জন্য আমরা ই-লাইব্রেরি চালু করছি, যেখানে শিক্ষার্থীরা বই, জার্নাল ও আর্টিকেল পড়ার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্লেজিয়ারিজম চেকের টার্নিটিন সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং লাইব্রেরিতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ধরনের বই সংযোজনের প্রক্রিয়া চলছে। লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার প্রতিও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হতে হবে। এ জন্য মাঠে খেলাধুলার সুযোগ-সুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে আমার প্রত্যাশা, শিক্ষার্থীরা সুশিক্ষা গ্রহণ করে আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে এবং নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আন্তর্জাতিক স্মার্ট সিটি প্রাইজের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের পিউপিল স্কুল বাস
দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে আগামী ৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক আয়োজন ‘সিউল স্মার্ট সিটি প্রাইজ ২০২৬’। এ আয়োজনে সেমিফাইনালিস্ট হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছেন বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও Pupil School Bus Ltd.-এর প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং চেয়ারম্যান মো. আবদুর রশিদ সোহাগ।
আন্তর্জাতিক স্মার্ট সিটি প্রাইজের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের পিউপিল স্কুল বাস
কচুরিপানা আর প্লাস্টিক বর্জ্যে বেহাল ইবির মীর মুগ্ধ সরোবর
কচুরিপানা আর প্লাস্টিক বর্জ্যে বেহাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) মীর মুগ্ধ সরোবর। একসময় স্বচ্ছ পানিতে মাছের বিচরণ, অতিথি পাখির কলকাকলি, দৃষ্টিনন্দন সেতুর আলো আর শিক্ষার্থীদের আড্ডায় মুখর থাকা লেকটি এখন কচুরিপানায় ঢেকে গেছে।
কচুরিপানা আর প্লাস্টিক বর্জ্যে বেহাল ইবির মীর মুগ্ধ সরোবর
চবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন তিন শতাধিক
নারী শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
চবিতে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, সেবা নিলেন তিন শতাধিক
হাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, তবুও শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় ২৭০ টাকা 
শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাহাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) একটি বেসরকারি জীবনবিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে করা স্বাস্থ্যবিমা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রায় দুই বছর পেরিয়ে গেলেও তা নবায়ন করা হয়নি। তবে অভিযোগ উঠেছে, চুক্তি কার্যকর না থাকলেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রতি সেমিস্টারে এনরোলমেন্টের সময় স্বাস্থ্যবিমার নামে ২৭০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে।
হাবিপ্রবিতে নেই স্বাস্থ্যবিমা, তবুও শিক্ষার্থীদের থেকে আদায় ২৭০ টাকা 
ববিতে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ কর্মশালা
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ মোকাবিলা ও সুস্থ জীবনযাপন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ শীর্ষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) Organization of Disaster Management (ODM)-এর উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)-তে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক ড. রেহেনা পারভীন। এতে একই বিভাগের ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের ১৫তম ব্যাচের ৩৪ জন শিক্ষার্থী অংশ নেন। কর্মশালায় মানসিক চাপের কারণ, চাপ মোকাবিলার বিভিন্ন কৌশল, আত্মসচেতনতা এবং প্রয়োজনের সময় যথাযথ সহায়তা নেওয়ার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত ও একাডেমিক জীবনের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। ODM-এর কেন্দ্রীয় বোর্ড সদস্য মো. জুনায়েদ রাব্বি প্রকাশ বলেন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আমরা প্রথমবারের মতো ডেডিকেটেডভাবে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্টের’ ওপর কর্মশালা আয়োজন করেছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান সোহাগ আমাদের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং কর্মশালাটি আয়োজনে প্রশাসনিক সহযোগিতা দিয়েছেন। তিনি বলেন, যুবদের মধ্যে দ্রুতগতিতে মানসিক অবসাদ বৃদ্ধি এবং অনেকের অজান্তেই বিভিন্ন মানসিক সমস্যার দিকে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি উদ্বেগের। একজন মানুষের সুস্থ জীবনের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ চিকিৎসা ও সহায়তার আওতায় আসার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে জানা জরুরি। ODM-এর সভাপতি জয় দাস বলেন, আমাদের সমাজে, বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে, কেউ Mental Disorder, Depression বা Anxiety-এর মতো বিষয় নিয়ে কথা বললে অনেক সময় তাকে নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। আমাদের মূল উদ্দেশ্য ছাত্রসমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের কাছে মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়া। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন কঠিন সময়ে কীভাবে নিজেকে ভালো রাখতে ও পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে পারে, সে বিষয়ে সচেতন হয়—আমরা সেই জায়গায় কাজ করতে চাই। হয়তো এটি খুব বড় কোনো উদ্যোগ নয়, কিন্তু এই ছোট উদ্যোগই কারও জীবনে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে। আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা, আত্মসচেতনতা ও ব্যক্তিগত দক্ষতা উন্নয়নে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। ভবিষ্যতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে পৃথকভাবে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। আরটিভি/টিআর
ববিতে ‘স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট’ কর্মশালা
আরও পড়ুন
উপাচার্য পুনর্বহালের দাবি: বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছুটির দিনেও চুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
হাটহাজারীতে কৃষক কার্ড বিতরণে অংশ নিলেন চবি উপাচার্য 
জবি ভিসির নাম-ছবি ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে অর্থ দাবি, আটক ১
উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা শাটডাউন চলছে চুয়েটে