ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

খালেদা জিয়ার নাম থাকায় জোরপূর্বক বদলে ফেলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা

আবু তাহের

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ১ মার্চ। ছবি: আরটিভি

দুই দশক পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ১ মার্চ। আর উদ্বোধন করা হয় ২০০৬ সালের ২৫ মে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন দুটোই করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই কারণে দুটি ফলকেই ছিল তার নাম।

image

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার নামসংবলিত এসব ফলক অবহেলার শিকার হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা ও সীমানা নির্ধারণেও পরিবর্তন আসে, যার ফলে ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থেকে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ১৫ একর। সে সময় ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে পরিবর্তন হয়ে যায় গেট নির্মাণের স্থান। ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের রাস্তা বন্ধ করে সেখানে নির্মাণ করা হয় শিউলিমালা হল। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে সম্প্রসারণ করা হলেও পশ্চিম দিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা সম্প্রসারিত হলেও ভিত্তিপ্রস্তরটি বাইরে থেকে যায়।

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় জমির পরিমাণ কম ছিল। সে সময় ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে গেট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও সেটি এক পাশে হয়ে যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সুবিধার কথা বিবেচনা করে গেটটি মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণ করা হয়। তার দাবি, সে সময় বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা এর বিরোধিতা করলেও আওয়ামীপন্থি প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়নি। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে ভিত্তিপ্রস্তরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরেই থেকে যায়।

শুধু ভিত্তিপ্রস্তর নয়, এর পাশের ঐতিহাসিক বটগাছটিও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে। ত্রিশালের এই বটগাছটি কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত। প্রায় ১১২ বছর আগে কিশোর নজরুল আসানসোল থেকে ত্রিশালে এসে দরিরামপুর ইংরেজি হাইস্কুলে ভর্তি হন। স্কুল ফাঁকি দিয়ে তিনি নামাপাড়ার শুকনি বিলের পাড়ের একটি বটগাছে উঠে প্রায়ই বাঁশি বাজাতেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। সেই গাছটিই বর্তমানে ‘নজরুল বটবৃক্ষ’ নামে পরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনেও ছিল দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিদদের দাবি। বিশেষ করে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জনমনে আবেগের জন্ম দিয়েছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বরাদ্দ, আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে যায়। ২০০৬ সালের ৯ মে জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬’ পাস হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এটি দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যা জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার নামসংবলিত ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনী ফলক যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ভিত্তিপ্রস্তরের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা উদ্বোধনী ফলকটি বিভিন্ন সময় ফুলের টব ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে আড়াল করে রাখা হতো। তবে ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুটি ফলকই পরিমার্জন করা হয়েছে।

image

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আমরা দেখেছি এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন খালেদা জিয়া সরকার। খালেদা জিয়া এখানে এসেছিলেন এবং উদ্বোধনও করেছিলেন। তারপর হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু চেঞ্জ হলো। এদিক দিয়ে (ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে) একটা রাস্তা ছিলো, সেটা বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় হল (শিউলীমালা হল) তৈরি করা হলো। বাউন্ডারি করা হলো, তবুও খালেদা জিয়ার স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর বাইরে রেখেই করা হলো। আমরা তো চাই এটা (ভিত্তিপ্রস্তর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নেওয়া হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থাকায় বটতলার ভিত্তিপ্রস্তরটির চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ছাত্রলীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা কয়েকবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামসংবলিত ভিত্তিপ্রস্তরটি পরিষ্কার করে রং করে দিয়েছি। এ কারণে অনেককে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ভাইয়ের প্রচেষ্টায় প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে নামফলকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসবে। এতে ঐতিহাসিক বটগাছটিও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। এই গাছের নিচেই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাঁশি বাজাতেন বলে আমরা জানি। একসময় বটতলা ছিল আবেগের স্থান। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই বটতলা বর্তমান প্রশাসনের হাত ধরে আবার প্রাণ ফিরে পাক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সদস্য সচিব মারুফ হাসান (মামুন সরকার) বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভিত্তিপ্রস্তরটি কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম-ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, সেই স্থানটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে—বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। নতুন প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হোক। সম্ভব হলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান নির্মাণ করা হোক। আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চাই না, চাই ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ। যে স্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রার সূচনা, সেই স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হিসেবে মর্যাদা পাক—এটাই প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, বর্তমানে যে ভিত্তিপ্রস্তরটি বাইরে রয়েছে, তার পাশ দিয়েই আগে রাস্তা ছিল। রাস্তা থেকে ভিত্তিপ্রস্তর দেখা যেত। কিন্তু গত প্রশাসন সেই রাস্তা বন্ধ করে তার ওপর শিউলিমালা হল নির্মাণ করেছে। ফলে ভিত্তিপ্রস্তরটি পেছনে পড়ে যায়। পরে সীমানা প্রাচীরও এমনভাবে নির্মাণ করা হয় যে এটি বাইরে থেকেই যায়। আমরা তখনও রাস্তা রাখার আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তা মানা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জায়গাটি অধিগ্রহণ করে, তাহলে মালিকপক্ষ জায়গাটি ছেড়ে দিতে রাজি আছে বলে আমরা জেনেছি। সেই হিসেবে আমরা যদি জায়গাটা কিনে নিতে পারি, তাহলে ভিত্তিপ্রস্তর সংলগ্ন জায়গাটা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে নেবো। এছাড়াও হলের পাশ দিয়ে একটি রাস্তা করারও আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সদস্য সচিব মো. তানজিল হোসেন বলেন, ভিত্তিপ্রস্তর সীমানার বাহিরে রাখা সহ সবকিছুই ছিল গত সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক চক্রান্ত।

image

সাদা দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা বিবৃতি দেখা যায়নি, এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আরটিভিকে জানান, ২০০৯ সালের পর থেকে সাদাদল তাদের কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে। ছাত্রদলের ওপর মারধরের প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজেই সাদাদল ভূমিকা রাখে। তবে ২০১৪ সালের একপাক্ষিক নির্বাচনের পর থেকে সাদাদল তাদের কার্যক্রম আর সেইভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। কাজ করতে গেলে বিভিন্ন বাধা ও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হতো। ২০১৪ সালের পর থেকে আমরা যারা বিএনপিপন্থি শিক্ষক ছিলাম, আমাদেরকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল। আমাদের কাছে কোনো শিক্ষার্থীকে আসতে দেওয়া হতো না, আমাদের প্রমোশন দেওয়া হতো না। আমাদের অনেক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে শুধু সাদাদল করার কারণে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর বেগম খালেদা জিয়া স্থাপন করেছিলেন। তার সংশ্লিষ্টতা থাকায় বিগত সরকার রাজনৈতিক কারণে এটিকে সীমানার বাইরে রেখে দেয়। ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়েই গেট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে হল নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করতে পারলে ভিত্তিপ্রস্তরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে আনা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরটি বর্তমানে সীমানার বাইরে রয়েছে। সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সেখানে ঐতিহাসিক বটতলাও রয়েছে, যাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাই বটতলা ও ভিত্তিপ্রস্তর—দুটোকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বটতলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে পুনরায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ঐতিহাসিক স্থান দুটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরটিভি /এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের যুগে সামুদ্রিক খাতের উন্নয়ন এবং ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লক্ষ্য অর্জনে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি।
শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েটের চার শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বসেরা ৪০টি দলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম চুয়েট সি’।
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন চুয়েটের চার শিক্ষার্থী
জবি ক্যারিয়ার ক্লাবের কেস কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন ‘টিম স্কাইফল’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের (জেএনইউসিসি) আয়োজনে আন্তবিশ্ববিদ্যালয় বিজনেস কেস প্রতিযোগিতা ‘স্কাই বাই বিডি প্রেজেন্টস ড্যাকয়েট অব এক্সিলেন্স ৩.০’-এর গ্র্যান্ড ফিনালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ‘টিম স্কাইফল’। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আয়োজনটির সমাপ্তি হয়। জাতীয় পর্যায়ের এ প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৫০টি দল অংশ নেয়। প্রাথমিক দুই ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেয় ১০টি দল। ফাইনালে ‘টিম ভংচং’ প্রথম রানারআপ এবং ‘টিম নেক্রস’ দ্বিতীয় রানারআপ হয়। প্রতিযোগিতার বিচারক প্যানেলে ছিলেন ডাবর বাংলাদেশের কমার্শিয়াল প্রফেশনাল মো. আবদুল কাইয়ুম ফাহিম, আকিজ ভেঞ্চার গ্রুপের অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার (এইচআর) ও জেএনইউসিসির সাবেক সভাপতি জামশেদ আমিন, ইউনাইটেড ফাইন্যান্সিয়াল ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেডের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট মো. আরাফাত হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক এবং ইউনিলিভারের ব্র্যান্ড ম্যানেজার নাইমুর রহমান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেওয়া দলগুলোর জন্য মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকার পুরস্কার বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পেয়েছে ১ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ ৬০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ ৪০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ফাইনালে অংশ নেওয়া অন্য সাতটি দলকে পাঁচ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যারিয়ার ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রাব্বানী রাশহা রাতুল বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর ‘ড্যাকয়েট অব এক্সিলেন্স’-এর আয়োজন ক্লাবকে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এমন আয়োজন করতে পেরে তাঁরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখার প্রত্যাশা জানান তিনি। তিন ধাপে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার প্রথম পর্বে অংশগ্রহণকারীদের বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক সমস্যার সমাধান করতে হয়। দ্বিতীয় পর্বে নির্ধারিত পণ্যের প্রচারের জন্য অনলাইন ভিডিও বিজ্ঞাপন (ওভিসি) তৈরি করেন প্রতিযোগীরা। চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিত ১০টি দল বিচারকদের সামনে নিজেদের কেসের সমাধান ও উপস্থাপনা তুলে ধরে। ফাইনালে অংশ নেওয়া অন্য দলগুলো হলো—টিম ডাল-ভাত, টিম এলটিবি, টিম মিউফিয়াস, গ্রুপিং করতেছি না, এপেক্স সিন্ডিকেট, ফিটকিরি ও টিম নেপচুন। দিনব্যাপী আয়োজনে প্রতিযোগীদের উপস্থাপনার পাশাপাশি ক্লাবের প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, অতিথিদের বক্তব্য, প্রেসিডেন্সিয়াল প্যানেলকে ক্রেস্ট প্রদান ও যৌথ ছবি তোলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়। আরটিভি/টিআর
জবি ক্যারিয়ার ক্লাবের কেস কম্পিটিশনে চ্যাম্পিয়ন ‘টিম স্কাইফল’
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি ড. সুমন ও সম্পাদক শিবলী
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ অফিসের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিনকে সভাপতি এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ ও প্রেস প্রকাশনা দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সামছুল আলমকে  (শিবলী) সাধারণ সম্পাদক করে বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতি (বাপাজস) এর কার্যনির্বাহী পরিষদের ২৫ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। 
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় জনসংযোগ সমিতির নতুন কমিটির সভাপতি ড. সুমন ও সম্পাদক শিবলী
রাবি শিক্ষার্থীর বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় প্রাণ গেল রিকশাচালকের
রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর প্রাইভেট কারের চাপায় এক রিকশাচালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
রাবি শিক্ষার্থীর বেপরোয়া গাড়ি চালানোয় প্রাণ গেল রিকশাচালকের
আরও পড়ুন
হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৩৯২
‘এক থাপ্পড়ে ঠিক করে দেব’ প্রকল্প পরিচালককে ঠিকাদারের হুমকি
স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষিকার মারামারি, ভিডিও ভাইরাল
ঘুমন্ত গৃহবধূকে ছোবল দিল বিষাক্ত সাপ, দুই দফা অ্যান্টিভেনমেও বাঁচল না প্রাণ