ঢাকা শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩

খালেদা জিয়ার নাম থাকায় জোরপূর্বক বদলে ফেলা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা

আবু তাহের

প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ১ মার্চ। ছবি: আরটিভি

দুই দশক পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে ময়মনসিংহের ত্রিশালে অবস্থিত জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয় ২০০৫ সালের ১ মার্চ। আর উদ্বোধন করা হয় ২০০৬ সালের ২৫ মে।

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন দুটোই করেছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সেই কারণে দুটি ফলকেই ছিল তার নাম।

image

অভিযোগ রয়েছে, পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার নামসংবলিত এসব ফলক অবহেলার শিকার হয়। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশা ও সীমানা নির্ধারণেও পরিবর্তন আসে, যার ফলে ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থেকে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের জমির পরিমাণ ছিল প্রায় সাড়ে ১৫ একর। সে সময় ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে পরবর্তীতে পরিবর্তন হয়ে যায় গেট নির্মাণের স্থান। ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের রাস্তা বন্ধ করে সেখানে নির্মাণ করা হয় শিউলিমালা হল। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে সম্প্রসারণ করা হলেও পশ্চিম দিকে ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানা সম্প্রসারিত হলেও ভিত্তিপ্রস্তরটি বাইরে থেকে যায়।

পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় জমির পরিমাণ কম ছিল। সে সময় ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে গেট নির্মাণের পরিকল্পনা থাকলেও সেটি এক পাশে হয়ে যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবার সুবিধার কথা বিবেচনা করে গেটটি মাঝামাঝি স্থানে নির্মাণ করা হয়। তার দাবি, সে সময় বিএনপিপন্থি শিক্ষকরা এর বিরোধিতা করলেও আওয়ামীপন্থি প্রশাসন বিষয়টি আমলে নেয়নি। পরবর্তী সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণ করা হলেও ভিত্তিপ্রস্তরের পাশের জমি অধিগ্রহণ করা হয়নি। এর ফলে ভিত্তিপ্রস্তরটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরেই থেকে যায়।

শুধু ভিত্তিপ্রস্তর নয়, এর পাশের ঐতিহাসিক বটগাছটিও এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে। ত্রিশালের এই বটগাছটি কবি নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত। প্রায় ১১২ বছর আগে কিশোর নজরুল আসানসোল থেকে ত্রিশালে এসে দরিরামপুর ইংরেজি হাইস্কুলে ভর্তি হন। স্কুল ফাঁকি দিয়ে তিনি নামাপাড়ার শুকনি বিলের পাড়ের একটি বটগাছে উঠে প্রায়ই বাঁশি বাজাতেন বলে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত রয়েছে। সেই গাছটিই বর্তমানে ‘নজরুল বটবৃক্ষ’ নামে পরিচিত।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনেও ছিল দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাবিদদের দাবি। বিশেষ করে নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ত্রিশালেই একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জনমনে আবেগের জন্ম দিয়েছিল। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে বিএনপি সরকারের সময় বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি বরাদ্দ, আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়ে যায়। ২০০৬ সালের ৯ মে জাতীয় সংসদে ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৬’ পাস হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। এটি দেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়, যা জাতীয় কবির নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর খালেদা জিয়ার নামসংবলিত ভিত্তিপ্রস্তর ও উদ্বোধনী ফলক যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ভিত্তিপ্রস্তরের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখার অভিযোগও রয়েছে। অন্যদিকে পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সামনে থাকা উদ্বোধনী ফলকটি বিভিন্ন সময় ফুলের টব ও অন্যান্য জিনিস দিয়ে আড়াল করে রাখা হতো। তবে ৫ আগস্টের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দুটি ফলকই পরিমার্জন করা হয়েছে।

image

স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, আমরা দেখেছি এই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন খালেদা জিয়া সরকার। খালেদা জিয়া এখানে এসেছিলেন এবং উদ্বোধনও করেছিলেন। তারপর হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের সবকিছু চেঞ্জ হলো। এদিক দিয়ে (ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়ে) একটা রাস্তা ছিলো, সেটা বন্ধ করে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় হল (শিউলীমালা হল) তৈরি করা হলো। বাউন্ডারি করা হলো, তবুও খালেদা জিয়ার স্থাপিত ভিত্তিপ্রস্তর বাইরে রেখেই করা হলো। আমরা তো চাই এটা (ভিত্তিপ্রস্তর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নেওয়া হোক।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে থাকায় বটতলার ভিত্তিপ্রস্তরটির চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখা হতো। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও ছাত্রলীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আমরা কয়েকবার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামসংবলিত ভিত্তিপ্রস্তরটি পরিষ্কার করে রং করে দিয়েছি। এ কারণে অনেককে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ডা. মাহাবুবুর রহমান লিটন ভাইয়ের প্রচেষ্টায় প্রশাসন জমি অধিগ্রহণ করে নামফলকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসবে। এতে ঐতিহাসিক বটগাছটিও নতুন প্রাণ ফিরে পাবে। এই গাছের নিচেই বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাঁশি বাজাতেন বলে আমরা জানি। একসময় বটতলা ছিল আবেগের স্থান। নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত এই বটতলা বর্তমান প্রশাসনের হাত ধরে আবার প্রাণ ফিরে পাক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

সদস্য সচিব মারুফ হাসান (মামুন সরকার) বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ভিত্তিপ্রস্তরটি কোনো ব্যক্তি বা দলের সম্পত্তি নয়, এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্ম-ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। ২০০৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে স্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন, সেই স্থানটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার বাইরে—বিষয়টি সত্যিই দুঃখজনক। নতুন প্রশাসনের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান দেখিয়ে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত উদ্যোগ নেওয়া হোক। সম্ভব হলে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও বটগাছকে ক্যাম্পাসের অন্তর্ভুক্ত করে সেখানে একটি সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান নির্মাণ করা হোক। আমরা কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চাই না, চাই ইতিহাসের যথাযথ সংরক্ষণ। যে স্থান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রার সূচনা, সেই স্থানটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশ হিসেবে মর্যাদা পাক—এটাই প্রত্যাশা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা বলেন, বর্তমানে যে ভিত্তিপ্রস্তরটি বাইরে রয়েছে, তার পাশ দিয়েই আগে রাস্তা ছিল। রাস্তা থেকে ভিত্তিপ্রস্তর দেখা যেত। কিন্তু গত প্রশাসন সেই রাস্তা বন্ধ করে তার ওপর শিউলিমালা হল নির্মাণ করেছে। ফলে ভিত্তিপ্রস্তরটি পেছনে পড়ে যায়। পরে সীমানা প্রাচীরও এমনভাবে নির্মাণ করা হয় যে এটি বাইরে থেকেই যায়। আমরা তখনও রাস্তা রাখার আবেদন করেছিলাম, কিন্তু তা মানা হয়নি।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি জায়গাটি অধিগ্রহণ করে, তাহলে মালিকপক্ষ জায়গাটি ছেড়ে দিতে রাজি আছে বলে আমরা জেনেছি। সেই হিসেবে আমরা যদি জায়গাটা কিনে নিতে পারি, তাহলে ভিত্তিপ্রস্তর সংলগ্ন জায়গাটা আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে নিয়ে নেবো। এছাড়াও হলের পাশ দিয়ে একটি রাস্তা করারও আমাদের একটি পরিকল্পনা আছে।

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ও সাদা দলের সদস্য সচিব মো. তানজিল হোসেন বলেন, ভিত্তিপ্রস্তর সীমানার বাহিরে রাখা সহ সবকিছুই ছিল গত সরকারের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক চক্রান্ত।

image

সাদা দলের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা বিবৃতি দেখা যায়নি, এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি আরটিভিকে জানান, ২০০৯ সালের পর থেকে সাদাদল তাদের কার্যক্রম সক্রিয়ভাবে পরিচালনা করে। ছাত্রদলের ওপর মারধরের প্রতিবাদ এবং শিক্ষার্থীবান্ধব সকল কাজেই সাদাদল ভূমিকা রাখে। তবে ২০১৪ সালের একপাক্ষিক নির্বাচনের পর থেকে সাদাদল তাদের কার্যক্রম আর সেইভাবে পরিচালনা করতে পারেনি। কাজ করতে গেলে বিভিন্ন বাধা ও ঝুঁকির সম্মুখীন হতে হতো। ২০১৪ সালের পর থেকে আমরা যারা বিএনপিপন্থি শিক্ষক ছিলাম, আমাদেরকে একঘরে করে রাখা হয়েছিল। আমাদের কাছে কোনো শিক্ষার্থীকে আসতে দেওয়া হতো না, আমাদের প্রমোশন দেওয়া হতো না। আমাদের অনেক শিক্ষককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে শুধু সাদাদল করার কারণে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ও সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর বেগম খালেদা জিয়া স্থাপন করেছিলেন। তার সংশ্লিষ্টতা থাকায় বিগত সরকার রাজনৈতিক কারণে এটিকে সীমানার বাইরে রেখে দেয়। ভিত্তিপ্রস্তরের পাশ দিয়েই গেট হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু সেখানে হল নির্মাণ করা হয়েছে। আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। ইতোমধ্যে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ করতে পারলে ভিত্তিপ্রস্তরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে আনা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মোশারফ হোসেন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরটি বর্তমানে সীমানার বাইরে রয়েছে। সেটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। সেখানে ঐতিহাসিক বটতলাও রয়েছে, যাকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাই বটতলা ও ভিত্তিপ্রস্তর—দুটোকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক ভিত্তিপ্রস্তর ও নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত বটতলাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে পুনরায় সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ঐতিহাসিক স্থান দুটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

আরটিভি /এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
মাত্র ১ টাকা জরিমানা, অথচ তা পরিশোধ করতে যেতে হলো ব্যাংকে, দাঁড়াতে হলো লাইনে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই জমা দিতে দেরি হওয়ায় এক শিক্ষার্থীর এমন অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এক টাকা জরিমানা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরলে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। জানা গেছে, প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো নিয়মে এখনো ব্যাংকের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। তবে এ প্রক্রিয়া অনলাইনে চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগার পরিচালক। পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখেন, ‌ঢাকা ইউনিভার্সিটি লাইব্রেরি একটা বই ৮-৯ দিন দেরিতে জমা দেওয়ার কারণে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করেছে! এখন আমাকে টিএসসি জনতা ব্যাংকে যেতে হবে, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে, আর তারপর একটা মাত্র কয়েন দিয়ে সেই জরিমানা পরিশোধ করতে হবে। তিনি লেখেন, আমি পূজার ছুটির আগে বিজ্ঞান গ্রন্থাগার থেকে বই নিয়েছিলাম। বই ফেরত দেওয়ার শেষ সময় ২২ তারিখ থাকলেও আমি পরের মাসের ৩ তারিখে বই জমা দিতে যাই। তখন ২২ তারিখ থেকে হিসাব করে আমাকে ১ টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি আরও লেখেন, আমার হল কাছে, তাই ব্যাংকে টাকা দিতে আমার অতটা প্যারা হয়নি। কিন্তু জিনিসটা বেশ অদ্ভুত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারের পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আসলে আমারও জানা ছিল না এক টাকা হলেও ব্যাংকে দিতে হয়। এই জরিমানায় নিয়ম অনেক পুরোনো। আমি কাগজ ঘেঁটে দেখলাম ১৯৭৫ সাল বা স্বাধীনতার আগ থেকেই এই নিয়ম রয়েছে। আমাদের সামনে লাইব্রেরি কমিটির মিটিংও আছে, আমি কথা বলব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। এটা যেহেতু সামান্য অর্থ, আমরা হয়তো অনলাইনে নিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করব। তিনি বলেন, গ্রন্থাগারে বই নির্ধারিত সময়ের পর জমা দেওয়া কিংবা হারিয়ে ফেললে বিভিন্ন নিয়ম আছে। বইটা যদি খুব সাম্প্রতিক হয়, তাহলে বইয়ের দাম দিলেই হয়। কিন্তু বইটা যদি ১৯৬০ সালের হয়, ওখানে দাম লেখা আছে ৫০ পয়সা। তাহলে এইটার জন্য আমাদের ভিন্ন নিয়ম আছে। আরটিভি/টিআর
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ১ টাকা জরিমানা, জমা দিতে যেতে হয় ব্যাংকে
এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী
দেশের বিভিন্ন বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত আরও ৩৭৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী নতুন করে এমপিওভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একই সঙ্গে ১ হাজার ৫৯৪ শিক্ষককে বিএড স্কেল এবং ৫ হাজার ৪৭৪ শিক্ষককে উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এমপিওভুক্ত হলেন ৩৭৬ শিক্ষক-কর্মচারী
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা করছে একটি চক্র। বিকাশ, নগদ ও রকেটের এজেন্ট কিংবা স্থানীয় দোকানদারের পরিচয় ব্যবহার করে ফোনে জাল নোট লেনদেনের অভিযোগ তোলা হচ্ছে। পরে থানায় মামলা করার হুমকি দিয়ে চক্রটি দাবি করছে বড় অঙ্কের টাকা।
যবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে টার্গেট করে প্রতারণার চেষ্টা, দাবি করা হচ্ছে বড় অঙ্কের টাকা
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) মার্কেটিং বিভাগের আয়োজন এবং ‘মার্কেটার্স ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ’ (এমআইবি)-এর উদ্যোগে জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে পালিত হয়েছে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’।
বেরোবিতে ‘নবম বাংলাদেশ মার্কেটিং দিবস’ উদ্‌যাপন
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই বিভাগের তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ ইসমাইল হোসেন সিরাজী ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে।  আহত শিক্ষার্থীরা হলেন— নৃবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের মো. আলী চৌধুরী আবিদ ও শাওন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের তানভীর হোসাইন। প্রত্যক্ষদর্শী ও দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভবনটির সামনে ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।  এক পক্ষের দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরির জন্য বাঁশ পুঁতে জায়গা নির্ধারণ করে রেখেছিলেন। পরে অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা একই জায়গায় কোর্ট তৈরির উদ্যোগ নিলে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। একপর্যায়ে কথাকাটাকাটি থেকে মারামারির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের আহত এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় অন্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধ হয়ে তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ব্যাডমিন্টন কোর্টের বাঁশ দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। এতে তার নাক ও চোখের নিচে আঘাত লাগে এবং নাক দিয়ে রক্তপাত হয়। পরে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।  ওই শিক্ষার্থীর দাবি, কয়েক দিন আগে তারা সেখানে কোর্ট তৈরি করেছিলেন। অন্য পক্ষের কোর্ট তৈরির দাবির পক্ষে কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন বা প্রমাণ ছিল না। অন্যদিকে নৃবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা কোর্ট তৈরি করব বলে সেখানে বাঁশ পুঁতে জায়গাটি নির্ধারণ করে রেখেছিলাম। কিছুদিন আগে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই অনুষ্ঠানের কারণে সেখানে আরও কিছু বাঁশ পোঁতা হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে তাদের বাঁশের সঙ্গে আমাদের বাঁশও তুলে নেওয়া হয়। এরপর আমাদের নির্ধারিত জায়গায় তারা কোর্ট তৈরি করতে চায়। বিষয়টি জানালে তারা মেনে নেওয়ার কথা বলে।  ‘কিন্তু আজ আমাদের বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র কোর্ট তৈরি করতে গেলে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ১৫-২০ জন শিক্ষার্থী তাদের সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে মারধর করেন। পরে প্রক্টর স্যার এসে বিষয়টি মীমাংসা করলে আমরা চলে যেতে চাই। এ সময় আবারও আমাদের ওপর হামলা করা হয়।’ এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক এএইচএম খুরশিদ আলম বলেন, এ ঘটনায় মোট তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজনের নাকে আঘাত লেগেছে, একজনের মাথায় সামান্য ক্ষত হয়েছে এবং অন্যজনের হাতে ব্যথা পেয়েছেন। আহতদের বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।  ‘হাতে আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর হাড় ভাঙার আশঙ্কায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে এক্স-রে করানো হয়। তবে পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক এসেছে। মাথায় আঘাত পাওয়া শিক্ষার্থীর ক্ষতেও ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনজনই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিজ নিজ আবাসস্থলে ফিরেছেন। তাদের কারও অবস্থা গুরুতর নয়।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক স্বপ্নিল রহমান বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করতে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় বসেছেন। এখনো ঘটনার চূড়ান্ত মীমাংসা হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  আরটিভি/এসআর  
রাবিতে ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি নিয়ে দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ
আরও পড়ুন
ময়মনসিংহে লোকালয় থেকে মেছোবাঘ উদ্ধার
শিশুছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন, মাদরাসাশিক্ষকের রুমে মিলল উত্তেজক হালুয়া-তন্ত্রমন্ত্রের বই
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে পোশাক শ্রমিকদের বিক্ষোভ
নির্মাণসামগ্রী নামমাত্র দামে বিক্রি করে ‘উল্লাস’ করছেন সোনার বাংলার শিক্ষকরা