
জুলাই আন্দোলনে পাবনা জেলার দুই শহীদ ‘জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও মাহবুব হাসান নিলয়ের' স্মরণে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) একটি স্থাপনাকে ‘শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বর’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। স্থাপনাটি সংস্কারের উদ্দেশ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নকশা (ডিজাইন) আহ্বান করার পর প্রায় এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
একই সময়ে আহ্বান করা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নামফলকের কাজ শেষ হলেও শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বরের কাজ শুরু না হওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ সংস্কার ও নামফলকের অভাবে নবীন ব্যাচ সহ অনেকেই জানেনই না আসলে কোনটি শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বর।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নকশা আহ্বান করে গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রাশেদুল হক স্বাক্ষরিত একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে প্রত্যেকটি নকশা লিখিত আকারে জমা দিতে বলা হয়। জমা দেওয়া নকশাগুলো যাচাই-বাছাই শেষে দুই স্থাপনার জন্য একটি করে সেরা নকশা নির্বাচন এবং নির্বাচিত নকশাকারকে ৩৫ হাজার টাকা করে পুরস্কার দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।
স্থাপনাটির বিষয়ে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাবনায় বিজয় মিছিল শুরু হয়। ওইদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি বিজয় মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসে আসেন। এ সময় শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে নির্মিত ম্যুরাল ‘জনক জ্যোতির্ময়’ ভাঙার চেষ্টা করা হয়। তবে বাধার মুখে স্থাপনাটি ভাঙা সম্ভব না হলেও বিভিন্ন ইস্যুতে তিন দফায় ম্যুরালটির চেহারা বিকৃত করা হয়। কখনো রং মেখে চেহারা ঢেকে দেওয়া হয়, আবার কখনো পাবনায় শহীদ হওয়া জাহিদ-নিলয়ের ছবি পোস্টার আকারে সেখানে টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
সবশেষ ম্যুরাটির টাইলস তুলে ফেলা হলেও এখনও দূর থেকে স্পষ্ট শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি বোঝা যায়। এখানেই মূলত আসল বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি কিভাব শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বর হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি দ্রুতই যেন এই ম্যুরালটি সংস্থার করে শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বরের কাজটি সম্পন্ন করা হয়।
জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাব্বাস শেখ মিজান বলেন, জুলাই আন্দোলনে পাবনা জেলার শহীদ জাহিদ ও নিলয়ের স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে বঙ্গবন্ধু ম্যুরালের নাম পরিবর্তন করে ‘শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বর’ করার যে উদ্যোগ প্রশাসন নিয়েছিল, তার পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এখনো দৃশ্যমান নয়। নতুন শিক্ষার্থীদের কাছেও বিষয়টি যথাযথভাবে পরিচিত নয়। শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে প্রশাসনের প্রতি বিনীত অনুরোধ থাকবে, তারা যেন প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রম দ্রুত ও যথাযথভাবে সম্পন্ন করেন।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মজনু আলম মন্ডল বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠের সম্মুখে থাকা একজন ফ্যাসিস্টের ম্যুরাল সরিয়ে সেখানে পাবনায় শহীদ হওয়া জাহিদ-নিলয়ের স্মরণে একটি স্থাপনা তৈরির কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সেই ঘোষণার বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। যে জুলাই শহীদদের রক্তের ওপর আজকের বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে, সেই জুলাই শহীদদের প্রতি অবহেলা বা তাদের স্মৃতি রক্ষায় প্রশাসনের উদ্যোগ না থাকা কিংবা পূর্বঘোষিত অবস্থানের প্রতি অবহেলা প্রদর্শন বাঞ্ছনীয় নয়। আমরা বর্তমান প্রশাসনের কাছে শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বরের দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
কাজের অগ্রগতির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের নামফলক ও শহীদ জাহিদ-নিলয় চত্বরের নকশার বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করে দিয়েছিলাম। কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের কাছে শুধু প্রধান ফটকের নামফলকের নকশা ফরওয়ার্ড করা হয়েছে। তবে এখনো জাহিদ-নিলয় চত্বরের বিষয়ে কোনো নকশা আমাদের কাছে আসেনি। আমরা খুব দ্রুতই এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেব।
উল্লেখ্য, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ৪ আগস্ট তৎকালীন পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাইয়িদের গুলিতে পাবনা শহরের লতিফ টাওয়ারের সামনে জাহিদুল ইসলাম জাহিদ ও মাহবুব হাসান নিলয় শহীদ হন।
আরটিভি/এসআর




