ঢাকা শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ এএম
ছবি: আরটিভি

এক ব্যাগ রক্ত, অসংখ্য জীবনের আশা
রাত গভীর। হাসপাতালের করিডোরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ছোটাছুটি। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা, একটাই প্রশ্ন—“রক্ত পাওয়া যাবে তো?” ঠিক এমন অসংখ্য সংকটময় মুহূর্তে নীরবে পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ব্লাড ব্যাংক। প্রচারের আলো নয়, মানবতার দায়বদ্ধতাকেই শক্তি হিসেবে নিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই পথচলা। করোনা মহামারির দুঃসময়ে যখন রক্তের সংকটে অসহায় হয়ে পড়েছিল বহু মানুষ, তখনও থেমে থাকেনি এই সংগঠন। জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া এবং মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, হাজারো মানুষের আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন লাভের পর বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্বে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে চলছে মানবতার এই যাত্রা।

আড়াই হাজারের বেশি রক্তদান, দুই হাজারের বেশি মানুষের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং
পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের পর ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে আনুমানিক আড়াই হাজারেরও বেশি ব্যাগ রক্ত রোগীদের কাছে পৌঁছেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, কারণ অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে রক্তদান করলেও তা সব সময় ডেটাবেজে যুক্ত হয় না। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৭০০-এর বেশি, ২০২৪ সালে ১৫০-এর বেশি, ২০২৫ সালে দুটি পৃথক ক্যাম্পেইনে ১৫০ ও ২০০-এর বেশি এবং ২০২৬ সালে দুটি বড় আয়োজনে ২৫০ ও ১৫০-এর বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। প্রতিটি আয়োজনেই রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ৫০ জন যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোর শহরের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছায় রক্তদাতা কমিউনিটিগুলোর একটি এখন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের নিয়েই গড়ে উঠেছে।

রক্তদান ছাড়িয়ে মানবিকতার বিস্তৃত পরিসর
যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম কেবল রক্ত সংগ্রহ বা রক্তদাতা ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনায় স্বাস্থ্য ও রক্তদানবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ডোনার সংবর্ধনার মতো বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আলোচনা সভার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই মানবিক মূল্যবোধ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। গত বছর থেকে নিয়মিত রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে চালু হয়েছে ‘সিলভার হার্ট অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘গোল্ডেন হার্ট অ্যাওয়ার্ড’, যা নতুন প্রজন্মকে রক্তদানে আরও উৎসাহিত করছে।

আরও পড়ুন

একটি সংগঠন নয়, মানবতার এক অনন্য আন্দোলন
এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদে নেতৃত্ব দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রান্ত কুমার। দ্বিতীয় পরিষদে ছিলেন ফারুক হোসেন ও জুয়েল রানা, তৃতীয় পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন মাসুম বিল্লা ও মুর্তজা বশির এবং বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জসিম উদ্দীন ও সাকলায়েন মোস্তাক। তাঁদের ধারাবাহিক নেতৃত্বে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ এমন এক মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটি রক্তের ব্যাগ মানে শুধু চিকিৎসার উপকরণ নয়; এটি একজন মায়ের মুখে হাসি, একটি পরিবারের স্বস্তি, একটি শিশুর নতুন জীবন কিংবা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠন প্রমাণ করেছে, মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয় পদবি বা পরিচয়ে নয়; বরং নিঃস্বার্থভাবে অন্যের জীবনের জন্য এগিয়ে আসার মধ্যেই। সেই বিশ্বাস নিয়েই যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজও লিখে চলেছে মানবতার অনন্য এক ইতিহাস।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ইবিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তৃতীয় পর্যায়ে ১ম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) ১৬তম সভা ও চলমান উন্নয়নকাজের সাইট পরিদর্শন করা হয়েছে।
ইবিতে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
জবিতে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু ১৮ অক্টোবর
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী ১৮ অক্টোবর (রবিবার) থেকে ২২ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
জবিতে দুর্গাপূজার ছুটি শুরু ১৮ অক্টোবর
রাবিতে তিন ছাত্রদল নেতা-কর্মীসহ চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত শাখা ছাত্রদলের তিনজন নেতা-কর্মী ও হল সংসদের জিএসের ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপাচার্যের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের সামনে এমনটা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে সংগঠিত ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিতকরণ এবং দোষীদের শাস্তির বিষয়ে ৫ (পাঁচ) সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। প্রশাসন কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে লিখিত একটি প্রতিবেদন গতকাল মধ্য রাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হস্তগত হয়েছে। তদন্ত কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ সম্পর্কে তিনি বলেন, সব ধরনের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে অপরাধের ধরন ও মাত্রা বিবেচনায় আহসান হাবীব (সহসভাপতি, রাবি ছাত্রদল), বিশাল চক্রবর্তী (রাবি ছাত্রদল কর্মী), হাসিবুল হাসান (যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, রাবি ছাত্রদল), আরিফুল ইসলামের (জিএস, জিয়া হল সংসদ) ছাত্রত্ব সাময়িকভাবে বাতিলের সুপারিশ করা হলো। তিনি আরও বলেন, রাকসুর সহসাংকৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম, রাবি শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি তাকবীর আহমেদ ইমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজহারুল ইসলাম, ছাত্রদল কর্মী তানিম রহমানের বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও বিভিন্ন ধরনের প্রমাণাদি অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি বুলবুল রহমান, সহসভাপতি শরীফুল ইসলাম ও সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলমকে সতর্ক করার জন্য সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। প্রসঙ্গত, গত ৪ অক্টোবর রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হন।  এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। আরটিভি/এসআর ‎  
রাবিতে তিন ছাত্রদল নেতা-কর্মীসহ চারজনের ছাত্রত্ব বাতিলের সুপারিশ
টানা পাঁচবার বিশ্বের ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় পাবিপ্রবির অধ্যাপক
বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় এবারও স্থান পেয়েছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম। এ নিয়ে টানা পাঁচবার (২০২২–২০২৬) এই তালিকায় তার অন্তর্ভুক্তি শিক্ষকতা ও গবেষণাজীবনের একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন। অধ্যাপক ড. নূর আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র গবেষণাজীবনের প্রভাবভিত্তিক ‘ক্যারিয়ার-লং’ বিভাগে ২০২৬ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র গবেষক হিসেবে তিনি স্থান পেয়েছেন। এ বছর একক বছরের গবেষণার প্রভাবভিত্তিক ‘সিঙ্গেল-ইয়ার’ তালিকাতেও তার নাম রয়েছে। এ-সংক্রান্ত স্বীকৃতির নথিতে তথ্যের উৎস হিসেবে এলসেভিয়ার ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকার উল্লেখ রয়েছে। বর্তমানে তিনি মালয়েশিয়ার সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ম্যাথমেটিক্যাল সায়েন্সেসে পোস্টডক্টরাল রিসার্চ ফেলো হিসেবে কর্মরত। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিনের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তিনি আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে ফলিত ও গণনামূলক গণিতের বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন। তার গবেষণার উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অরৈখিক তরঙ্গ ও সলিটন, ভগ্নাংশীয় ডিফারেনশিয়াল সমীকরণ, গাণিতিক ও জ্যামিতিক মডেলিং এবং তরল প্রবাহ ও তাপ সঞ্চালনের সংখ্যাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। পাশাপাশি মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জটিল ব্যবস্থার আচরণ বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস নিয়েও গবেষণা করছেন তিনি। এসব গবেষণায় গণিতের তত্ত্ব ও গণনাপদ্ধতির মাধ্যমে পদার্থবিজ্ঞান ও প্রকৌশলের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান অনুসন্ধান করা হয়। তার জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তার দেড় শতাধিক গবেষণা প্রকাশনা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের গবেষকদের সঙ্গে যৌথ গবেষণার পাশাপাশি তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার তত্ত্বাবধান করেছেন। আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মূল বক্তা, আমন্ত্রিত বক্তা ও সেশন চেয়ার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গবেষণায় অবদানের জন্য ২০২২ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রিসার্চ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পান অধ্যাপক ড. নূর আলম। তার জীবনবৃত্তান্তে ২০২৬ সালে ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়ার কাছ থেকে ‘রিসার্চ ডুয়াম অ্যাকাডেমিশিয়ান এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ পাওয়ার তথ্যও রয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর তিনি পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে চীনের ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি অব চায়না থেকে ২০২০ সালে গণনামূলক গণিতে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। ২০১২ সালে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে তার শিক্ষকতাজীবন শুরু হয়। ২০২৪ সালে তিনি অধ্যাপক পদে উন্নীত হন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে সানওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল গবেষণায় যোগ দেন। এই অর্জন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ড. নূর আলম বলেন, টানা পাঁচ বছর এই তালিকায় স্থান পাওয়া আমার জন্য আনন্দের। বিশেষ করে ক্যারিয়ার-লং তালিকায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করতে পারা আমার কাছে অনেক অর্থবহ। এই পথচলায় আমার শিক্ষক, সহগবেষক, শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের অবদান রয়েছে। আমার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের ভালোবাসা এবং সহযোগিতা আমাকে কাজ চালিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে। তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। দেশে গবেষণার সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে গবেষণার অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে নিয়মিত দিকনির্দেশনা, প্রয়োজনীয় গবেষণা সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা দরকার। আমি চাই, আমার অভিজ্ঞতা তরুণ গবেষকদের কাজে আসুক। তাদের প্রশ্ন করতে, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ করতে এবং ব্যর্থতার পরও চেষ্টা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দেওয়াই হবে এই স্বীকৃতির একটি অর্থপূর্ণ প্রতিদান। আরটিভি/টিআর
টানা পাঁচবার বিশ্বের ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় পাবিপ্রবির অধ্যাপক
ডিসিইউ সাংবাদিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম সাব্বির
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির (ডিসিইউজেএ) ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এইচ. এম. সাইফুল ইসলাম সাব্বির। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে তাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে তিনি সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির (ডিসিইউ) সরকারি বাঙলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাইফুল ইসলাম সাব্বির বাঙলা কলেজ সাংবাদিক সমিতির (বাকসাস) উপদেষ্টা ও সাবেক সভাপতি। পাশাপাশি তিনি জাতীয় দৈনিক গণকণ্ঠ-এর হেড অব ডিজিটাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সমিতির সদস্যসচিব স্মৃতি আক্তার উচ্চশিক্ষা অর্জনের জন্য বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করায় সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে সাইফুল ইসলাম সাব্বিরকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এইচ. এম. সাইফুল ইসলাম সাব্বির বলেন, আমার ওপর আস্থা রেখে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তা সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব। সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সুসংগঠিত করার পাশাপাশি বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে কাজ করব। এ জন্য সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। সমিতির সদস্যসচিব স্মৃতি আক্তার বলেন, উচ্চশিক্ষার প্রয়োজনে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও সংগঠনের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এইচ. এম. সাইফুল ইসলাম সাব্বির সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞ। আমি আশাবাদী, তিনি তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠা ও দক্ষতার সঙ্গে পালন করবেন এবং সমিতির কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ভূমিকা রাখবেন। সমিতির সব সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সংগঠনটি বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চায় আরও এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করি। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি সাংবাদিক সমিতির আহ্বায়ক আতিকুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে এইচ. এম. সাইফুল ইসলাম সাব্বিরকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর সাংবাদিকতা ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা সমিতির কার্যক্রমকে আরও সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো তুলে ধরতে সমিতি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে বলে আমরা আশাবাদী। আরটিভি/টিআর
ডিসিইউ সাংবাদিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম সাব্বির
আরও পড়ুন
নেপালের দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন
ঢাকায় কয়েকটি হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করে দিলো সরকার