ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক

যবিপ্রবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৭ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৮ এএম
ছবি: আরটিভি

এক ব্যাগ রক্ত, অসংখ্য জীবনের আশা
রাত গভীর। হাসপাতালের করিডোরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ছোটাছুটি। অপারেশন থিয়েটারের বাইরে অপেক্ষা, একটাই প্রশ্ন—“রক্ত পাওয়া যাবে তো?” ঠিক এমন অসংখ্য সংকটময় মুহূর্তে নীরবে পাশে দাঁড়িয়েছে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ব্লাড ব্যাংক। প্রচারের আলো নয়, মানবতার দায়বদ্ধতাকেই শক্তি হিসেবে নিয়ে ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর কয়েকজন স্বপ্নবাজ শিক্ষার্থীর হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই পথচলা। করোনা মহামারির দুঃসময়ে যখন রক্তের সংকটে অসহায় হয়ে পড়েছিল বহু মানুষ, তখনও থেমে থাকেনি এই সংগঠন। জরুরি রক্তের ব্যবস্থা করা, স্বেচ্ছায় রক্তদাতা খুঁজে দেওয়া এবং মানুষকে রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করার মাধ্যমে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, হাজারো মানুষের আস্থার প্রতীক। দীর্ঘ পথচলার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২২ সালের ডিসেম্বরে পূর্ণাঙ্গ অনুমোদন লাভের পর বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্বে আরও সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে চলছে মানবতার এই যাত্রা।

আড়াই হাজারের বেশি রক্তদান, দুই হাজারের বেশি মানুষের ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং
পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের পর ২০২২ সালের ডিসেম্বর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে আনুমানিক আড়াই হাজারেরও বেশি ব্যাগ রক্ত রোগীদের কাছে পৌঁছেছে। প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি, কারণ অনেক শিক্ষার্থী ব্যক্তিগত উদ্যোগে রক্তদান করলেও তা সব সময় ডেটাবেজে যুক্ত হয় না। একই সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে আয়োজিত ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে দুই হাজারেরও বেশি মানুষের বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৩ সালে ৭০০-এর বেশি, ২০২৪ সালে ১৫০-এর বেশি, ২০২৫ সালে দুটি পৃথক ক্যাম্পেইনে ১৫০ ও ২০০-এর বেশি এবং ২০২৬ সালে দুটি বড় আয়োজনে ২৫০ ও ১৫০-এর বেশি মানুষের রক্তের গ্রুপ নির্ণয় করা হয়। প্রতিটি আয়োজনেই রক্তদানের গুরুত্ব, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন এবং স্বাস্থ্যসচেতনতা নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে অন্তত ৫০ জন যবিপ্রবি শিক্ষার্থী নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করছেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, যশোর শহরের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছায় রক্তদাতা কমিউনিটিগুলোর একটি এখন যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের নিয়েই গড়ে উঠেছে।

রক্তদান ছাড়িয়ে মানবিকতার বিস্তৃত পরিসর
যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংকের কার্যক্রম কেবল রক্ত সংগ্রহ বা রক্তদাতা ব্যবস্থাপনায় সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনায় স্বাস্থ্য ও রক্তদানবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম, ব্লাড ডোনেশন ক্যাম্পেইন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ব্লাড গ্রুপিং, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং ডোনার সংবর্ধনার মতো বিভিন্ন আয়োজন নিয়মিত পরিচালিত হচ্ছে। এ ছাড়া যবিপ্রবি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্লাড গ্রুপিং ক্যাম্পেইন ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক আলোচনা সভার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই মানবিক মূল্যবোধ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানের গুরুত্ব তুলে ধরা হচ্ছে। গত বছর থেকে নিয়মিত রক্তদাতাদের সম্মান জানাতে চালু হয়েছে ‘সিলভার হার্ট অ্যাওয়ার্ড’ ও ‘গোল্ডেন হার্ট অ্যাওয়ার্ড’, যা নতুন প্রজন্মকে রক্তদানে আরও উৎসাহিত করছে।

আরও পড়ুন

একটি সংগঠন নয়, মানবতার এক অনন্য আন্দোলন
এই দীর্ঘ যাত্রায় প্রথম কার্যনির্বাহী পরিষদে নেতৃত্ব দেন মোস্তাফিজুর রহমান ও প্রান্ত কুমার। দ্বিতীয় পরিষদে ছিলেন ফারুক হোসেন ও জুয়েল রানা, তৃতীয় পরিষদের নেতৃত্বে ছিলেন মাসুম বিল্লা ও মুর্তজা বশির এবং বর্তমানে চতুর্থ কার্যনির্বাহী পরিষদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জসিম উদ্দীন ও সাকলায়েন মোস্তাক। তাঁদের ধারাবাহিক নেতৃত্বে যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজ এমন এক মানবিক আন্দোলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে একটি রক্তের ব্যাগ মানে শুধু চিকিৎসার উপকরণ নয়; এটি একজন মায়ের মুখে হাসি, একটি পরিবারের স্বস্তি, একটি শিশুর নতুন জীবন কিংবা মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা একজন মানুষের গল্প। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সংগঠন প্রমাণ করেছে, মানবতার সবচেয়ে বড় পরিচয় পদবি বা পরিচয়ে নয়; বরং নিঃস্বার্থভাবে অন্যের জীবনের জন্য এগিয়ে আসার মধ্যেই। সেই বিশ্বাস নিয়েই যবিপ্রবি ব্লাড ব্যাংক আজও লিখে চলেছে মানবতার অনন্য এক ইতিহাস।

আরটিভি/টিআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ছাত্রদলের নবীনবরণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রাতে ঘটে যাওয়া সংঘর্ষের ঘটনায় সংগঠনটির দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।
জবি ছাত্রদলের দুই নেতাকে শোকজ
পবিপ্রবিতে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চালুর ঘোষণা
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ কনফারেন্স কক্ষে হিউম্যান রিসোর্স (এইচআর) ক্লাব আয়োজিত ‘১০ম ব্যাচ মেজর সেমিস্টার: উৎকর্ষের পথে যাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পবিপ্রবিতে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চালুর ঘোষণা
ইবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে থাকছে না রোল, আসছে ‘কোডিং পদ্ধতি’
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর না রেখে ‘কোডিং সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আরটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। উপাচার্য বলেন, কোডিং সিস্টেমে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আগামী ২৮ তারিখের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। এ বিষয় উপাচার্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগকে কেন্দ্র করে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবি জানাতে গেলে তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য বলেন, ‘তোমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আসো। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের যে-কোনো সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসবে, আমি সমাধান করব। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রোল লেখার নিয়ম তুলে দিয়ে কোডিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।’ পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বরের বদলে কোডিং সিস্টেম চালুর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইবি শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এর মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন থাকবে এবং মূল্যায়নে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আরটিভি/এসএস
ইবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে থাকছে না রোল, আসছে ‘কোডিং পদ্ধতি’
গ্যাস সংকটে জবির ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাহত হচ্ছে রান্নার কার্যক্রম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত গ্যাসসংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে রান্নার কার্যক্রম। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্যাফেটেরিয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একটি গ্যাসলাইন থেকে। অভিযোগ রয়েছে, ওই লাইন থেকেই আরও কয়েকটি স্থাপনায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংযোগ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নিয়মিতভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসনসহ একাধিক স্থাপনায় একই গ্যাসলাইন থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে রান্নার ব্যস্ত সময়ে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ আরও কমে যায়। ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাসসংকটের কারণে নিয়মিত রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হয়। শুধু লাকড়ির পেছনেই প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ক্যান্টিনের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, লাকড়ির চুলায় রান্না করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। ফলে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে রান্নার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খাবারের আইটেম চালু করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানান, গ্যাসসংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সমস্যাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবাই অবগত আছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই জানার পরও এখনো এমন কোনো ব্যবস্থা হয়নি, যাতে ক্যান্টিনে নিয়মিত পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়। গ্যাসসংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রইচ উদ্দিন বলেন, এখন দেশের প্রায় সব জায়গাতেই গ্যাস সংকট রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাদের ক্যাফেটেরিয়ার মেইন লাইনটিও বৈধ কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমরা দ্রুতই চেষ্টা করছি, যেন সমস্যাটি স্থায়ী সমাধান করা যায়। এদিকে গ্যাসসংকটের কারণে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক সময় ক্যান্টিনে খাবার অর্ডার করার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত ক্লাস থাকলে খাবার খেয়ে সময়মতো ক্লাসে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গ্যাসের সমস্যার কারণে যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত দ্রুত এর সমাধান করা। আমরা সময়মতো খাবার পাচ্ছিনা, অথচ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসায় অবৈধভাবে গ্যাসের সাপ্লাই দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও বেশি সজাগ থাকা উচিত। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যান্টিনে খাবারের আইটেমও খুব বেশি বৈচিত্র্যময় নয়। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে যদি নতুন নতুন খাবার যুক্ত করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে। ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে রান্নার সময় কমার পাশাপাশি খাবার তৈরির সক্ষমতাও বাড়বে। এতে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে এবং নতুন নতুন খাবারের আইটেমও যুক্ত করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত গ্যাসসংকটের কারণে একদিকে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের ওপর। তাই ক্যাফেটেরিয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও পৃথক গ্যাসসংযোগ নিশ্চিত করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। আরটিভি/এসএস
গ্যাস সংকটে জবির ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাহত হচ্ছে রান্নার কার্যক্রম
ইবিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ৪২ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর বরাত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক, হলসমুহের প্রভোস্ট, প্রশাসনিক দপ্তরের পরিচালক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ছাত্র-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ কমিটি প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছি। সবাইকে নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করে আগাবো। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নিরাপত্তা জনিত ইস্যু নিয়ে কাজ করছি। সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিব। কোনো ধরনের যাতে ঘাটতি না থাকে সেই বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনে আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/এসএস
ইবিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি
আরও পড়ুন
নেপালের দুর্যোগে নিহতদের স্মরণে যবিপ্রবিতে শিক্ষার্থীদের মোমবাতি প্রজ্বালন
ঢাকায় কয়েকটি হাসপাতাল ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করে দিলো সরকার