ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইবিতে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে থাকছে না রোল, আসছে ‘কোডিং পদ্ধতি’

ইবি সংবাদদাতা, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
ফাইল ছবি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রচলিত পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আসছে। খাতা মূল্যায়নে পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর না রেখে ‘কোডিং সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে আরটিভি অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান।

উপাচার্য বলেন, কোডিং সিস্টেমে পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে আলোচনা করা হয়েছে। আগামী ২৮ তারিখের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় প্রস্তাবটি উত্থাপন করা হবে। এ বিষয় উপাচার্য গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এর আগে ১৬ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের ল অ্যান্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতি নিয়োগকে কেন্দ্র করে নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগের দাবি জানাতে গেলে তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে উপাচার্য বলেন, ‘তোমরা যৌক্তিক দাবি নিয়ে আসো। অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমের যে-কোনো সমস্যা নিয়ে আমার কাছে আসবে, আমি সমাধান করব। আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য কল্যাণকর সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে রোল লেখার নিয়ম তুলে দিয়ে কোডিং সিস্টেম চালু করা হচ্ছে।’

পরীক্ষার খাতায় রোল নম্বরের বদলে কোডিং সিস্টেম চালুর এই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন ইবি শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এর মাধ্যমে খাতা মূল্যায়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পরিচয় গোপন থাকবে এবং মূল্যায়নে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পবিপ্রবিতে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চালুর ঘোষণা
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অনুষদ কনফারেন্স কক্ষে হিউম্যান রিসোর্স (এইচআর) ক্লাব আয়োজিত ‘১০ম ব্যাচ মেজর সেমিস্টার: উৎকর্ষের পথে যাত্রা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পবিপ্রবিতে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগ চালুর ঘোষণা
গ্যাস সংকটে জবির ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাহত হচ্ছে রান্নার কার্যক্রম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত গ্যাসসংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে রান্নার কার্যক্রম। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় বিকল্প হিসেবে লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকে। এতে প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ক্যাফেটেরিয়ায় প্রতিদিন প্রায় ৫-৬ হাজার শিক্ষার্থীর খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, ক্যাফেটেরিয়ার রান্নার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে একটি গ্যাসলাইন থেকে। অভিযোগ রয়েছে, ওই লাইন থেকেই আরও কয়েকটি স্থাপনায় গ্যাসের অবৈধ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি সংযোগ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আবাসিক ভবনে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় নিয়মিতভাবে গ্যাসের চুলা ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসনসহ একাধিক স্থাপনায় একই গ্যাসলাইন থেকে সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব স্থাপনায় গ্যাস ব্যবহারের ফলে বিশেষ করে রান্নার ব্যস্ত সময়ে ক্যাফেটেরিয়ায় গ্যাসের চাপ আরও কমে যায়। ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষ জানায়, গ্যাসসংকটের কারণে নিয়মিত রান্না করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় লাকড়ির চুলায় রান্না করতে হয়। শুধু লাকড়ির পেছনেই প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ক্যান্টিনের পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যবসায়িকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, লাকড়ির চুলায় রান্না করতে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় লাগে। ফলে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহ করা সম্ভব হয় না। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে রান্নার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন নতুন খাবারের আইটেম চালু করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানান, গ্যাসসংকটের বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশল কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। সমস্যাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সবাই অবগত আছেন। সংশ্লিষ্ট সবাই জানার পরও এখনো এমন কোনো ব্যবস্থা হয়নি, যাতে ক্যান্টিনে নিয়মিত পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায়। গ্যাসসংকটের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে জানা যায়, তিনি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. রইচ উদ্দিন বলেন, এখন দেশের প্রায় সব জায়গাতেই গ্যাস সংকট রয়েছে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়েও তা অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে আমাদের ক্যাফেটেরিয়ার মেইন লাইনটিও বৈধ কিনা তা নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে তিতাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। আমরা দ্রুতই চেষ্টা করছি, যেন সমস্যাটি স্থায়ী সমাধান করা যায়। এদিকে গ্যাসসংকটের কারণে ক্যাফেটেরিয়ায় খাবার পেতে দেরি হওয়ার অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরাও। এক শিক্ষার্থী বলেন, অনেক সময় ক্যান্টিনে খাবার অর্ডার করার পর দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। দ্রুত ক্লাস থাকলে খাবার খেয়ে সময়মতো ক্লাসে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। গ্যাসের সমস্যার কারণে যদি এমনটা হয়ে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচিত দ্রুত এর সমাধান করা। আমরা সময়মতো খাবার পাচ্ছিনা, অথচ শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বাসায় অবৈধভাবে গ্যাসের সাপ্লাই দেয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আরও বেশি সজাগ থাকা উচিত। আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যান্টিনে খাবারের আইটেমও খুব বেশি বৈচিত্র্যময় নয়। গ্যাসের সমস্যা সমাধান হলে যদি নতুন নতুন খাবার যুক্ত করা যায়, তাহলে শিক্ষার্থীদের জন্য ভালো হবে। ক্যাফেটেরিয়া কর্তৃপক্ষের দাবি, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হলে রান্নার সময় কমার পাশাপাশি খাবার তৈরির সক্ষমতাও বাড়বে। এতে শিক্ষার্থীদের সময়মতো খাবার সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে এবং নতুন নতুন খাবারের আইটেমও যুক্ত করা সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র ক্যাফেটেরিয়ায় নিয়মিত গ্যাসসংকটের কারণে একদিকে ক্যান্টিন কর্তৃপক্ষকে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, অন্যদিকে এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের খাবার সরবরাহের ওপর। তাই ক্যাফেটেরিয়ার জন্য পর্যাপ্ত ও পৃথক গ্যাসসংযোগ নিশ্চিত করে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা। আরটিভি/এসএস
গ্যাস সংকটে জবির ক্যাফেটেরিয়া, ব্যাহত হচ্ছে রান্নার কার্যক্রম
ইবিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে ৪২ সদস্যের প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর বরাত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।  কমিটিতে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টা, বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের শিক্ষক, হলসমুহের প্রভোস্ট, প্রশাসনিক দপ্তরের পরিচালক, বিএনসিসি, রোভার স্কাউট, ছাত্র-শিক্ষক ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী বিষয়ক দপ্তরের প্রতিনিধিদের সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। এ কমিটি প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রস্তুতি, বিভিন্ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় এবং অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ করবে। এ ব্যাপারে কমিটির সদস্য সচিব ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছি। সবাইকে নিয়ে আরও চিন্তা ভাবনা করে আগাবো। প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নিরাপত্তা জনিত ইস্যু নিয়ে কাজ করছি। সার্বিক বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিব। কোনো ধরনের যাতে ঘাটতি না থাকে সেই বিষয়টা মাথায় রেখে কাজ করে যাচ্ছি। প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত ‘শহীদ আবরার ফাহাদ হল’ উদ্বোধনে আগামী মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১১ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর গুলশানস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আরটিভি/এসএস
ইবিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি
ইন্টার্নশিপ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মাভাবিপ্রবির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়ালটন
ইন্টার্নশিপ, গবেষণা, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ ও শিল্পখাতে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন। এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ওয়ালটন ইন্ডাস্ট্রি পরিদর্শন করেন মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। ভবিষ্যতে উভয় প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে এ পরিদর্শন ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে বিশ্ববিদ্যালয় ও ওয়ালটনের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ, ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ, শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনী কার্যক্রমে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে অর্জিত জ্ঞানকে বাস্তব জীবনের প্রয়োগের সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ও উৎপাদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হলে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মজীবনের প্রস্তুতি আরও সমৃদ্ধ হবে। তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্র সম্প্রসারিত করা সম্ভব। প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলে মাভাবিপ্রবির শিক্ষার্থীরা ওয়ালটনের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপ ও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক ও ওয়ালটনের প্রযুক্তিবিদদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগও সৃষ্টি হবে। আরটিভি/এসএস
ইন্টার্নশিপ, গবেষণা ও প্রশিক্ষণে মাভাবিপ্রবির সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়ালটন
রাতজাগা যবিপ্রবির গল্প
দিনের ব্যস্ততা পেরিয়ে রাত নামতেই অন্য এক রূপে সেজে ওঠে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবি) ক্যাম্পাস। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে আলোকিত ক্যাম্পাসের এক প্রান্তে যখন গান, নাচ ও নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে কড়ইতলা, ঠিক তখন অন্য প্রান্তে টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের নিচে জমে ওঠে ক্রিকেট ম্যাচ। একই রাতে সংস্কৃতি ও ক্রীড়ার এমন সমান্তরাল আয়োজন যেন বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের বহুমাত্রিকতারই এক জীবন্ত চিত্র। এই আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল যবিপ্রবির সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘প্রবাহ’। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে উৎসাহিত করতে সংগঠনটির উদ্যোগে কড়ইতলার অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণের মিলনমেলায়। মঞ্চে পরিবেশিত একের পর এক নাচ ও গান এবং দর্শকসারিতে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস মিলিয়ে ক্যাম্পাসের পরিচিত রাতটি এক উৎসবে রূপ নেয়। উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সংগঠিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের (২০২৬) ফেব্রুয়ারিতে কেন্দ্রীয় সংগঠন হিসেবে ‘প্রবাহ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন’-এর অনুমোদন দেয়। রাতের আলোয় কড়ইতলার সাংস্কৃতিক আয়োজনের দৃশ্যটি ছিল দারুণ আকর্ষণের। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ধীরে ধীরে জড়ো হন অনুষ্ঠানস্থলে। কারও চোখ মঞ্চের পরিবেশনায়, আবার কারও হাতে থাকা মুঠোফোনে বন্দি হচ্ছিল প্রিয় মুহূর্তগুলো। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা, হঠাৎ কোনো গানের সঙ্গে সুর মেলানো কিংবা পরিবেশনার তালে তালে হাততালি—সব মিলিয়ে তৈরি হয় বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের স্বতঃস্ফূর্ত এক আবহ। কড়ইতলার চেনা জায়গাটি আলো, সুর ও মানুষের উপস্থিতিতে মুহূর্তের জন্য হয়ে ওঠে এক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক মঞ্চ। তবে আনন্দের এই জোয়ার শুধু কড়ইতলার মঞ্চেই সীমাবদ্ধ ছিল না। কিছুটা দূরে টিএসসির সামনের রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের নরম আলোয় তখন চলছিল জমজমাট ক্রিকেট খেলা। কোনো নির্ধারিত মাঠ নয়, রাতের ফাঁকা রাস্তার ওপরই ব্যাট-বলের লড়াইয়ে মেতে ওঠেন শিক্ষার্থীরা। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে থাকা খেলোয়াড় আর চারপাশে দর্শকদের উল্লাস—সব মিলিয়ে ক্যাম্পাসের অন্য প্রান্তে তৈরি হয়েছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পরিবেশ। একদিকে কড়ইতলায় সুরের আবেশ, অন্যদিকে টিএসসির সামনে ক্রিকেটের উন্মাদনা; দুটি ভিন্ন আবহ একই রাতে মিলেমিশে তৈরি করেছিল অনন্য এক ক্যাম্পাসচিত্র। যবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের কাছে ক্যাম্পাসজীবন কেবল ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণা কিংবা ল্যাবরেটরির ব্যস্ততার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়। সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা, সাহিত্য, বিতর্কসহ নানা সহশিক্ষা কার্যক্রমও তাদের জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনেও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও ব্যান্ড শোতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিল বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। এসব আয়োজন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক চাপের বাইরে নিজেদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ করে দেয়। সাংস্কৃতিক এই পরিসর তৈরিতে ‘প্রবাহ’-এর পথচলা খুব বেশি দীর্ঘ নয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। সূচলগ্ন থেকেই শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে আসছে তারা। কড়ইতলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠান সেই চর্চাকে আরও বিস্তৃত করে শিক্ষার্থীদের প্রতিভা প্রকাশের এক দারুণ ক্ষেত্র তৈরি করেছে। আসলে বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিগুলো প্রায়ই কোনো বড় আয়োজন থেকে নয়, বরং এমন ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই তৈরি হয়। রাতের কড়ইতলায় বন্ধুর সঙ্গে দাঁড়িয়ে গান শোনা, মঞ্চের পরিবেশনায় হাততালি দেওয়া কিংবা কিছুটা দূরে টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের নিচে ক্রিকেটের টানটান উত্তেজনা—সময় পেরিয়ে এসব দৃশ্যই হয়ে ওঠে ফিরে দেখার মতো সোনালী স্মৃতি। ১৬ সেপ্টেম্বরের এই রাত তাই শুধু দিনপঞ্জির একটি সাধারণ তারিখ নয়; এটি যবিপ্রবির তরুণদের সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব, আনন্দ ও প্রাণচাঞ্চল্যের প্রতীক। কড়ইতলার মঞ্চে সংস্কৃতির সুর আর টিএসসির সামনে ল্যাম্পপোস্টের আলোয় ব্যাট-বলের ছন্দ—একই ক্যাম্পাসে পাশাপাশি চলা এই দুটি ভিন্ন গল্প আবারও মনে করিয়ে দেয়, একটি বিশ্ববিদ্যালয় কেবল জ্ঞানচর্চার স্থান নয়; এর আসল প্রাণস্পন্দন লুকিয়ে থাকে শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা, বন্ধুত্ব এবং একসঙ্গে গড়ে তোলা অসংখ্য অজস্র স্মৃতির মাঝে। আরটিভি/এসএস
রাতজাগা যবিপ্রবির গল্প
আরও পড়ুন
ইবিতে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি কমিটি
ইবিতে হল ডিবেটিং সোসাইটির নেতৃত্বে আজমেরী-ফারহানা
৮ দাবি নিয়ে ইবিতে সংবাদ সম্মেলন
গাঁজাসহ ইবির দুই শিক্ষার্থী ধরা, বললেন ‘নিয়মিত সেবন করি না’