
ন্যানোটেকনোলজি ও আধুনিক উপাদান নিয়ে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কেমিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ‘ল্যাবরেটরি অব ন্যানো বায়ো অ্যান্ড অ্যাডভান্সড মেটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ারিং’ (এনএএমই) ল্যাবের ১৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। দেশের প্রথম ন্যানোটেকনোলজি ল্যাব হিসেবে পরিচিত গবেষণাগারটি ইতোমধ্যে বিশ্বমানের গবেষণা পরিবেশ ও গুণগত মান নিশ্চিত করায় আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সনদ ISO 9001:2015 অর্জন করেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনের এনএএমই ল্যাবের সামনে কেক কাটা ও আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইয়ারুল কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শেখ মাহমুদুল হাসান ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ফারুক হাসান।
আলোচনা সভায় উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার পাশাপাশি মানবকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে এনএএমই ল্যাব ধারাবাহিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। মানসম্মত গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে ভবিষ্যতেও ল্যাবটি দেশ-বিদেশে যবিপ্রবির সুনাম আরও বৃদ্ধি করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এ সময় তিনি গবেষকদের গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অধ্যাপক ড. মো. জাভেদ হোসেন খানের তত্ত্বাবধানে ২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পরিবেশ সুরক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য প্রযুক্তি উদ্ভাবনে কাজ করছে এনএএমই ল্যাব। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে ল্যাবটির ১০০টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। পাশাপাশি ১০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের অ্যাবস্ট্রাক্ট এবং প্রায় ৮ হাজার সাইটেশন রয়েছে। দেশীয় ১০টি, বিদেশি দুটি প্রতিষ্ঠান ও তিনটি এনজিওর সঙ্গে যৌথভাবে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে ল্যাবটি।
গবেষণা ও উদ্ভাবনে এনএএমই ল্যাবের রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি ধরনের বিশেষ ন্যানোমেটেরিয়াল এবং ২০টিরও বেশি উন্নত ন্যানো-কম্পোজিট তৈরি করেছেন গবেষকরা। কৃষি খাতে ব্যবহারের জন্য উদ্ভাবিত পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী ‘স্প্রে-যোগ্য ন্যানো-ইউরিয়া সার’ জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া রোগ নির্ণয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্তকরণে ন্যানো-বায়োসেন্সর ও ইলেকট্রোকেমিক্যাল ডিভাইস তৈরিতেও কাজ করছে ল্যাবের গবেষক দল।
বর্তমানে বিশ্বের ২০টিরও বেশি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে বৈজ্ঞানিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে এনএএমই ল্যাব। উদ্ভাবনী গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক প্রযুক্তির পেটেন্ট বা স্বত্বাধিকার পাওয়ার জন্য আবেদনও করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে মানবকল্যাণে প্রয়োগযোগ্য গবেষণা পরিচালনার পাশাপাশি দেশের শিল্প ও কৃষি খাতের আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখাই ল্যাবটির অন্যতম লক্ষ্য। বর্তমানে এনএএমই ল্যাবে ১৭ জন গবেষক ও দুজন পিএইচডি শিক্ষার্থী গবেষণায় যুক্ত রয়েছেন।
আরটিভি/এমএম


