
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) টিউশন ফি বৃদ্ধি, সেশনজট, ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে বিলম্ব, ইন্টারনেট সমস্যাসহ নানা অব্যবস্থাপনায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তিতে আগ্রহ কমছে। গত দুই শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি। এর আগে, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়েছিলেন মাত্র দুজন।
ফরেন সেল সূত্রে জানা গেছে, গত সাত বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডিতে মোট ২৪ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন ১৭ জন। ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি শুরু হওয়ার পর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৮জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হন। তবে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে পিএইচডিতে একজন এবং অনার্সে একজন ভর্তি হয়েছেন, গত দুই বছরে কোন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়নি।
কয়েকজন বিদেশী শিক্ষার্থী জানান, ভর্তি সময় প্রতিশ্রুত সুবিধার অর্ধেকও পাচ্ছেন না। চার বছরের ভিসা নিয়ে এলেও সেশনজটে নির্ধারিত সময়ে পড়াশোনা শেষ না হওয়ায় ভিসা নবায়নে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ভাষাগত সমস্যাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে বিদেশি শিক্ষার্থী কমে যাওয়ার পেছনে ফরেন সেলের কার্যকর অফিস না থাকা এবং প্রয়োজনীয় লোকবলের সংকটকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাদের দাবি, নির্দিষ্ট ও কার্যকর অফিস না থাকায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা ও দাপ্তরিক সহযোগিতা দিতে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এসব অব্যবস্থাপনার কারণে দিন দিন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমছে।
গাম্বিয়া থেকে আসা ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার অন্যতম কারণ আর্থিক ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ। অন্যান্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো যেখানে আবাসিক হলগুলোতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খাবার, মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা ও মাসিক বৃত্তি প্রদান করা হয়, সেখানে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীদের খাবার, দৈনন্দিন জীবনযাপন ও চিকিৎসার খরচ নিজেদের পকেট থেকে বহন করতে হয়। পাশাপাশি, অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ ও সামাজিকভাবে একীভূত হওয়ার সুযোগ-সহায়তার অভাবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সময় নিজেদের স্বাগত ও সহযোগিতাপ্রাপ্ত মনে করা কঠিন হয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বিদেশি শিক্ষার্থীদের এমনভাবে বিবেচনা করে, যেন আমরা এখানে অস্তিত্বই রাখি না। এ সমস্যা সমাধানে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সক্রিয়ভাবে সমাধানের জন্য একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক প্রশাসন বা ফরেন অ্যাফেয়ার্স বিভাগ চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা, আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তঃসাংস্কৃতিক (ক্রস-কালচারাল) অনুষ্ঠান আয়োজন এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশনের ব্যবস্থা করা উচিত।
এদিকে ফরেন সেলের কর্মকর্তা এস. এম. শাহদৎ হোসেন বলেন, স্ট্রাকচার অনুযায়ী ফরেন সেলের অফিস থাকলেও কার্যকর উপস্থিতি নেই। নির্দিষ্ট লোকবল না থাকায় বিদেশি শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনের সময় দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। ফলে লোকবল, দাপ্তরিক ও অবকাঠামোগত সংকট রয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম বড় সমস্যা আবাসন। আবাসন সংকটের কারণে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। পাশাপাশি দেশীয় শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের টিউশন ও হল ফিও বেশি। বিশেষ করে বিদেশি শিক্ষার্থীদের হল ফি প্রায় ছয় গুণ বেশি। এর সঙ্গে হলের মান, আলাদা ডাইনিং ও টিউটরের ব্যবস্থা না থাকায় তাদের নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সদিচ্ছা ও কার্যকর উদ্যোগ থাকলে ফরেন সেলকে আরও সক্রিয় ও কার্যকর করা সম্ভব। নির্দিষ্ট লোকবল নিয়োগ, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ও কার্যকর সুযোগ-সুবিধা চালু করা গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা এবং তাদের শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা সম্ভব হবে।
এবিষয়ে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স ডিভিশনের পরিচালক অধ্যাপক ড. নাছির উদ্দিন মিঝি বলেন, আমি এখন আর ফরেন সেল এর পরিচালক নাই দায়িত্ব চেন্জ হয়েছে খুব তাড়াতাড়ি প্রশাসন কর্তৃক চিঠি দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান একাধিকবার কল করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি ।
আরটিভি/এমএম


