
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরের নোটিশে ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকার কথা জানানো হলেও নির্ধারিত সময়ের পরিবর্তে ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাটের শিকার হলগুলো হলো—খালেদা জিয়া হল, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল এবং শাহ আজিজুর রহমান হল।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় পানি সংকট, মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়ার সমস্যা ও অতিরিক্ত গরমে ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর জারি করা নোটিশে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে স্থাপিত ৪ নম্বর সাবস্টেশনে (জুলাই-৩৬ হলের সামনে) বৈদ্যুতিক এইচটি ক্যাবলে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। ত্রুটি নিরসনের জন্য ১৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। ওই সময়ে জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ১৭ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন না হলেও পরদিন ১৮ সেপ্টেম্বর সকাল থেকে বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। বিশেষ করে মেয়েদের হল (উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হল ও খালেদা জিয়া হল) এবং শাহ আজিজুর রহমান হলে এ সমস্যা বেশি দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক হলগুলোতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত গরম, মোবাইল ও ল্যাপটপ চার্জ দিতে না পারা এবং পড়াশোনায় বিঘ্নসহ নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে তাদের। সামনে সেমিস্টার ফাইনাল থাকায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শাহ আজিজুর রহমান হলের শিক্ষার্থী তানজিল হোসাইন বলেন, নোটিশে বলা হয়েছিল ১৭ তারিখে বিদ্যুৎ থাকবে না। সেই ঘোষণা বাস্তবায়ন করা হয়েছে ১৮ তারিখে। শুক্রবার জুমার নামাজে যাওয়ার আগে অনেকেই গোসল করতে পারেনি, কারণ পানি ছিল না। অনেকের ফোনের চার্জ শেষ হয়ে বন্ধ হয়ে ছিল।
তিনি আরও বলেন, গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না বলা হয়েছিল। কিন্তু বিকেল ৫টার পরও বিদ্যুৎ আসেনি। প্রায় সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অপেক্ষার পর জেনারেটর দেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর সেটিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, আজ আর বিদ্যুৎ আসবে না, কিছু লাইনে জেনারেটর চলবে।
তানজিল বলেন, জেনারেটর সব লাইনে চলে না, এমনকি সব কক্ষেও এর সংযোগ নেই। তার ওপর ভোল্টেজের যে অবস্থা, তাতে ফ্যান চালানো আর না চালানো একই কথা। গরমে শিক্ষার্থীদের অবস্থা শোচনীয়। সামনে অনেকের সেমিস্টার ফাইনাল। এমন পরিস্থিতিতে তারা কীভাবে প্রস্তুতি নেবে, সেটিই প্রশ্ন।
খালেদা জিয়া হলের লোক-প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তিশা বলেন, নোটিশে বলা হয়েছিল ১৭ তারিখে বিদ্যুৎ থাকবে না। সবাই সে অনুযায়ী প্রস্তুত ছিল। কিন্তু ১৭ তারিখ বিদ্যুৎ না গিয়ে ১৮ তারিখ সকালে বিদ্যুৎ চলে যায়। ২৪ ঘণ্টার বেশি সময় পার হলেও বিদ্যুৎ আসেনি।
তিনি বলেন, মেয়েদের হলে খাওয়ার পানি নেই, এমনকি ওয়াশরুম ব্যবহারের জন্যও পর্যাপ্ত পানি নেই। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা কীভাবে আছে, প্রশাসন কি একবারও ভেবে দেখেছে? যাদের সেমিস্টার ফাইনাল চলছে, তারা কীভাবে পড়াশোনা করবে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক মিয়া বলেন, ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর সাবস্টেশন (জুলাই-৩৬ হল সংলগ্ন) সংস্কারের জন্য পূর্বে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেদিন (বৃহস্পতিবার) বৃষ্টির কারণে কাজ করতে পারিনি। তবে কাজ করতে গিয়ে লাইনে (ফল্ট) সমস্যা হয়েছে। গতকাল ঠিক করতে না পারায় আমরা জেনারেটরের লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতের সংযোগ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু হলে বা বিভিন্ন জায়গায় লাইনে ফল্ট করছে। পল্লী বিদ্যুতের লোকজনকে ডেকে দেখিয়েছি। তারের কেবল নষ্ট হওয়ায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে তার আসবে। আজকের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। আপাতত আমরাও সঙ্গে যাচ্ছি।
আরটিভি/টিআর




