
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের ২৩তম ইন্টার্নশিপের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (ডিভিএম-৬০) ১৭৯ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে বিশ্বের চারটি দেশে ৩৫ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষে ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান।
জানা যায়, এ বছর ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের ১৭৯ জন শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। পাশাপাশি ৩৫ জন শিক্ষার্থী বিদেশেও ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন। এর মধ্যে মালয়েশিয়ায় ১৬ জন, থাইল্যান্ডে ১২ জন, জাপানে চারজন এবং নেপালে তিনজন শিক্ষার্থী ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণ করছেন বলে জানা যায়।
অনুষ্ঠানে বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সব অনুষদে ইন্টার্নশিপ কার্যক্রম চালু হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের বিষয়। ইউজিসি থেকে অর্থায়ন পাওয়া সহজ নয়, তবে আমরা সৌভাগ্যবান যে এ কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করতে পারছি। ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) একটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও চ্যালেঞ্জিং ডিগ্রি এবং ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম গৌরবময় অনুষদ।
তিনি আরও বলেন, ইন্টার্নশিপে অংশগ্রহণকারী নারী শিক্ষার্থীদের আবাসনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আমরা উদ্যোগ নেব। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশে ইন্টার্নশিপে গিয়ে সাফল্য অর্জন করছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য গর্বের। শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান, তারা যেখানে ইন্টার্নশিপ করবে, সেখানে নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ শিখে আসবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখবে। কোনো ধরনের অনিয়মে জড়ানো থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, আমরা জানি, উন্নত দেশগুলোতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভেটেরিনারি সায়েন্সে পড়াশোনা করে। আমি ইন্টার্নশিপে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য গর্ববোধ করি। তবে ঢাকার বাইরে অবস্থানের কারণে আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক সময় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় পিছিয়ে পড়ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে শিক্ষা, শিল্প ও অ্যাকাডেমিয়ার মধ্যে সমন্বয় বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার আগামী পাঁচ বছরে প্রতিবছর এক লাখ করে মোট পাঁচ লাখ শিক্ষার্থীকে ইন্টার্নশিপের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। এতে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও যোগাযোগ দক্ষতা বাড়াতে হবে। আমরা একটি জেন্ডার-ব্যালান্সড ক্যাম্পাস চাই। জীবনে সফলতার জন্য পরিশ্রম ও সঠিক পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই। তাই প্রত্যেককে নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন ও ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, শিক্ষকরা যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তোমাদের সেগুলো মেনে চলতে হবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা বলতে চাই, বাকৃবির সব শিক্ষক তোমাদের সঙ্গে আছেন। জনগণের অর্থে অর্জিত জ্ঞান এখন কাজে লাগানোর সময়। কীভাবে কৃষক ও খামারিদের সেবা দেওয়া যায় এবং নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য হিসেবে গড়ে তোলা যায়, সেদিকে তোমাদের সচেতন থাকতে হবে। সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে, তবে বিদ্যমান সুযোগগুলোকে সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, তোমরা ইন্টার্নশিপের এই সময়টুকু যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করবে।
আরটিভি/টিআর




