
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধের পর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে কয়েক দফায় ভাঙচুর করেছেন ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
শিক্ষার্থীরা রেলস্টেশন ভবন, রেলওয়ে থানা, পার্সেল অফিস ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়সহ বিভিন্ন প্লাটফর্মে ভাঙচুর করেন। তারা রেলস্টেশনে গাছের ডাল, বাঁশ, লাঠি নিয়ে এবং ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে দফায় দফায় স্টেশনের কাচের জানালা, ময়লার ডাস্টবিন, সেখানকার দোকানপাট, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কক্ষ, কার্যালয়, সাইনবোর্ড ও সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং রেলস্টেশন ত্যাগ করার আহ্বান জানান। তবে শিক্ষার্থীরা স্থান ত্যাগ করেননি। এরপর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে গেলে শিক্ষার্থীরা ভুয়া ভুয়া স্লোগান দিতে থাকেন।
এর আগে রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেলস্টেশনে মারধরের শিকার হন আইয়ুব আলী নামের এক শিক্ষার্থী। এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, রাত ১১টা ২০ মিনিটের মধ্যে হামলায় জড়িত কর্মচারীদের আটক করা না হলে ট্রেন থামিয়ে কর্মকর্তাদের নেমে আসতে বাধ্য করা হবে। এরপর রাত এগারোটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেলওয়ে স্টেশনে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তখন রাজশাহী রেলস্টেশনের দিকে আসা ধুমকেতু এক্সপ্রেস বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের আগে হরিয়ান সংলগ্ন এলাকায় থেমে থাকে। শিক্ষার্থীরা তখন রেললাইন বরাবর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে এগোতে থাকেন। তারা স্টেশনে ঢুকেই ভাঙচুর শুরু করেন।
মারধরের শিকার আইয়ুব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
জানা গেছে, আইয়ুব আলী তার চাচাকে আনতে রাজশাহী রেল স্টেশনে গিয়েছিলেন। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। আইয়ুব আলী প্রতিবাদ করায় তাকে মারধর করা হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায় জড়িত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এই বরখাস্তের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরএনবি সদস্যরা হলেন— মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন।
আরটিভি/এমএইচজে




