
সদ্য সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শাটডাউন কর্মসূচি চলছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস, পরীক্ষা, গবেষণাগার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি বিভাগে বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা থাকলেও তা স্থগিত করা হয়েছে।
সকাল ৮টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ফটকের পাশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে জড়ো হন। সেখানে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মানববন্ধন করেন তারা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
কর্মসূচিতে থাকা পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এজাজ মাহমুদ গণমাধ্যমকে বলেন, অনেক শিক্ষার্থীর পরীক্ষা চলছিল। এভাবে কর্মসূচি চলতে থাকলে সেশনজটের আশঙ্কা রয়েছে। তবে অধ্যাপক সায়েম উপাচার্য হিসেবে ফিরে এলে তিনি সেশনজট কমিয়ে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নিতে পারবেন বলে তারা বিশ্বাস করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মঈনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকেরাও অংশ নিচ্ছেন। এ কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আজ ছয়টি বিভাগে বিভিন্ন বর্ষ ও সেমিস্টারের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল।
পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন
বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, কোনো দৃশ্যমান কারণ ছাড়াই মাত্র ৫৬ দিনের মধ্যে অধ্যাপক সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে আবার উপাচার্য পদে পুনর্বহাল করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের দাবি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়। একজন উপাচার্যকে কেন এত অল্প সময়ের মধ্যে পরিবর্তন করা হলো, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা চান তারা।
যেভাবে শুরু হয় আন্দোলন
গত সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এর প্রতিবাদে ওই রাতেই শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরদিন মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন ও গণঅবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা।
বুধবারও (২৩ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের মতো শাটডাউন কর্মসূচি চলে। শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাটডাউন, গণঅবস্থানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
আরটিভি/জেএমএ




