
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক সজীব প্রামাণিকের বিরুদ্ধে তার স্ত্রীকে মারধর, হুমকি ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সজীবের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সজীব।
অভিযুক্ত সজীব প্রামাণিক বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (১৪তম ব্যাচ) শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে পারিবারিকভাবে সজীবের সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সজীবের সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। বিয়ের পরও সজীব অন্য এক নারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে অভিযোগ তার। বিষয়টি জানতে পেরে ওই নারী তার স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এ নিয়ে সজীবের সঙ্গে কথা বললে তিনি উল্টো তাকেই দোষারোপ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রত্ব শেষ করে দেওয়া, চাকরি খেয়ে দেওয়া এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী বলেন, গতকাল (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১টার দিকে সজীব ও তার বাবা-মা মিলে আমাকে মারধর করেন। এ সময় সজীব আমাকে কিল-ঘুষি মারেন এবং বুকে-পেটে লাথি দেন। সকালে আমার বাবা-মা আমাকে নিতে এলে বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সজীবের মা বটি নিয়ে আমাকে কোপ দিতে আসেন। আমি হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে আমার হাতে কোপ লাগে। এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করব।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সজীবের পরিবারের আর্থিক সংকটের কথা বলে সোনালী ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা ঋণ করে দেওয়ার জন্যও তাকে চাপ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, এর আগেও প্রায় দুই মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগেটে সজীব তাকে মারধর করেন। এ সময় দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা সজীবকে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যান বলে জানান তিনি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সজীব প্রামাণিক। তিনি বলেন, আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা। ওর হাতে কেউ কোপ দেয়নি। আমার এলাকার প্রতিবেশীরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ও বের হওয়ার সময় গেটের সঙ্গে ওর হাত লেগে কেটে যায়।
হুমকি দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করে সজীব বলেন, আমি তাকে কোনো হুমকি দিইনি। গত রাতে (২৯ সেপ্টেম্বর) আমাদের দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং হাতাহাতিও হয়েছে। সেও আমার গায়ে হাত তুলেছে। পরে আমার বাবা-মা এসে আমাদের দুজনকে থামান। আমার মা-বাবা তার গায়ে হাত দেননি।
ঋণ করে টাকা দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি লোন করে কোনো টাকা দিতে বলিনি। সে নিজে থেকেই আমাকে দিতে চেয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি শেখ মোজাহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি মাত্র আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। আমাদের কমিটি গঠনের সময় কেউ বিবাহিত ছিল না। আমাদের কাছে অভিযোগ এলে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরটিভি/জেএমএ




