
নিজের বিরুদ্ধে ওঠা পদবাণিজ্য ও চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রমাণ দিতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ দিয়ে কেউ তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও পদবাণিজ্যের অভিযোগ প্রমাণ করতে পারলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পৃথক দুই স্ট্যাটাসে এ চ্যালেঞ্জের কথা জানান সালাহউদ্দিন আম্মার।
প্রথম স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, গোটা বাংলাদেশের শিবির (সাথে পাকিস্তান শিবিরকেও নিয়েন)-এর প্রতি চ্যালেঞ্জ-০১। আমি টাকার বিনিময়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পদ দিয়েছি, প্রমাণ দেন। যেহেতু মিথ্যা অপপ্রচার করেন আপনারা, আপনাদের প্যাডে মানুষকে নিয়ে—এটা মুনাফেকির চরম পর্যায়।
তিনি আরও লেখেন, সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। ০১টা পদবাণিজ্যের প্রমাণ দেখান। ২৪ ঘণ্টা সময়।
দীর্ঘদিন ধরে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে উল্লেখ করে দ্বিতীয় পোস্টে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, বিভিন্ন মাধ্যমে এই অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ অবস্থায় দেশের গোয়েন্দা সংস্থা, শিবির, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তার আহ্বান, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির কোনো অভিযোগ থাকলে ভুক্তভোগীকে সামনে এনে সুস্পষ্ট ও প্রমাণযোগ্য তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ করা হোক।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও লেখেন, আমি স্পষ্টভাবে চ্যালেঞ্জ করছি—প্রমাণ করুন যে আমি কারও কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছি। যদি কেউ নির্ভরযোগ্য প্রমাণসহ প্রমাণ করতে পারেন যে আমি কারও কাছ থেকে চাঁদা নিয়েছি, তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছি। অভিযোগ নয়, প্রমাণ দিন। অভিযোগ তো মুখে আসলে বলে দিতেই পারবো। চ্যালেঞ্জ রইল।
এর আগে শিবিরের বিভিন্ন সময়ের তিনটি চিঠিতে আম্মারের সাথী পদ স্থগিত ও পরে বাতিলের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। এসব চিঠিতে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নৈতিক পদস্খলন, নারীদের সঙ্গে অবাধ বিচরণ, অবৈধ অর্থনৈতিক লেনদেনসহ বিভিন্ন অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়। শিবিরের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের রাকসু নির্বাচনে আধিপত্যবিরোধী ঐক্য প্যানেল থেকে জিএস নির্বাচিত হন সালাহউদ্দিন আম্মার।
আরটিভি/টিআর




