
উচ্চ ফলনশীল, মরণঘাতী ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধী এবং চরাঞ্চল উপযোগী ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে চলেছেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) একদল গবেষক। দিনাজপুরে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিজেআরআই) গবেষণা মাঠে পরিচালিত এই গবেষণার ট্রায়াল সফলভাবে সম্পন্ন হলে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষি অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
হাবিপ্রবির প্ল্যান্ট প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ, এগ্রোনমি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মমিনুর রহমান এবং জেনেটিক্স অ্যান্ড প্ল্যান্ট ব্রিডিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুজ্জামান – এই তিন শিক্ষকের যৌথ তত্ত্বাবধানে গবেষণাটি পরিচালিত হচ্ছে। এগ্রোনমি বিভাগের মাস্টার্স ডিগ্রীতে অধ্যয়নরত তিনজন শিক্ষার্থী– মোছা. আজিজা খাতুন, মো. শামসুল আলম মানিক ও মো. মাসুম রেজা– তিনটি আলাদা প্রজেক্টে কাজ করছেন।
প্রথম প্রজেক্টে মোছা. আজিজা খাতুন বিলুপ্তপ্রায় ৬টি দেশীয় ধান নিয়ে গবেষণা করছেন। এগুলো ক্ষতিকর ব্লাস্ট রোগের বিরুদ্ধে ১০০ শতাংশ প্রতিরোধ ক্ষমতা দেখিয়েছে। দ্বিতীয় প্রজেক্টে মো. শামসুল আলম মানিক চরাঞ্চলের প্রতিকূল পরিবেশে কম সেচ ও সীমিত নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করে আমন ধানের উচ্চ ফলনের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছেন। তৃতীয় প্রজেক্টে মো. মাসুম রেজা সনাতন প্রজনন পদ্ধতিতে ষষ্ঠ প্রজন্মের উন্নত লাইন এবং উচ্চ পুষ্টিগুণসম্পন্ন ‘ফাইন ব্ল্যাক রাইস’ (চিকন কালো ধান) উদ্ভাবনের ট্রায়াল চালিয়ে যাচ্ছেন।
সম্প্রতি পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষণা মাঠে চলমান প্রজেক্টগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন হাবিপ্রবির ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. মাসুদুল হাসান খান, দিনাজপুর জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার কৃষিবিদ মো. জাফর ইকবাল এবং দিনাজপুর আঞ্চলিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সৈয়দ জাহিদ হাসান। এ সময় গবেষক দল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে কৃষিবিদ মো. জাফর ইকবাল বলেন, এখানে জেনেটিক রিসোর্স সমৃদ্ধকরণ ও প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধির লক্ষ্যে যে ট্রায়ালগুলো স্থাপন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। কোনো উদ্ভাবনকে জাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হলে বিদ্যমান জাতগুলোর চেয়ে এগ্রোনমিক বৈশিষ্ট্য ও ফলনে অন্তত ১০ শতাংশ বেশি অর্জন দেখাতে হয়। ফসল কাটার পর কাঙ্ক্ষিত প্যারামিটারগুলো পূরণ হলে জাতীয় বীজ বোর্ডে (এনএসবি) আবেদন করা যাবে। পরবর্তীতে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির অধীনে দেশে বহু-আঞ্চলিক ট্রায়াল সফল হলে এটি কৃষকদের জন্য নতুন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হবে।
ড. সৈয়দ জাহিদ হাসান এই গবেষণার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের এমন যৌথ উদ্যোগ কৃষক পর্যায়ে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রশীদ বলেন, দিনাজপুর ব্লাস্ট রোগের হটস্পট হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রোগপ্রতিরোধী ও চর এলাকার উপযোগী নতুন জাত উদ্ভাবনই আমাদের মূল লক্ষ্য।
আরটিভি/জেএমএ


